ঢাকা,মঙ্গলবার 30 July 2019, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সুশাসনের অভাবই দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা

স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, সুশাসনের অভাব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। দেশে অব্যাহত বন বিনাশেও সুশাসনের অভাব একটা কারণ। বন বিনাশ রোধে নানামুখী স্বার্থের সমন্বয় জরুরি। এ জন্য উন্নত গবেষণা ও নৈর্ব্যক্তিক পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের বন ভবনে ‘মধুপুর শালবন: বন বিনাশ, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং প্রথাগত ভূমির অধিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন আরেক অর্থনীতি হোসেন জিল্লুর রহমান। আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলো হলো সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট (সেড), পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি), ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) ও গ্রাম বিকাশকেন্দ্র (জিবিকে)।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক মুহম্মদ ইউনুস আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজিমউদ্দিন খান, গারোদের সংগঠন জয়েনশাহী আদিবাসী সমাজকল্যাণ সংস্থার সভাপতি ইউজিন নকরেক, অজয় মৃ, উন্নয়নকর্মী মজিদ মল্লিক প্রমুখ।
দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বন মধুপুর শালবনে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার ওপর জরিপ করে সেড। এর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আজকের অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন সেড পরিচালক ফিলিপ গাইন। অনুষ্ঠানে ছিলেন মধুপর বন নির্ভর গারো সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, স্থানীয় বাঙালি, রাজনৈতিক নেতা, স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি, বেসরকারি প্রতিনিধি এবং সেই সঙ্গে বন বিভাগের সাবেক ও বর্তমান কর্তাব্যক্তিরা।
বন বিনাশ, বন মামলায় জড়িয়ে হেনস্তা করা, সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে প্রাকৃতিক বন উজাড়ে বন বিভাগের সমালোচনা করলেন মধুপুরের গারো সম্প্রদায়ের নেতারা। আবার এ বন বিনাশে গারোদের দুষলেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। বনকে ঘিরে এই যে নানা ধরনের ‘বৈধ স্বার্থ গোষ্ঠী’ আছে তাদের সমন্বয়ের কথাই বললেন ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তাঁর কথা, শুধু পারস্পরিক দোষারোপ করে কাজ হবে না। এভাবে বন বিনাশ বন্ধ হবে না। চাই সুচিন্তিত পরিকল্পনা। নানামুখী স্বার্থগোষ্ঠীকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। আর দরকার সরকারি নীতি ও আইন এবং সেই সঙ্গে এর প্রয়োগ।
ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বনকে ঘিরে যেসব স্বার্থগোষ্ঠী তাদের অবস্থান সাংঘর্ষিক হবে, তা স্বাভাবিক। কিন্তু দরকার হলো এগুলোর সমন্বয়।
হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বন নিয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা আছে। স্বার্থের সমন্বয়ের পাশাপাশি এই ভিন্নতাও দূর করতে হবে। অধিক আলোচনা এই ভিন্নতা দূর করতে পারে। মধুপুরের বন নিয়ে যেসব সমস্যা তৈরি হয়ে আছে, বন বিভাগের আয়ত্তের মধ্যেই এর কিছু সমাধান স্বল্প মেয়াদে সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। যেমন: বন মামলাগুলোর মধ্যে যেগুলো আলোচনার মাধ্যমে প্রত্যাহার করা যায়, তা করা। বন বিনাশ রোধে টহল বাহিনীর মধ্যে স্থানীয় গারোদের আরও সম্পৃক্ত করা। আর বনসংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট এবং উন্নত তথ্যের সমন্বয়ও জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে মধুপুর বনের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ওপর করা জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন সেড পরিচালক ফিলিপ গাইন। তিনি বলেন, মধুপুরে বসবাসকারী বিভিন্ন জাতির মানুষের জাতিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বেসলাইন তথ্যভান্ডার গড়ে তুলতেই এ জরিপ। গারোদের বিপন্নতার চিত্র উঠে এসেছে এ জরিপে। এর দিকে রাষ্ট্রীয় দৃষ্টি আকর্ষণ করা তাদের মূল উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। মধুপুরের বন বিনাশে আশির দশকে চালু হওয়া সামাজিক বনায়নকে একটি বড় কারণ হিসেবে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সাবেক প্রধান বন সংরক্ষক মুহম্মদ ইউনুস আলী বলেন, সামাজিক বনায়ন শুরুর আগে থেকেই এখানে বন বিনাশ হয়। তাই সামাজিক বনায়নকে দায়ী করা সংগত না। দেশের অন্যত্র সামাজিক বনায়ন সফল হলেও মধুপুরে ব্যর্থ হয় মানুষের সহযোগিতার অভাবে। ইউনুস আলী বন বিনাশের উপগ্রহ চিত্র তুলে ধরে তাঁর বক্তব্য দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ