ঢাকা,মঙ্গলবার 30 July 2019, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ইরানের পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় ঐকমত্য পাঁচ বিশ্বশক্তির

২৯ জুলাই, ডয়চে ভেলে, পার্সটুডে : ইরানের পরমাণু সমঝোতা রক্ষায় প্রচেষ্টা জোরদারে একমত হয়েছে পাঁচ বিশ্বশক্তি। রবিবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে একমত হয় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের বাকি সবকটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র ও জার্মানি।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)-এর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপ-প্রধান হেলগা শ্মিড। বৈঠক শেষে তিনি সমাপনী ঘোষণা পড়ে শোনান। এতে বলা হয়, পরমাণু কর্মসূচি পরিচালনায় ইরানের প্রতিশ্রুতি এবং দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের যে প্রতিশ্রুতি পাশ্চাত্যের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছিল তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

ঘোষণায় আরও বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষিতে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় পরমাণু সমঝোতা রক্ষাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হচ্ছে।

ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইরানও অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী অন্য দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়া। বৈঠকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে পাশ কাটিয়ে তেহরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা-ইনসটেক্স নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এ সম্পর্কে হেলগা শ্মিড জানান, বর্তমানে ইইউ-র সবগুলো দেশের জন্য ইনসটেক্স-এর সদস্য হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

ভিয়েনা বৈঠক থেকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর নজরদারি করার জন্য আগের মতো আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-কে একমাত্র বৈধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, পরমাণু সমঝোতা নিয়ে শিগগিরই সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতায় বলা হয়েছে, কোনও এক পক্ষ সমঝোতা লঙ্ঘন করলে প্রতিপক্ষের আহ্বানে সংশ্লিষ্ট সবগুলো দেশ বৈঠকে বসে উদ্ভূত পরিস্থিতির সমাধান করবে। ইরান সম্প্রতি পরমাণু সমঝোতার কিছু ধারার বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পর ইউরোপের একাধিক দেশ এ বৈঠকে বসার দাবি জানিয়েছিল। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে ইরানের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, চীন ও রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের অবকাশে আব্বাস আরাকচি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপ-প্রধান হেলগা শ্মিড এবং চীন ও রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠক করেন।

পারস্য উপসাগরে ইউরোপীয় নৌবহর গঠন হবে উসকানিমূলক : পারস্য উপসাগরে তেল ট্যাংকারের নিরাপত্তা বিষয়ে ইউরোপীয় নৌবহর গঠনের প্রস্তাবকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ ও ‘উসকানিমূলক’ বলে মন্তব্য করেছে ইরান। দেশটির সরকারের মুখপাত্র আলি রাবেইল এই মন্তব্য করেছেন। জার্মান সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে। 

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পণ্যবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সোমবার সমন্বিত নৌ-প্রহরার প্রস্তাব করে যুক্তরাজ্য। গত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী থেকে যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী একটি তেলবাহী জাহাজ আটক করে ইরানের নিরাপত্তারক্ষীরা। ফলে এ অঞ্চল দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাজ্য চাইছে নিজেদের মতো করে একটি নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে। শর্ত সাপেক্ষে এ প্রহরায় যোগ দিতে পারে জার্মানিও।

এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রোহানি বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ নিরাপত্তায় তেমন কাজে আসবে না।

ইরান সরকারের মুখপাত্র আলি রাবেই দেশটির বার্তাসংস্থা আইএসএনএকে বলেন, ‘পারস্য উপসাগরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এ পদক্ষেপ শত্রুতামূলক বার্তা দেয়। এটি উস্কানিমূলক এবং এ অঞ্চলের অস্থিরতা আরো বাড়াবে।

আলি রাবেই আরও বলেন, ‘ইরান বিশ্বাস করে যে পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর নিরপত্তা রক্ষার দায়িত্ব এ অঞ্চলের দেশগুলোরই। আমরাই পারস্য উপসগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সবচেয়ে বড় প্রতিনিধি।’

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে অনেকদিন ধরে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এ মাসের গোড়ার দিকে ইরানের বিপ্লবী বাহিনীর কমান্ডোরা স্টেনা ইম্পেরো নামে একটি ব্রিটিশ পাতাকাবাহী তেল ট্যাংকার আটক করে।

বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট তেহরানের আচরণকে রাষ্ট্রীয় জলদস্যুতার মতো কাজকর্ম বলে মন্তব্য করেছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ