ঢাকা, শুক্রবার 2 August 2019, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৯ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

নতুন মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ গতিশীল করা সম্ভব নয়

স্টাফ রিপোর্টার: বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমাতে ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতি দিয়ে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ গতিশীল করা সম্ভব নয়। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা এমন মত দিয়ে বলেছেন, গতানুগতিক মুদ্রানীতি নয়, বরং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি আরো কঠোর হতে হবে। 

গবর্নর ফজলে কবির জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক খাতকে জাতীয় অর্থনীতিতে স্বীকৃতিতে নেয়ার উদ্যোগ নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতেই এবারের মুদ্রা নীতিতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে গত মুদ্রানীতির চেয়ে সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য বাড়িয়ে কমানো হয়েছে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলেছেন, অর্থনীতি খাতে ঋণ না বাড়লে তা অর্থনীতির জন্য সুখকর হবে না। তার মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগকে উৎসাহ দেয় এমন নীতি প্রণয়ন করা।

বিশ্লেষনে বলা হয়েছে, ব্যাংকিং খাতে তারল্য সংকট না কাটলে বিনিয়োগ কোনভাবেই বাড়বে না। আর বিনিয়োগ না বাড়লে দেশে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে না। সে জন্য ব্যাংকিং খাতে আগে শৃংখলা ফিরিয়ে আনতে হবে। তা না কোনভাবেই বেসরকারিখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো যাবে না। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও কঠোর হতে হবে। 

অর্থনীতিবিদ ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংক তার মুদ্রানীতির মাধ্যমে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগকে তরান্বিত করা জন্য কোনো ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গবর্নর খন্দকার ইব্রাহিম খালিদ বলেন, এই মুহূর্তে যারা ব্যাংকে টাকা রাখছেন তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে একমত। তবে বিনিয়োগের মতো রাস্তা যদি ফিরে আসে তাহলে যে তারল্যের দরকার হবে তা ব্যাংকের কাছে নেই।

তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে হলে তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে হবে। তা না হলে বিনিয়োগ কোনভাবেই বাড়বে না। আর তারল্য সংকট কাটাতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আরও নজরদারি বাড়াতে হবে। একই সাথে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আরও কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ