ঢাকা, বুধবার 24 July 2019, ৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ২০ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বন্যা কবলিত কিছু এলাকায় পানি কমলেও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

জামালপুরে বন্যা দূর্গতদের মাঝে ত্রাণের জন্য চলছে হাহাকার

* পদ্মার পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে
স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর কোথাও কোথাও পানি কমতে শুরু করেছে। আবার কোথাও কোথাও বাড়ছে। তবে বেশিরভাগ অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো চালু হয়নি। মানুষের ও গো-খাদ্যের কষ্টে আছে মানুষ। একইসঙ্গে বাড়ছে বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাপের উপদ্রব। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুসারে, বন্যা কবলিত এলাকায় গত ১০ জুলাই থেকে সাপের কামড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আটজন। এই সময়ে সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৩ জন। এদিকে পদ্মা নদীতে পানি বাড়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।  জানা গেছে, কুড়িগ্রামে চারটি নদী সেতু পয়েন্টে ধরলার নদীর পানি বাড়ছে । ব্রহ্মপুত্র পানি এখনো বিপদসীমার উপরে রয়েছে। শরীয়তপুরে পদ্মা নদীর পানি বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার নড়িয়ার সুরেশ্বর পয়েন্টে বিপদ সীমার ৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ৪৪৮ সেন্টিমিটার পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। শরীয়তপুরের নড়িয়া, জাজিরা, ভেদরগঞ্জ, গোসাইরহাট ও সদর উপজেলার অন্তত ৬০টি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চার উপজেলার ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে ১০টি বিদ্যালয়ে পাঠদানের কাজ বন্ধ রয়েছে। এলাকায় পানিবন্দী মানুষের খাবার পানির এবং গবাদিপশুর খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। পানির তোড়ে জাজিরা-নড়িয়া সড়কের চারটি স্থান ভেঙে গেছে। ওই সড়কে মানুষ চলাচল করতে পারছে না। এ ছাড়া ঢাকা-শরীয়তপুর-মঙ্গলমাঝির ঘাট সড়কের ডুবিসায়বর এলাকায় একটি নির্মাণাধীন সেতুর বিকল্প সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় চার দিন ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। আর সব কটি নদীর পানি বিপদসীমার নিচে অবস্থান করেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্র নদীর চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ওপরে ২৮ সেমি ও ধরলা নদীর পানি গত ২৪ ঘন্টায় ৩ সেমি বেড়ে বিপদসীমার ১৮ সেমি ওপরে রয়েছে। অবিরাম বৃষ্টি উজানের পাহাড়ি ঢলে ধরলা নদীর পানি আবারো বাড়ছে।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। ৫৭টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে ৮ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
বন্যায় এক হাজার ২৪৫ কিলোমিটার রাস্তা, ৪০ কিমি বাঁধ ও ৪১টি ব্রিজ/কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নয় হাজার ৭৩৪টি। দুই লক্ষাধিক গবাদিপশু পানিবন্দি। ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ হাজার হেক্টর জমি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ১ লক্ষ ও স্যালাইন ১ লক্ষ ও সাপে কাটা ৭০ ভায়াল ভেকসিন মজুত রয়েছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে ৮৫টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রায় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সেগুলো বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। গত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ বন্যায় এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্ধ রয়েছে পাঠদান ৫২ টি প্রাথমিক, ১৪ টি মাধ্যমিক, ৬ টি দাখিল মাদরাসা, ১৫ টি কিন্ডারগার্টেন, ১৫ টি ইবতেদায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষনা করেছে কর্তৃপক্ষ। বন্যায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হওয়ায় ৮টি প্রাথমিক ও ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে খোলা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র।
খানুরবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করায় বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কবে নাগাদ বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করতে পারব তা বলা মুশকিল।
গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার মোহাম্মদ আলী বলেন, হঠাৎ করেই বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় অফিস ও নীচতলার প্রতিটি শ্রেণি কক্ষে হাঁটুপানি থাকায় ক্লাস কার্যক্রম অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিঘিœত হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন বলেন, বন্যার কারণে ভূঞপুরের ৫২ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। ১০ টি বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীনুর ইসলাম বলেন, বন্যার পানি প্রবেশ করায় উপজেলার ১৪ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬ টি দাখিল মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঝোটন চন্দ জানান, বন্যার কারণে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করায় সেগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
এদিকে নেত্রকোনার পরিস্থিতিও বেশ খারাপ। নয়ানগর গ্রামের মো. জুবেদ আলি বলেন, কলমাকান্দা-বরুয়াকোনা সড়কের সাড়ে সাত কিলোমিটার অংশে অসংখ্য ছোটবড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তিনদিন আগে পানি নেমে গেলেও গর্তগুলো ভরাট না করায় চলাফেরা করতে কষ্ট হচ্ছে।
নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাকিরুল ইসলাম বলেন, ঈদের আগে এসব সড়ক যান চলাচলের উপযোগী করা হবে। কলমাকান্দা এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন বলেন, উপজেলায় ১৩টি সড়কে বন্যার পানি উঠেছিলো। জরুরি বরাদ্দ না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করা যাচ্ছে না। আশা করছি কোরবানি ঈদের আগেই ক্ষতিগ্রস্ত ৩৮ কিলোমিটার সড়ক চলাচলের উপযোগী হবে।
এছাড়া জামালপুরে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চরম দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে লাখো মানুষ। জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ লাখ মানুষের জন্য যে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে তাতে জনপ্রতি সাড়ে ৩ কেজি চাল ও নগদ পেয়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা। ভয়াবহ এই বন্যায় সরকারের ত্রান সহায়তা খুবই অপ্রতুল বলে দাবি করেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। বন্যায় ৭ হাজার ঘর-বাড়ি সম্পূর্ণ এবং সাড়ে ৪৫ হাজার ঘর-বাড়ি আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ২৪ হাজার হেক্টর জমির আউশ ধান, পাট, রোপা-আমনের বীজতলা ও সবজি। বন্ধ রয়েছে প্রায় এক হাজার ২০০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম বলেন, দেশের কোথায়ও ত্রাণের জন্য মানুষের দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। আওয়ামী লীগ ও সরকার বন্যার্তদের পাশে আছে। সরকার বন্যা কবলিত সকল জেলায় প্রতিদিন ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছে। বন্যার্তদের জন্য নগদ টাকা, চাল, ও টিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী বরাদ্দ করা হয়েছে।
গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী ঃ ব্রহ্মপুত্র নদ ও ঘাঘট নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। এরই মধ্যে গত সোমবার দুপুরে জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়ায় বন্যার পানিতে ডুবে লাজুক মিয়া (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বন্যাদুর্গত গাইবান্ধার সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং জ্বালানি সংকট রয়েছে। পানিবন্দি মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। পাশাপাশি ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়া পরিবারগুলোকে রাত জেগে ডাকাত পাহারা দিতে হয়।
জুমারবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রো¯তম আলী  বলেন, বন্যার পানিতে ১৫টি গ্রাম তলিয়ে গেছে। প্রচুর ফসল ও শাক-সবজি নষ্ট হয়ে গেছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং জ্বালানি সংকট রয়েছে।
সাঘাটার বোনারপাড়া ইউনিয়নের তেলিয়ান মুন্সিপাড়ার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এবারের বন্যায় আমার সবজি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে আমনের বীজতলা। যে ক্ষতি হয়েছে তা আগামী দুই বছরেও পূরণ হবে না।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক এসএম ফেরদৌস বলেন, জেলায় ১২ হাজার ৮০৩ হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে আছে। রোপা আউশ ৯৭৭ হেক্টর, পাট ২ হাজার ৪৩৯ হেক্টর, রোপা আমন বীজতলা ৪৬১ হেক্টর, বিভিন্ন ধরনের সবজি ২৪৭ হেক্টর, পান ৩ হেক্টর এবং তিল ২৫ হেক্টরসহ ৪ হাজার ১৫২ হেক্টর অন্যান্য ফসলসহ মোট ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে আছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হোসেন আলী বলেন, স্কুলগুলোতে পানি উঠায় এবং পাঠদানের পরিবেশ না থাকায় ২৩৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৬৬টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে সদর উপজেলার একটি এবং ফুলছড়ি উপজেলার তিনটিসহ চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
গাইবান্ধার সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ১০৯টি মেডিকেল টিম কাজ করছে। এর মধ্যে বন্যাকবলিত সব উপজেলায কাজ করছে ৬১টি টিম।
জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা হিসেবে সাড়ে ৯০০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ লাখ টাকা এবং ৫ হাজার ৬০০ শুকনা খাবারের প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। ১৮০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৭৪ হাজার ১০৪ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
এছাড়া বন্যায় ৫৭৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এবং ২৩৫ কিলোমিটার পাকা রাস্তা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬৩ কিলোমিটার বাঁধ, ২১টি কালভার্ট এবং ১০ হাজার ৮৩৩ হেক্টর আবাদি জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, গাইবান্ধায় গত ১২ ঘণ্টায় ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ১৪ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৫৪ সেন্টিমিটার, শহরের ব্রিজরোড পয়েন্টে ঘাঘট নদীর পানি ১১ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জামালপুর সংবাদদাতাঃ  জামালপুরে বন্যার পানি কমতে শুরু করায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৩৯ সে: মি: কমে যমুনার পানি বিপদসীমার ৬১ সে: মি: উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত  ১১ দিন ব্যাপি পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌছেছে। ২২ জুলাই পানিতে ডুবে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিমলা গ্রামের আব্দুস সাত্রারের মেয়ে শারমিন আক্তার (১২) ও শাপধরী ইউনিয়নের আকন্দ পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোফাজ্জল আকন্দের শিশু কন্যা ময়ছন বেগম (৩) পানিতে ডুবে মারা গেছে।
জেলার স্বরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ৬২টি ইউনিয়ন ও ৭টি পৌরসভার প্রায় ৯ লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।  বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের মাঝে এখন ত্রানের জন্য হাহ্কাার চলছে। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও গোখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বানভাসী মানুষ নৌকা দেখলেই হাত বাড়িয়ে ডাকতে থাকে, আমরা পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, আমাদের ত্রান সহায়তা করুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ