ঢাকা,মঙ্গলবার 30 July 2019, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু মহামারিতে রূপ নেয়ার শঙ্কা

# প্রতি ঘণ্টায় হাসপাতালে যাচ্ছেন ৪৬ জন
# ৫০ জেলায় ছড়িয়েছে ডেঙ্গু
# এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩০ সরকার বলছে ৮
ইবরাহীম খলিল : কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না ডেঙ্গু পরিস্থিতি। অনেকেই ধারণা করছেন, রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জ্বরের জীবাণু বহন করে অনেকে গ্রামাঞ্চলে গিয়ে ডেঙ্গু ছড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এতে মানুষের মধ্যে বাড়ছে আতংক। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গতকাল সোমবারও সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ডেঙ্গু রোগী মারা গেছেন। তার নাম মো: জুয়েল মাহমুদ নয়ন। জানা গেছে, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকাকালে গতকাল সোমবার দুপুরে তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে অনুযায়ী সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঢাকায় নেয়ার প্রাক্কালে হাসপাতালেই মারা যান তিনি। দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে সরকারি হিসাবে এ সংখ্যা ৮ জন।
জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বাংলাদেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৩ হাজার ৬৩৭ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে শুধু চলতি জুলাই মাসেই ভর্তি হয়েছেন ১১ হাজার ৪৫০ জন ডেঙ্গু রোগী। সরকারিভাবে ‘মহামারি’ শব্দটিতে আপত্তি থাকলেও বাংলাদেশের ইতিহাসে এ বছর বিশেষ করে চলতি মাসের মতো এত বিপুলসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তির কোনো অতীত রেকর্ড নেই বলে স্বীকার করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেল্থ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার জানান, গতকাল সোমবার ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে এক হাজার ৯৬ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এ হিসাবে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৪৬ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।
হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এক হাজার ৯৬ জন হলেও প্রকৃতপক্ষে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বেশি। রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিদিন হাজার হাজার জ্বরাক্রান্ত নারী-পুরুষ-শিশু ডেঙ্গু টেস্ট করার জন্য ছুটে যাচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ চিকিৎসকের পরামর্শে বাসাবাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে তিন হাজার ৮৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিনামূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু এনএস ওয়ানসহ আরও তিন ধরনের টেস্ট করার জন্য ফি নির্ধারণ করেছে।
বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু টেস্ট (এনএস ওয়ান) ফি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা, আইজিএম ও আইজিই এ দুটো পরীক্ষার ফি একত্রে কিংবা এককভাবে ৫০০ এবং সিবিসি ৪০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে মোট আক্রান্ত এক হাজার ৯৬ জনের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২৫, মিটফোর্ড হাসপাতালে ১১৩, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ৩৪, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৪৮, হলিফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ৪১, বারডেম হাসপাতালে ২৩, বিএসএমএমইউতে ৩৭, পুলিশ হাসপাতাল, রাজারবাগে ২১, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬০, বিজিবি হাসপাতাল, পিলখানায় ১০ এবং কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ৭৯ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ২৬৫ জন ভর্তি হন। ঢাকা শহর ছাড়া ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৯ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১০১ জন, খুলনা বিভাগে ১৭ জন, রংপুর বিভাগে ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪২ জন, বরিশাল বিভাগে ছয়জন ও সিলেট বিভাগে ১৬ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন।
স্বাস্থ্য তথ্য হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকার বাইরে এখন পর্যন্ত এক হাজার ২৮৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫৩১ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অবশ্য অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
এদিকে আগামি অক্টোবরে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। নভেম্বর পর্যন্ত এর ধারাবাহিকতা থাকবে। এতে করে দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, আমাদের দেশে সাধারণত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। তবে এবার ডেঙ্গু আগেই চলে এসেছে। এজন্য রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। এসব কারণে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক ভিসি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে আমাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি সরকারের যেসব দফতর এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাদেরও যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নইলে নিয়ম অনুযায়ী সামনে ডেঙ্গুর সিজন আমাদের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও বিএসএমএমইউয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ জানান, বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর বিস্তার সবচেয়ে বেশি হয়। এডিস মশা নর্দমা, বাসাবাড়িতে থাকা চৌবাচ্চাসহ যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেসব স্থানে প্রজনন করে। চক্রাকারে প্রজাতির বিস্তার ঘটায়।
তিনি বলেন, আগামী আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস ডেঙ্গু বিস্তারের সবচেয়ে উপযোগী সময়। কারণ এ সময় থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হয়। আর জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশ বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। তাই আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের ভয় বেশি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত বছরগুলোতে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা গেছে। কারণ ওই দুই মাসে বৃষ্টি বেশি হয়। বর্ষায় এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা চক্রাকার হারে বাড়ে। আর থেমে থেমে থেমে বৃষ্টি হলে নালা-নর্দমায় জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশ বিস্তারের সুযোগও পায় বেশি। কিন্তু এবার বর্ষা আগে আসার কারণে জুলাইয়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সেপ্টেম্বর নাগাদ এই প্রাদুর্ভাব আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
জানা গেছে, গত বছর চিকুনগুনিয়ার পর স্বাস্থ্য অধিদফতর ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ে পৃথক পৃথক পর্যালোচনা করে। এই পর্যালোচনায় চলতি বছর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এ নিয়ে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদফতর সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা ও কার্যক্রম হাতে নেয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে আগাম সর্তকতার কথা বলা হলেও সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সংস্থাগুলো এসব আমলে নেয়নি। যে কারণে এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতিও প্রায় মহামারী আকার ধারণ করেছে।
এদিকে ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার কারণ হিসেবে ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে গ্রামে যাওয়াকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, এ পর্যন্ত ঢাকার বাইরে যত রোগী পাওয়া গেছে, আমি বলব ৯০ শতাংশ রোগী ঢাকা থেকে গেছে। তারপরও আমি আত্ম-সন্তুষ্ট থাকতে চাই না। কারণ তারপরও ওই রোগীগুলো থেকে ডেঙ্গু ছড়াবে।’ এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর সম্পূর্ণভাবে সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সানিয়া তাহমিনা বলেন, ‘জেলাগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে কিট (এক ধরনের ডিভাইস) পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকেও যেন এটা কোনোভাবে ছড়িয়ে না যায়, সে বিষয়েও আমরা সতর্ক থাকার জন্য চেষ্টা করছি।’
বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে ডেঙ্গুর ফি নির্ধারণের বিষয়ে সানিয়া বলেন, ‘ডেঙ্গুর জন্য যে ৪টা পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয়, এগুলো করতে মোট ১৪০০ টাকা লাগবে। এই টাকা ঠিকমতো রাখা হচ্ছে কি-না, তা তদারকির জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে মনিটরিং শুরু হয়েছে। ১০টা টিম গঠন করে এই মনিটরিং শুরু হয়েছে রবিবার থেকে।’
সমুদ্রবন্দর, বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোকে ইতোমধ্যে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই কর্মকর্তার ভাষ্য, ‘এসব জায়গায় জ্বরের রোগী পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সেখানে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে।’
ডেঙ্গুর জন্য বিএসএমএমইউতে দেড়শতাধিকশয্যা : ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ডেঙ্গু সেলের শয্যা সংখ্যা ৪০ থেকে বাড়িয়ে দেড় শতাধিকে উন্নীত করা হয়েছে। এদিকে গতকাল সোমবার ভিসি উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া কেবিন ব্লকের নিচতলায় ডেঙ্গু চিকিৎসাসেবা সেলের সেবা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন। এ সময় উপাচার্য ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে করণীয় সবকিছুই করা হবে বলে উল্লেখ করেন। বর্তমানে বঙ্গববন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ওয়ার্ড, শিশু মেডিসিন ওয়ার্ড, ডেঙ্গু চিকিৎসা সেল, কেবিন এবং আইসিইউতে ৭৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ৬০টি নতুন শয্যা ক্রয় করা হয়েছে। প্রয়োজনে শয্যা সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।
মেডিসিন বিভাগের আরপি সহকারী অধ্যাপক ডা. হাসান ইমাম জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ জন জ্বর নিয়ে আসেন। এ সব রোগীর অধিকাংশই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। তবে বেশির ভাগ রোগীরই ভর্তির প্রয়োজন পড়ছে না।
পুলিশ হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীর ভীড়: শহরের নানা শ্রেণী পেশার মানুষের মতোই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন পুলিশ সদস্যরাও। অধিকাংশ পুলিশ সদস্য তাদের জন্য বিশেষায়িত রাজারবাগ হাসাপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন। গতকাল সোমবার দুপুর পর্যন্ত রাজারবাগ হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন ৮৫ জন। এরমধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২৭। আড়াইশ শয্যার এই হাসপাতালে গত তিন মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হাজার খানেক ছাড়িয়ে গেছে। তাদেরকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কর্তৃপক্ষ। তাদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য একজন এডিসির তত্বাবধানে একটি টিম সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন।
রাজারবাগ হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুতে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের অধিকাংশই ঢাকা মহানগর পুলিশের সদস্য। তারা রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স ব্যারাক, মিরপুর ও উত্তরা এলাকার।
রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আশরাফ হোসেন সেলিম জানান, সময় যত যাচ্ছে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা তত বাড়ছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৮৫ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২৭ জন রোগী। তিনি আরও জানান, গত মে মাস থেকে আজ পর্যন্ত এই হাসপাতালে প্রায় ১ হাজার রোগীর চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। ভর্তিরত রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাজারবাগ হাসপাতালে যারা চিকিৎসা দিচ্ছেন তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। প্রতিদিন অসংখ্য রোগী আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসছেন। তাদের অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। যাদের জ্বর একটু বেশি, শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাদের ভর্তি নেওয়া হচ্ছে।
৫০ জেলায় ছড়িয়েছে ডেঙ্গু : দেশের ৫০ জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু। বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৯৬ জন। গতকাল সোমবার এসব তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, ৫০টি জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এবার বর্ষার শুরুতেই ঢাকায় মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রাদুর্ভাব ঘটলেও এটি বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।
অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা) এক হাজার ৯৬ জন দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় ৮২৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। একই সময়ে রাজধানীর বাইরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট এক হাজার ২৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫৩১ জন।
তীব্র জ্বর, মাথা ব্যথা ও মাংসপেশিতে ব্যথা, শরীরে লালচে দানা ইত্যাদি ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ হলেও এবার এর ব্যতিক্রম পাওয়া যাচ্ছে। জ্বর হলে কাছের হাসপাতালে কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে রক্তের পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিয়েছে সরকার। চিকিৎসকরা জ্বরে প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি রোগীকে বেশি বেশি তরল খাবার খাওয়াতে বলেছেন। এবার ডেঙ্গুজ্বরে রক্তের ঘনত্ব কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দেয়ায় আক্রান্তের রক্তচাপ কমে যাচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পরীক্ষা করতে বলা হচ্ছে। জ্বর ভালো হওয়ার পরও ডেঙ্গুজনিত মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।
অফিস, ঘর ও আশপাশে যে কোনো পাত্রে (এসির ট্রে/ফুলের টব) জমে থাকা পানি তিন দিনের মধ্যে পরিবর্তন করতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এডিস মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায় বলে দিনে ঘুমানোর ক্ষেত্রেও মশারি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
চট্টগ্রাম ব্যুরো : চট্টগ্রামে ডেংগু জ্বর প্রতিরোধকল্পে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। দেশব্যাপী মশক নিধন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালন উপলক্ষে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক র‌্যালির আয়োজন করা হয়। বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন চট্টগ্রাম আয়োজিত এ র‌্যালি গতকাল  সোমবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর ওয়াশা মোড় ঘুরে লালখানবাজার হয়ে হোটেল র‌্যাডিসন ব্লু এর সামনে দিয়ে আবার সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। “নিজ আঙ্গিনা পরিস্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি” স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার সার্কিট হাউজ সংলগ্ন কাজীর দেউড়ী মোড়ে কার্যক্রম এর উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান। র‌্যালি শেষে এম এ আজিজ আউটার স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় ক্যামিকেল স্প্র্রে ও ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে এবং ঝাড়ুদিয়ে অভিযান কার্যক্রম শুরু করেন চট্টগ্রাম জেলার   জেলা প্রশাসক   মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন।এসময় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুরুল আলম নিজামী, স্থানীয় সরকারের বিভাগীয় পরিচালক দীপক চক্রবর্ত্তী, পরিচালক (স্বাস্থ্য), চট্টগ্রাম বিভাগ জনাব ডা: শাহরিয়ার কবির, সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকবৃন্দ, বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাবৃন্দ , সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা এ সচেতনতামূলক র‌্যালি ও কার্যক্রমে অংশ নেন।
সোমবার, সকাল-৯ চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে ডেঙ্গু রোগ চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের একটি ওরিয়েন্টশন  সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিভিল সার্জন, চট্টগ্রাম ডা. মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী এর সভাপতিত্বে উক্ত ওরিয়েন্টশন সভায় মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. এম এ হাসান চৌধুরী, পরিচালক, বিআইটিআইডি, চট্টগ্রাম এবং অধ্যাপক ডা. সুযত পাল,  মেডিসিন বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, চট্টগ্রাম। বক্তরা ন্যাশনাল গাইড লাইন অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগী  চিকিৎসার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা  করেন।  উক্ত ওরিয়েন্টশনে অংশগ্রহন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (রোগ নিয়ন্ত্রণ) গণ, সরকারী আরবান ডিসপেনসারীর চিকিৎসকগণ এবং  চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের চিকিৎসক বৃন্দ। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন ডা. জি এম তৈয়ব আলী, ডেপুটি সিভিল সার্জন চট্টগ্রাম, ডা. মোহাম্মদ ওয়াজেদ চৌধুরী অভি, এমওসিএস, ডা. মোহাম্মদ নুরুল হায়দার, এমওডিসি।
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানায়, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক আলোচনা সভা ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার র‌্যালীটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক হল রুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ. এম আবু তৈয়ব। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন নাহার মুক্তা, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জানে আলম, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আবুল হাসনাত, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজীব আচার্যী, উপজেলে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কমিটির কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা জয়নাল আবেদীন, সদস্য ও যুবলীগ নেতা মীর মোরশেদ ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও মশক নিধন কমিটির সদস্য এস.এম মাসুদ পারভেজ, আক্কাস আলী প্রমূখ।এছাড়াও এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।সভায় বক্তারা, মশক নিধন ও চারপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন।
সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে শতাধিক ডেঙ্গু রোগী  দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক
সাভার সংবাদদাতা : সাভারে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী প্রায় শতাধিক লোক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। তাদেরকে চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে হাজেরা নামের (১০) বছরের এক শিশু ও জুয়েল মাহমুদ নয়ন (৩৩) নামের দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালের নিবির পরিচর্চা কেন্দ্র (আইসিইতে) ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্র্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই থেকে প্রায় পঞ্চাশ জনেরও বেশী রোগী ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে এনাম মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এছাড়া গত রাতে ও সোমবার সকালে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ল্যাবজোন হাসপাতাল ও হেমায়েতপুর জামাল ক্লিনিকে প্রায় অর্ধশতাধিক এর ও বেশী রোগী ডেঙ্গু জ¦রে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা জানান, ১০ জন রোগীকে সনাক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক উইংগ খোলা হয়েছে তবে তাদের নিকট এখন পর্যন্ত সরকারী কোন ঔষুধ বা রোগ নির্সনয়ের সরঞ্জাম সরবরাহ করা হয়নি। এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী উখেংনু রাখাইন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো তিন ছাত্র চিকিৎসাধীন আছে।
মাদারীপুর সংবাদদাতা : মাদারীপুর জেলার সরকারী হাসপাতালগুলোতে নেই ডেঙ্গু জ্বর শনাক্ত করার যথাযথ ব্যবস্থা। রোগীদের অভিযোগ প্রাইভেট ক্লিনিক থেকে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও সরকারী হাসপাতাল থেকে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না তারা। গত ৫ জুলাই থেকে এই পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৩ জন রোগী। যার মধ্যে গত এক সপ্তাহে ভর্তি হয়েছে ১০ জন। এদের মধ্যে মাদারীপুরের নিজ এলাকা থেকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে ২ জন বাসিন্দা। ফলে জনমনে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ১১ জনই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে মাদারীপুরে এসেছে বলে দাবী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষের।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত প্রিয়াঙ্কা আক্তার জানান, ‘কয়েকদির ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। পরে জানতে পারেন এটা ডেঙ্গু জ্বর। মাদারীপুর সদর হাসপাতালে কোন চিকিৎসা না থাকায় আমাকে অন্যত্র প্রেরণ করা হয়েছে। একটি সরকারী হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা নেই। এটা খুবই দুঃখজনক।’
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ জানান, গত ৫ জুলাই থেকে এই হাসপাতালে মোট ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। যাদের মধ্যে গত এক সপ্তাহে ভর্তি হয়েছে ১০ জন। এছাড়া গেলো ২৪ ঘন্টায় আরো ৩ জন ভর্তি হয়েছে। যাদের সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্যে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। আমাদের সাধ্য মতো চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করেছি।’
এব্যাপারে মাদারীপুরের সিভিল সার্জন ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সরকারী হাসপাতাগুলোতে ডেঙ্গু জ্বর সনাক্ত করণের কীট নেই। যে কারণে ডেঙ্গু সনাক্ত করে রোগীরা আসলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। যদি কোন রোগীর অবস্থার অবনতি হয়, তাহলে উন্নত চিকিৎসার জন্যে অন্যত্র রেফার করি। আমরা আগামী বছর ডেঙ্গু সনাক্তকরণ কীট ক্রয়ের জন্যে অর্থ বরাদ্দ চাইবো।’
ফটিকছড়িতে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : 'নিজ আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখি, সবাই মিলে সুস্থ থাকি' এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশব্যাপী মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা সপ্তাহ পালন উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক আলোচনা সভা ও র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 সোমবার র‌্যালীটি উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু বিভিন্ন সড়ক পদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদের বীর মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক হল রুমে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এইচ. এম আবু তৈয়ব। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন নাহার মুক্তা, উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা জানে আলম, উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা আবুল হাসনাত, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজীব আচার্যী, উপজেলে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কমিটির কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রনেতা জয়নাল আবেদীন, সদস্য ও যুবলীগ নেতা মীর মোরশেদ ও উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও মশক নিধন কমিটির সদস্য এস.এম মাসুদ পারভেজ, আক্কাস আলী প্রমুখ।
এছাড়াও এতে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা, মশক নিধন ও চারপাশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য রাখেন।
টঙ্গীতে ১০ জন হাসপাতালে ভর্তি
টঙ্গী সংবাদদাতা : টঙ্গীতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে গত ২২ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত গত এক সপ্তাহে ১০জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তির খবর পাওয়া গেছে। (রেজিষ্ট্রার অনুযায়ী) ১০জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এনিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ২২ জুলাই স্থানীয় মধুমিতা রোডের কবির হোসেন (২৩) নামে এক রোগী ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এরপর থেকে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়তেই থাকে। হাসপাতালে ভর্তিকৃত অন্যান্য রোগীরা হলেন- পূর্ব আরিচপুরের তন্বি (১৭), শিলমুনের ওমর ফারুক (২৯), আমিরুল ইসলাম (২৪), মধুমিতা রোডের নারগিস আক্তার (৩৫), কলেজগেটের রাজন (২৬), দত্তপাড়ার লাবনী আক্তার (১৪), পাগারের মিজানুর রহমান (১৯), ভরানের বিলকিছ আক্তার (২০) ও নাসির উদ্দিন (৩০)।
এবিষয়ে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: পারভেজ হোসেন বলেন, ডেঙ্গুজ্বরের রোগী হিসেবে আমাদের হাসপাতালে গত একসপ্তাহে ১০জন ভর্তি হয়েছে। কিন্তু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের রক্তে ডেঙ্গুর জীবাণু পাওয়া যায়নি। এছাড়াও ডেঙ্গু প্রতিরোধে হাসপাতালের চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলায়  ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ৯ জন
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা : মৌলভীবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে একজন ছাড়া সবাই ঢাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এসেছেন, তবে একজন স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করছেন চিকিৎসকরা।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. শাহজাহান কবির চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবেলায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক রয়েছে। মৌলভীবাজার জেলায় ২৫০ শয্যা হাসপাতালসহ উপ-জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি রয়েছে।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে ২ জন মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন, ২ জন মৌলভী পলি ক্লিনিকে এবং ২ জন সিলেটে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি ২ জন সুস্থ হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়।
এদিকে মৌলভীবাজার পৌরসভা ও জেলা প্রশাসন ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
মৌলভীবাজার-৩ সদর-রাজনগর আসনের সদস্য সদস্য নেছার আহমদ মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে চিকিৎসকদের সাথে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ