ঢাকা,মঙ্গলবার 30 July 2019, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কুমিল্লায় যুবদল সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা

কুমিল্লা অফিস : কুমিল্লা মনোহরগঞ্জে জয়নাল হাজারী (৩৫) নামে এক যুবদল নেতাকে পেটানোর পর এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
নিহত জয়নাল উপজেলার সরসপুর ইউনিয়ন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এবং ওই ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতির পদে রয়েছেন। তিনি ভাউপুর পূর্বপাড়া গ্রামের এলাকার মৃত আনসার আলীর ছেলে।
রবিবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে জয়নালের উপর ওই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার ঘটে। পরে আশংকাজনক অবস্থায় রাতে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে সরসপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কাসেম জানান, জয়নাল হাজারী একজন পরিশ্রমী রাজনৈতিক কর্মী। তাকে হয়রানির উদ্দেশ্যে এই পর্যন্ত অন্তত ১০টি মিথ্যা মামলার আসামী করা হয়েছে। সর্বশেষ গত নির্বাচনের আগের দিন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে পুলিশের মাধ্যমে জেলে পাঠায়।
ওই মামলায় দীর্ঘ ৭ মাসের বেশি জেলহাজতে থাকার পর গত প্রায় ১৫দিন আগে জামিন পায় সে। জেল থেকে বের হয়ে ঢাকায় চলে যায় জয়নাল। গত পরশু (শনিবার) ঢাকা থেকে বাড়িতে আসে সে। বাড়িতে যাবার পর থেকেই তাকে হত্যা হুমকি দিতে থাকে এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
আবুল কাসেম আরো বলেন, সর্বশেষ গত রবিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ির পাশে একটি চায়ের দোকানে যায় জয়নাল হাজারী। এ সময় পূর্ব থেকে উৎ পেতে থাকা স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১০/১৫ জন নেতাকর্মীরা তার উপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালায় এবং তাকে পেটাতে শুরু করে। পরে জীবন বাঁচানোর জন্য সে পাশের বাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আমিনের ঘরে আশ্রয় নেই।
 সেখানে গিয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে জয়নালের একটি পা ভেঙে ফেলে এবং মাথাসহ পুরো শরীরে অন্তত ৫০টি কোপ দেয়। পরে আশ-পাশের লোকজন এসে তাকে আশংকাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়, সেখানে অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় চিকিৎসকরা।
পরে কুমিল্লা মেডিকেলে আনা হলে সেখানকার চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে ওইদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।
তবে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি নুরুল আমিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বাড়িতে ওই যুবদল নেতাকে হত্যা করার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তাকে কে বা কাহারা হত্যা করেছে আমি বলতে পারবো না। তবে লোকমুখে শুনেছি তার বাড়ির সামনের চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় সিএনজিযোগে আসা কয়েকজন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত তার উপর হামলা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ ঘটনায় জড়িত নয়।
এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.মেজবাহ উদ্দিন জানান, নিহত যুবদল নেতার বিরুদ্ধে থানায় ৭টি মামলা রয়েছে। তবে কারা তাকে হত্যা করেছে সেটা এখনো জানা যায়নি। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের কেউ এখনো থানায় মামলা দায়ের করেনি। মামলা হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ