ঢাকা,মঙ্গলবার 30 July 2019, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জনপ্রিয় পুতিন অজনপ্রিয় হয়ে উঠছেন কেন!

২৯ জুলাই, দ্য ইকোনমিস্ট, বিবিসি : রাশানরা এখন ‘পুতিন বিহীন’ দেশ চায়। গত রোববার রাশিয়ায় কমপক্ষে ১০৭৪ জন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ আগেই এই বিক্ষোভকে অবৈধ বলে ঘোষণা করেছিল। রাশিয়ার বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি এই প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। অননুমোদিত বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়ার কারণে গত বুধবার তাকে এক মাসের কারাদ- দেয়া হয়। তারপরও কয়েক হাজার লোক ওই বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিল। মিছিলে অংশ নেয়া মানুষেরা ‘পুতিনবিহীন রাশিয়া’ ও ‘পুতিন পদত্যাগ করো’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকলে পুলিশ তাদের ওপর লাঠি চার্জ করে ও লোকজনকে আটক করে। তাদের সিটি হল এলাকা থেকে হটিয়ে দেয়। 

কিন্তু ২০১২ সালের নির্বাচনের চেয়ে বেশি ভোট পেয়েছিলেন পুতিন। শেষবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুতিন পেয়েছিলেন ৬৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট। অর্থাৎ রাশিয়ায় তার জনপ্রিয়তা বাড়ছিলো। হঠাৎ করেই তার জনপ্রিয়তা কেন কমছে? রুশ গণমাধ্যম স্পুতনিক রেডিও এ বিষয়ে কথা বলেছে ভারতের জওহরলাল নেহেরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর রাশিয়ান অ্যান্ড এশিয়ান স্টাডিজের অধ্যাপক অনুরাধা চেনোইয়ের সঙ্গে স্পুতনিক নিউজ ডট কমে প্রকাশিত হয়।

সেখানে জানানো হয়, অর্থনৈতিক মন্দাভাব, নিষ্পত্তিযোগ্য আয়ের নিম্নগতি ও অবসরকালীন বয়স বৃদ্ধিতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন রাশিয়ানরা।পুতিনের ওপর আস্থা কমেছে ৩৩ শতাংশেরও বেশি রাশিয়ানের। ২০১৫ সালের জুলাইয়ের জরিপে দেখা যায় পুতিনের ওপর দেশটির ৭১ শতাংশ মানুষের আস্থা ছিল। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, ২০১৪ সালে ইউক্রেণের কাছ থেকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখলের প্রেক্ষিতে পুতিন তখন রাশিয়ানদের আস্থার প্রতীকে পরিণত হন। এ ছাড়া, তার ড্যাশিং পারসোনিলিটি, রোমান্টিক ইমেজ, সব ছাপিয়ে রাশানরা মনে করতো পুতিনের ওপর নির্ভর করা যায়।কিন্তু এই জনপ্রিয়তা কমছে ধীরে ধীরে।

দ্য লেভাডা সেন্টার নামের মস্কোভিত্তিক একটি বেসরকারি জনমত জরিপ বিষয়ক সংস্থার মতে, জরিপ দেশটির ৫৩ শতাংশ মতামত প্রদানকারী পুতিনের নেতৃত্বাধীন রুশ সরকারকে অনুমোদন দিতে অস্বীকৃতি জানান। কারণ বছরখানেক ধরে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ নিয়ে কাজ করছে চীন। নিন্দুকেরা বলছেন, চীন এটি দিয়ে প্রায় ৭০টিরও বেশি দেশকে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থের মোহে আটকে ফেলছে। এবার বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি রাশিয়াও পা দিয়েছে একই ফাঁদে। তবে কি যুক্তরাষ্ট্রকে ঠেকাতে গিয়ে চীনের হাতের পুতুল হয়ে পড়ছেন পুতিন?

ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, রাশিয়া দিনকে দিন চীনের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। রাশিয়ায় উৎপাদিত কাঁচামালের মূল ক্রেতা চীন। রাশিয়ার জাতীয় তেল কোম্পানি ‘রোজনেফট’ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে চীনা মুদ্রার ওপর। এই কোম্পানিটি তাদের সিংহভাগ তেল রপ্তানি করে চীনে। রুশ নায়ক পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলার দেখতে পারেন না। তাই তাঁর দেশ এখন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াচ্ছে ইউয়ান দিয়ে। রাশিয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভের ১৪ শতাংশ বর্তমানে ইউয়ান।

থিংক ট্যাংক কার্নেগি মস্কো সেন্টারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্য যেকোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে তুলনায় গেলে এই সংখ্যাটি প্রায় ১০ গুণ বেশি। অথচ গত বছর রাশিয়ায় ইউয়ানের রিজার্ভ ছিল মোটের ওপর মাত্র ৩ শতাংশ। চীন হাত দিয়েছে রুশ অস্ত্রাগারেও। নেটওয়ার্কিং ও নিরাপত্তা রক্ষায় পুতিনের জন্য নানা ধরনের ‘অস্ত্র’ বানাচ্ছে চীন। গত মাসেই চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে রাশিয়া।রুশ জনগণের ওপর নজরদারিতে ব্যবহৃত হচ্ছে চীনা হাইকেভিশন ক্যামেরা। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) সংশ্লিষ্ট উপকরণও রাশিয়া আনছে চীন থেকে।‘এস-৪০০’ নামের অত্যাধুনিক রুশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থারও নাগাল পেয়ে গেছে চীনারা। ফলে দ্য লেভাডা সেন্টারের জরিপ বলছে, পুতিনের একটানা দীর্ঘ শাসনামল ও চীনের ওপর অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়ার কারণেই পুতিনের জনপ্রিয়তা কমছে ও বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ