ঢাকা,মঙ্গলবার 30 July 2019, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাংলাদেশের বোলারদের ধারাবাহিকতার উন্নতিই আমার লক্ষ্য : ল্যাঙ্গেভেল্ডট  

স্পোর্টস রিপোর্টার : বাংলাদেশের ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার কোর্টনি ওয়ালসের অধ্যায় শেষ।  তার জায়গায় বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের বোলিং কোচ দায়িত্ব পাচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ডট। দায়িত্ব নেয়ার আগেই বাংলাদেশ দলের পেস আক্রমন নিয়ে নিজের পরিকল্পনার ছক কষে ফেলেছেন তিনি। ক্রিকেটের জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে ল্যাঙ্গেভেল্ডট বলেন, ‘আমার প্রথম লক্ষ্য হলো, বাংলাদেশ বোলারদের ধারাাবহিকতার উন্নতি করা।’ ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির পেছনে প্রধান ভূমিকা ছিলো নতুন বলে  পেস বোলারদের দুর্দান্ত সূচনা। বল হাতে শুরুতেই সাফল্য এনে দেয়া ছিলো অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা-মুুস্তাফিজুর রহমান-রুবেল হোসেনের প্রধান লক্ষ্য। তারা সাফল্য  পেয়েছেনও। তাই ২০১৫ বিশ্বকাপ থেকে দ্বাদশ বিশ্বকাপের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ পেয়েছিলো ওয়ানডে ম্যাচ জয়ের সাফল্য। কিন্তু ২০১৯ সাল শুরুর পর থেকেই বাংলাদেশের পেস অ্যাটাকের সবকিছু কেমন যেন ওলট-পালট হয়ে যায়। প্রথম পাওয়ার প্লে’তে মাত্র ৭ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের পেস অ্যাটাকরা। স্ট্রাইক রেট ১১৩ দশমিক ১৪ ও বোলিং গড়- ১০৩। দেশের মাটিতেও পেসারদের চাইতে স্পিনারদের উপর নির্ভর করে বাংলাদেশ। তবে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপে সেখানকার কন্ডিশনে উজ্জল ছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান ও  মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।  মোস্তাফিজ ২০ ও সাইফউদ্দিন ১১টি উইকেট নেন। তবে ল্যাঙ্গেভেল্ডটের লক্ষ্য ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা ও ফিটনেস ঠিক  রাখা। ল্যাঙ্গেভেল্ডট বলেন,‘সব ফরম্যাটেই নতুন বলে ধারাবাহিকতা প্রয়োজন। লেন্থ বজায় রেখে টানা বল করে যাওয়া এবং ওভারের চার-পাঁচটি বল যেখানে দরকার হবে সেখানেই করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেশের মাটিতে তারা এক বা দু’জন পেসার নিয়ে খেলে থাকে। কিন্তু যখন দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়াতে যায় হয় তখন কিন্তু সেখানে তিনজনপেসার দরকার পড়ে। এজন্য আমাকে তিনজন ফিট বোলার বের করতে হবে যারা এ্খানে  ধারাবাহিকভাবে বল করতে পারবে এবং লেন্থ নিয়ে অনেক বেশি আগ্রাসী মনোভাব দেখাবে।’ ভালো পারফরমেন্স করতে হলে ধারাবাহিকতা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই বলে জানান ল্যাঙ্গেভেল্ডট। তিনি বলেন, ‘তুমি যদি ভালো করতে  চাও, তবে নতুন বলে ধারাবাহিক হতে হবে। লেন্থেও ধারাবাহিক হতে হবে। মোস্তাফিজুরের গতির পরিবর্তন ভালোভাবে করতে পারে। কিন্তু নতুন বলের ক্ষেত্রে সেটা বেশ কঠিন। অনেক সময় উইকেটে বল ঠিক মতো গ্রিপ করা যায় না। আমার কাজই হলো সিম পজিশন ভালো করা ও বল সোজা রাখা। সে ভালো অফ-কাটার করতে পারে, কিন্তু আমার আসল লক্ষ্য হলো, ডান-হাতি বোলারদের বেশি বেশি সুইং করানো।’ ২০১৭ সালে বাংলাদেশ দলের সফরে দক্ষিণ আফ্রিকারও বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ল্যাঙ্গেভেল্ডট। ঐ সফরে টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল প্রোটিয়ারা। সিরিজে  দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা ৯ উইকেট শিকার করেছিলো। তবে বাংলাদেশের দায়িত্ব তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করেন ল্যাঙ্গেভেল্ডট। তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য ভালো একটি চ্যালেঞ্জ। কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের কোচিং করিয়েছি আমি। তাদের বিদেশি কন্ডিশনে সংগ্রাম করতে দেখেছি। এমনকি তারা লাইন-লেন্থ ধারাবাহিক রাখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছে। আমাকে এখন দেখতে হবে এটা কৌশলগত সমস্যা কিনা। এটিই আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং।’ এক্ষেত্রে ভারতের উদাহরন টেনে আনেন ল্যাঙ্গেভেল্ডট। তিনি বলেন, ‘যখন তুমি দেশের বাইরে খেলবে তখন তোমার ভালো পেসার লাগবে। ভারতের ভালো পেসার ছিল না। এখন ভারতের উন্নতমানের পেসার রয়েছে। কারন তারা বিশ্বের সব জায়গায় খেলে থাকে। তাদের খুবই ভালো স্পিনার রয়েছে। তবে এখন তাদের ভালো পেসারও রয়েছে। আমি বাংলাদেশের জন্যও এমন ভালো পেসার তৈরি করতে চাই, যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করতে সক্ষম হবে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ