ঢাকা,মঙ্গলবার 30 July 2019, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বন্যার পানি কমলেও তীব্র ভাঙনে বাড়ছে দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার : দেশের উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি নদ-নদীর পানি কমেছে। তবে এই পানি কমার কারছে যে তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে তাতে আরও বিড়ম্বনা বাড়ছে বানভাসী  মানুষের। যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে কমতে শুরু করলেও ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। তীব্র স্রোতের স্কাউরিংয়ের কারণে রোববার রাতে এনায়েতপুর থানার বেতিল স্পার বাঁধ-১ প্রায় ৫০ মিটার এলাকা ধসে গেছে।
এ কারণে স্পার সংলগ্ন সিরাজগঞ্জ ভেটেরিনারি কলেজ ও মৎস্য ডিপ্লোমা ইন্সটিটিউটসহ বহু তাঁত কারখানা ও অসংখ্য ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়ে আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় জনগণ। এছাড়াও এনায়েতপুর ব্রাহ্মণ গ্রামে গত তিনদিনে ভাঙনে প্রায় ১০-১২টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তীব্র স্রোতের কারণে চৌহালীর খাসকাউলিয়াসহ যমুনার কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, বন্যার পানি নেমে যাওয়ায় বন্যা কবলিতরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। বন্যায় বসতভিটা ভেঙে যাওয়ায় বন্যা কবলিতরা চরম ক্ষতির মধ্যে পড়েছে। এবার বন্যায় জেলার প্রায় ৫০ হাজার বসতভিটার ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ২২ হাজার হেক্টর ফসলি জমি নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া ১০ হাজারের অধিক তাঁত নষ্ট হয়ে গেছে। আর পানি বাহিত নানা রোগে ভুগছে বন্যা কবলিতরা। আয় রোজগার না থাকায় শিশু খাদ্য নিয়েও চরম কষ্টে রয়েছে পরিবার গুলো। এ অবস্থায় বন্যা কবলিতরা বসতভিটা ও ফসলের ক্ষতিপূরণসহ ওষুধ ও শুকনো খাবারের দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, যমুনা নদীতে পানি কমতে শুরু করায় প্রবল স্রোতের কারণে স্কাউয়ারিংয়ের ফলে বাঁধের ৫০ মিটার এলাকার মাটি সরে গেছে। জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে, আতঙ্কিত হবার কিছু নেই।
গাইবান্ধা : গাইবান্ধার ঘাঘট নদীর পানি কমতে শুরু করলেও জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেসুর রহমান জানান, বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে ঘাঘট নদীর পানি। আর ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি বিপৎসীমার ২২ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘদিন বন্যার পানি স্থায়ী হওয়ায় নানা ধরনের ভোগান্তির কবলে পড়েছে গাইবান্ধা অঞ্চলের মানুষ। বন্যাকবলিত এলাকার রাস্তাঘাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে জনগণকে। বসতবাড়ি থেকে এখনো পানি সরে না যাওয়ায় গাইবান্ধা পৌর এলাকাসহ জেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বসবাসকারী বানভাসি মানুষ ঘরে ফিরতে পারছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।
গাইবান্ধা থেকে উত্তরের বামে সুন্দরগঞ্জ থানা ও ডানের সড়ক দিয়ে যেতে হয় ঐতিহাসিক দাড়িয়াপুর হাট, ফকিরের বাজার, কাবলির বাজার, মাঠের হাট, ধর্মপুর, মজুমদার, সীচা, পাঁচপীরসহ বিভিন্ন স্থানে। এসব  গুরুত্বপূর্ণ জায়গার ব্যবসা-বাণিজ্য থমকে গেছে গাইবান্ধা শহরতলির কদমতলী ব্রিজটি চলতি বন্যার প্রবল পানির স্রোতে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায়। আবার কিছু জায়গায় ভেঙে দেবেও গেছে। সে সময় তড়িঘড়ি করে ফায়ার সার্ভিসকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসন একাধিক বালিভর্তি বস্তা ফেলে ডাম্পিং করে ব্রিজের ভাঙন কোনো রকম ঠেকিয়ে রেখেছে। ব্রিজের অবকাঠামো নড়বড়ে হওয়ায় এই ব্যস্ততম সড়কপথে গত ১০ দিন থেকে সব ধরনের ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ জনগণ।
দীর্ঘদিন ধরে এই বানভাসিরা গাইবান্ধা শহর রক্ষা বাঁধসহ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে মানববেতর জীবনযাপন করছে। জেলার অধিকাংশ এলাকা দীর্ঘদিন যাবৎ বন্যাকবলিত হয়ে থাকায় শ্রমজীবী মানুষ অর্থ সংকটে পড়েছে। কর্ম না থাকায় নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো অধিকাংশই ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত এলাকা ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পানিবাহিত রোগের প্রকোপ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব পানিবাহিত রোগের মধ্যে চর্মরোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। এতে শিশু ও বৃদ্ধরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ