ঢাকা, শুক্রবার 2 August 2019, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৯ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

লোকসানে থাকা বেসিক ব্যাংক লাভে না ফিরলে কর্মী ছাঁটাইয়ের হুমকি

স্টাফ রিপোর্টার: অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি বেতন নেন। আবার তারা লোকসানে আছে। এটা কোনোভাবেই মানা যায় না। তাই বেসিক ব্যাংকের কর্মীদের বেতন কমানো হবে। মাত্র ৭২টা ব্রাঞ্চের জন্য এখানে প্রায় ২১০০ জনবল আছে। এত লোকের এখানে কী কাজ? তিনি বলেন, আপনারা একদিকে অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় বেতন বেশি নেন। অন্যদিকে ব্যাংক লোকসানে। এটা কোনোভাবেই সম্ভব হতে পারে না। লোকসানে থাকা বেসিক ব্যাংক লাভজনক অবস্থায় না ফিরলে কর্মী ছাঁটাইয়ের হুমকি দেয়া হয়। তিনি জানান, ব্যাংকের কোনো শাখা টানা তিন বছর লোকসান হলে শাখা বন্ধ করে দেয়া হবে। একইসাথে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বেনামে ঋণ গ্রহিতাদেরও ছাড় দেয়া হবে না। দুর্দশায় থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকের সম্মাননা ক্রেস্টও গ্রহণ করেননি অর্থমন্ত্রী। 

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীকে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে সম্মানসূচক ক্রেস্ট দিতে চাইলে, তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি এখন ক্রেস্ট নেব না। এক বছরে যদি বেসিক ব্যাংক ভালো করতে পারে তাহলে ক্রেস্ট নেব। আপনারা ভালো করেন আগামীতে আপনাদের সঙ্গে আমরা পিকনিক করব। এ সময় অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে থাকা অন্য অতিথিরাও ক্রেস্ট গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মাজিদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রফিকুল আলম। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম ও অতিরিক্ত সচিব ফজলুল হক।

বেসিক ব্যাংককে আল্টিমেটাম দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দুই বছর বেসিক ব্যাংকের যেসব শাখা লোকসান দিয়েছে এ বছরও যদি তারা লোকসান দেয়, তাহলে ওইসব শাখা বন্ধ করে দেয়া হবে। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রায় ৩৬টি শাখা লোকসানে আছে।

বেসিক ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, আপনারা ৩৫৪ কোটি টাকা লোকসান করেছেন। মাত্র ৭২টা ব্রাঞ্চের জন্য এখানে প্রায় ২১০০ জনবল আছে। এত লোকের এখানে কী কাজ? তিনি বলেন, আপনারা একদিকে অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় বেতন বেশি নেন। অন্যদিকে ব্যাংক লোকসানে। এটা কোনোভাবেই সম্ভব হতে পারে না। বেতন কমানো হবে। আপনারা কর্মকর্তারা সবাই বসে সিদ্ধান্ত নেন। কীভাবে কত কমাবেন। সিদ্ধান্ত আমাকে জানান। এরপর আমি আমার সিদ্ধান্ত জানাব।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এখানে আমি বার বার আসব না। আজকে এসেছি আপনাদের একটা সুযোগ দিয়ে গেলাম। ব্যাংক কীভাবে ঘুরে দাঁড়াবে সে প্ল্যান দেন। আপনারা একটু সামনে এগুলে আমরাও এগোব। না হলে আমরাও এগোব না। আপনারা আপনাদের কাজ করেন। আমরা আমাদের কাজ করব।

তিনি বলেন, ‘কোনো কর্মকর্তা কাজ না করলে, অনিয়ম করলে একবার বলব, দ্বিতীয় বার বলব না। চাকরি থাকবে না। আপনি কোর্টে যান। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু কোনো দিন আমাদের ভালোবাসা পাবেন না।

মুস্তফা কামাল বলেন, বেসিক ব্যাংকের ৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা খেলাপি তাদের কাছে যান। ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৯ শতাংশ সুদে ১০ বছরের মধ্যে ঋণ পরিশোধের সুবিধা নিতে বলেন। যারা ঋণ শোধ করতে চান তাদের সর্বোচ্চ সহায়তা করব। যারা টাকা মারার ধান্ধায় আছেন তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, যারা বেনামে ঋণ নিয়েছে টাকা ফেরত না দেয়ার জন্য, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। তাদের পেছনে আমরা এজেন্সির লোক নিয়োগ দেব। দেশ-বিদেশে যেখানেই থাকুক তাদের বের করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা ঋণ আদায় সহজ করে দেব কিন্তু ঋণ মাফ করতে পারব না। তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংকে বিশেষ নিরীক্ষা চলছে। ঋণ বিতরণ অনিয়মের ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তার যোগসূত্র থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংকে স্পেশাল অডিট করা হবে। অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কম হলেও শাস্তি দেয়া হবে। এ সময় লোকসানে থাকা ব্যাংকটি লাভজনক অবস্থায় না এলে বিভিন্ন শাস্তির পাশাপাশি কর্মী ছাঁটাইয়েরও হুমকি দেয়া হয়।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ব্যাংক ইচ্ছা করলে খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারে। ঋণ আদায়ে শক্ত হতে হবে। বর্তমানে দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্টে সরকার পুনঃতফসিলের সুযোগ দিয়েছে। এটি গ্রহণ করে কেউ যদি আসে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। এতো দুর্নাম নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সরকারি চাকরিজীবীদেরও ব্যবস্থা নেয়া যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব কর্মকর্তা কাজ না করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মাজিদ বলেন, বেসিক ব্যাংকে বেশ কিছু ঋণের অনিয়ম হয়েছিল। আমরা অনিয়মগুলো নিহ্নিত করে ঋণ আদায় ও পুনঃতফসিল করি। কিন্ত দেখা গেছে পুনঃতফসিল করা ঋণও আবার খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। এখন নন পারফরমেন্স লোন ৫৯ শতাংশে এসেছে। পূর্বে যা ছিল ৬৭ শতাংশ। এ অবস্থায় আমাদের মূলধন সহায়তা প্রয়োজন। তা পেলে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ