ঢাকা,মঙ্গলবার 30 July 2019, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দুই প্রধান প্রতীকের ভোটপ্রাপ্তিতে অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ

সরদার আবদুর রহমান : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কেন্দ্রভিত্তিক ফলের সুরতহাল রিপোর্ট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে সকল রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও ভোট পড়া ও নৌকার ভোট প্রাপ্তিতে এবার অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। অন্যদিকে পুরো জোট ও ফ্রন্ট একত্রে লড়াই করেও ভোট প্রাপ্তিতে ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্থানে নেমে গেছে।
২০১৮ সাল পর্যন্ত তথ্যে দেখা যায়, অধিকাংশ নির্বাচনেই ভোটের হারে একটা সামঞ্জস্য লক্ষ্য করা গেলেও এবারের নির্বাচনে সবধরনের সামঞ্জস্যতার হিসাব উল্টে দেয়া হয়। এমনকি ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনেও নৌকা যা ভোট পায় তার চেয়েও বেশি ভোট প্রাপ্তি দেখানো হয় সব দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ২০১৮ সালের নির্বাচনে।
অতীত রেকর্ড : তথ্যে দেখা যায়, ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট কাস্ট হয় ৫৫.০৯% ভাগ। এসময় নৌকার ভোট প্রাপ্তির হার ছিলো ৭৫.১১%। ১৯৭৩ সালের নির্বাচন হয় আওয়ামী লীগের সরকার ক্ষমতায় থেকে। সেসময় ভোট কাস্ট হয় ৫৫.৬২%। আর নৌকা ভোট পায় ৭৩.২০% ভাগ। ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দল অংশ নেয়। এতে ভোট কাস্ট হয় ৫১.৩% ভাগ, আর নৌকার প্রাপ্তি ছিলো ২৪.৫৫% ভাগ। অন্যদিকে ধানের শীষের প্রাপ্ত ভোটের হার ছিলো ৪১.০২%। ১৯৮৬ সালের নির্বাচন বিএনপি বর্জন করে। প্রধান দল ছিলো জাতীয় পার্টি। এই নির্বাচনে ভোট পড়ে ৬১.১% ভাগ। আর নৌকা পায় ২৬.১৫% ভাগ। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ভোট কাস্ট হয় ৫৫.৩৫% ভাগ। এর মধ্যে নৌকা পায় ৩০.০৮% ভাগ আর ধানের শীষ পায় ৩০.৮১%। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ভোট কাস্ট হয় ৭৪.১৫% ভাগ। নৌকার ভোট ছিলো ৩৭.৪৪% ভাগ, আর বিএনপি’র ভোট ছিলো ৩৩.৬০% ভাগ। ২০০১ সালের নির্বাচনে ভোট কাস্ট হয় ৭৪.৩৭% ভাগ। এর মধ্যে নৌকা পায় ৪০.০২% ভাগ, আর ধানের শীষ পায় ৪১.৪০% ভাগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোট কাস্ট হয় ৮৭.১৩% ভাগ। এর মধ্যে নৌকা পায়  ৪৯% ভাগ এবং ধানের শীষ পায় ৩৩.০২% ভাগ। ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট। ফলে ভোট পড়ার হার দাঁড়ায় ৪০.৪% ভাগ। আর নৌকার ভোট প্রাপ্তির হার দাঁড়ায় ৭২.১৪% ভাগ।
সর্বশেষ ২০১৮ সালের বছর শেষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোট পড়ে ৮০.২০% ভাগ। বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে মিলে আয়োজিত এই নির্বাচনে অংশ নেয়। এতদসত্বেও নৌকা ১৯৭০, ১৯৭৩ এবং ২০১৪ সালের একতরফা নির্বাচনেরও রেকর্ড ডিঙিয়ে ২০১৮ সালের নির্বাচনে নৌকার ভোট প্রাপ্তি দাঁড়ায় ৭৬.৮০%। আর ধানের শীষের ভোট বিস্ময়করভাবে নেমে দাঁড়ায় মাত্র ১৩.৫১% ভাগে।
২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে অনয়িমের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বলেন, কেন্দ্রভিত্তিক ভোট গ্রহণের যে তথ্য প্রকাশ করা হলো এগুলো সুজনের তথ্য নয়, কোনো রাজনৈতিক দলের তথ্যও নয়। এটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের প্রদত্ত তথ্য। তিনি বলেন, বিদেশী বিভিন্ন অর্গানাইজেশন টিআইবি থেকে শুরু করে অন্যান্য সংগঠন যখন বাংলাদেশ সম্পর্কে নেগেটিভ রিপোর্ট করে, তখন মন্ত্রীদের অনেকে বলে যে, তাদের তথ্যের উৎস সম্পর্কে আমাদের সন্দেহ আছে। তবে এটার ব্যাপারে তো সরকার বলতে পারবে না যে, উৎস সম্পর্কে সন্দেহ আছে। জাতীয় নির্বাচনে শতভাগ ভোট পড়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নে কমিউনিস্ট পার্টি ৭০-এর দশকের নির্বাচনে একমাত্র পার্টি হয়েও কোনো কেন্দ্রে শতভাগ ভোট পায়নি। আমার মনে হয়, সোভিয়েত কমিউনিস্ট পার্টিকেও ছাড়িয়ে গেছি। এখন এই ফলাফল দেখে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, এটা পাগল ছাড়া কেউ দাবি করতে পারবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ