ঢাকা,মঙ্গলবার 30 July 2019, ১৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৬ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ক্রিসেন্ট ও পপুলারকে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা জরিমানা

স্টাফ রিপোর্টার: ডেঙ্গু রোগীর কাছ থেকে নমুনা সংগ্রহের পর কোনো ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই রিপোর্ট দেওয়া সহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালকে ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই দিনে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ডেঙ্গু টেস্ট ফি বেশি রাখায় রাজধানীর পপুলার ডায়াগনস্টিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
গতকাল সোমবার বিকেলে এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। পরে সারওয়ার আলম বলেন, এখানে কেঁচো খুঁড়তে এসে সাপ বেড়িয়েছে। ডেঙ্গুর পরীক্ষায় সরকার নির্ধারিত ফি ৫ শ টাকার বেশি নেওয়া হচ্ছে কি না সেটি তদারকি করতে উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতালে আসি আমরা। এখানে ডেঙ্গুর ফি সঠিক নিয়মে নেওয়া হলেও হাসপাতালের ল্যাবে গিয়ে মেলে ভয়াবহ চিত্র।
এখানে দেখা যায়, বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য রোগীদের কাছ থেকে সংগৃহীত নমুনা কোনো ধরণের পরীক্ষা না করেই তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য রিপোর্ট। আবার কোনো পরীক্ষার জন্য ৭২ কিংবা ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগলেও নমুনা সংগ্রহের ১২ ঘণ্টা পরেই তৈরি করা রিপোর্ট রোগীদের সরবরাহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া মেয়াদোর্ত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার, অনুমোদনহীন ওষুধ রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া যায় অভিযানে।
তিনি আরও বলেন, তাদের সতর্ক করা হয়েছে। প্রথমবার ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এরপর সংশোধন না হলে হাসপাতালটি বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ছাড়াও উত্তরার আরও কয়েকটি হাসপাতালে অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও জানান র‌্যাবের এই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে গতকাল বিকেল ৩ টার দিকে অভিযান চালিয়ে পপুলার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় বলে জানিয়েছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মঞ্জুর শাহরিয়ার।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু টেস্টে সরকার সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। গতকাল বিকেল থেকে কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু পপুলার হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার এনএসওয়ান এর জন্য এক হাজার দুইশত টাকা লেখা হয়েছে। সেখানে নিচের দিকে ৭০০ টাকা লেস দেখিয়ে রোগীর কাছে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটি কাস্টমারের সাথে প্রতারনার শামিল। সরকার যেখানে ৫০০ নিতে বলেছে, সেখানে ৫০০ টাকাই উল্লেখ করতে হবে। আর সেটা বড় করে সামনের দরজায় বা অ্যাকাউন্টস সেকশনের সামনে টানাতে হবে। অথচ সেটা করা হয়নি। একারণে তাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে একই সাথে রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়।
এরমধ্যে পান্থপথের বিআরবি হাসপাতাল, তেজগাঁওয়ে শমরিতা হাসপাতাল, কলাবাগানে আনোয়ার খান মর্ডান হাসপাতাল, ধানমন্ডিতে ল্যাব এ্যাইড, ইবনে সিনা ও পপুলার হাসপাতাল এবং পান্থপথে স্কয়ার হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়।
এছাড়া আজ সকালে ভোক্তা অধিকার অফিসে ডাকা হয়েছে, ইবনে সিনা হাসপাতাল ও ল্যাব এইড হাসপাতালকে। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে পাওয়া অভিযোগের শুনানি হবে। শুনানি শেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বাকী হাসপাতালগুলোতে সরকার নির্ধারিত ফি নিতে দেখা গেছে। তাই তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ