ঢাকা,মঙ্গলবার 30 July 2019, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

৮০ লাখ বেতন-ভাতার বৈধ টাকা: আদালতে পার্থ গোপাল

স্টাফ রিপোর্টার : নিজ বাসা থেকে ৮০ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিকের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ ইমরুল কায়েস এই আদেশ দেন। এর আগে পার্থ গোপাল বণিককে বিকেল চারটার পর আদালতে হাজির করা হয়।
 রোববার বিকেলে রাজধানীর ভূতের গলি এলাকায় পার্থ গোপাল বণিকের বাসায় অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযান চালিয়ে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করে দুদকের একটি দল।
অবশ্য কারা মহাপরিদর্শক পার্থ গোপাল বণিক আদালতের কাছে দাবি করেছেন, তার বাসা থেকে দুদক যে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে, সেটা তার নিজের। এই টাকা তার বেতন-ভাতার টাকা। আদালত তখন পার্থ বণিকের কাছে জানতে চান, এ টাকা আপনি কোথায় পেয়েছেন? জবাবে পার্থ বণিক বলেন, ৩৯ লাখ টাকা তার সঞ্চয়পত্রের টাকা। এই টাকা তিনি পোস্ট অফিস থেকেই তুলেছেন। আদালত তখন জানতে চান, এই টাকা আপনি কি আপনার আয়কর বিবরণীতে দেখিয়েছেন? জবাবে পার্থ বণিক বলেন, এই টাকা আয়কর বিবরণীতে দেখানো হয়নি। তার আইনজীবী ভুলবশত এ টাকা আয়করে দেখাননি। পার্থ গোপাল বণিক বারবারই আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
পার্থ গোপাল বণিকের আইনজীবী আব্দুর রহমান হাওলাদার আদালতকে বলেন, দুদক যে ৮০ লাখ টাকা জব্দ করেছে, তা পার্থ বণিকেরই টাকা। এই টাকা সম্পূর্ণ বৈধ টাকা। পার্থ বণিকের ৩৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা বৈধ টাকা। বাকি টাকা তার মা এবং শাশুড়ির সঞ্চয়পত্রের টাকা। বৈধ এই টাকা ফ্ল্যাট কেনার জন্য রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে দুদক।
পার্থ গোপাল বণিকের অপর আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার আদালতকে বলেন, দুদক পার্থ বণিকের ঘর থেকে যে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার দেখিয়েছে, তা তার নিজের টাকা। দুদকের কাছে পার্থ বণিকের বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। বাংলাদেশি টাকা ঘরে রাখা কোন আইনে অপরাধ। পার্থ গোপাল বণিকের এ টাকা সাদা টাকা। এই টাকা কালোটাকা না। ফ্ল্যাট কেনার জন্য বাসায় নিয়ে আসা হয়েছিল।
তবে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল আদালতকে বলেন, দুদক পার্থ গোপাল বণিকের বাসা থেকে যে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করেছে, তা ঘুষের টাকা, অবৈধভাবে উপার্জিত টাকা। পার্থ গোপাল বণিক একজন সরকারি কর্মকর্তা। তার বছরে আয় ৬ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান চলছে। তল্লাশি চালিয়ে তার বাসা থেকে অবৈধভাবে উপার্জিত ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পার্থ গোপালের আইনজীবীরা যা বলছেন, তা কল্পকাহিনি ছাড়া আর কিছুই নয়।
জামিনের বিরোধিতা করে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন আদালতকে বলেন, পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তাকে এই মুহূর্তে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানো হোক। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ অপরাধের সঙ্গে আর যাঁরা জড়িত আছেন, তাদের খুঁজে বের করা হবে। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে পার্থ গোপাল বণিকের জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুদক সূত্র জানায়, সিলেটের ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল বণিক ও জ্যেষ্ঠ জেল সুপার প্রশান্ত কুমার বণিককে গতকাল  সকাল ১০টা থেকে দুদক কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সিলেটে দায়িত্ব পালনের আগে চট্টগ্রাম কারাগারে দায়িত্ব পালন করেন পার্থ গোপাল বণিক।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ