ঢাকা, শুক্রবার 2 August 2019, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৯ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

 

স্পোর্টস রিপোর্টার : শ্রীলংকায় ব্যর্থ সিরিজ শেষে দশে ফিরেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। গতকাল বাংলাদেশ সময় দুপুর পোনে দুইটায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল (র) বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হওয়ায় প্রায় তিন ঘণ্টা দেরি হয় ক্রিকেটারদের দেশে ফিরতে। বুধবার রাতে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচটি খেলে দেশের উদ্দেশে রওনা হয় টাইগাররা। ক্রিকেটারদের জন্য বিমানবন্দরে গতকাল সকাল থেকেই ছিল সংবাদকর্মীদের ভিড়। কিন্তু সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা না বলে তাদের এড়িয়ে গিয়েছে পুরো দল। ভারপপ্রাপ্ত অধিনায়ক তামিম ইকবাল কিংবা কোচ খালেদ মাহমুদ সুজন, সবাই এড়িয়ে গেছেন সংবাদমাধ্যমকে। আগে থেকেই বিমানবন্দরের সামনে রাখা ছিল ক্রিকেটারদের গাড়ি। বেরিয়ে সোজা গাড়িতে উঠে যে যার মতো ছেড়ে যান বিমানবন্দর এলাকা। সবার আগে বের হন সফরে চরম ব্যর্থ হওয়া অধিনায়ক তামিম ইকবাল। বিশ্বকাপ ব্যর্থতা ভুলতে সিরিজ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে শ্রীলংকা গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তামিমের নেতৃত্বে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে ফিরতে হয়েছে তাদের। প্রধম ম্যাচে ৯১ রানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারে টাইগাররা। অন্তত শেষ ম্যাচটিতে জয় দিয়ে রাঙিয়ে ফেরার স্বপ্ন দেখেছিল সফরকারীরা। উল্টো ১২২ রানের বড় ব্যবধানে হেরে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবতে হয়।এই সিরিজে ইনজুরির কারণে শেষ মুহূর্তে দল থেকে ছিটকে যান নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা ও অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। আর বিশ্বকাপের পর ছুটি নিয়ে রেখেছিলেন সাকিব আল হাসান ও লিটন দাশ। তবে দেশের ফেরার পথে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ দল। বিমানে যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ৩ ঘণ্টা বিলম্ব হয় তামিমদের। নির্ধারিত সময়ে আকাশে উড়াল দেওয়ার কিছুক্ষণ পর শ্রীলংকা এয়ারলাইন্সের ইউএল-১৮৯ ফ্লাইটটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হয়। পরে অন্য বিমানে দেশের পথে রওনা হন তামিমরা। প্রথম দুটি ম্যাচ হেরে এক ম্যাচ আগেই সিরিজ হারে বাংলাদেশ। 

তকেব শেস ম্যাচে জিতে হোয়াইটওয়াশ থেকে বাচতে চেয়েছিল টাইগাররা। কিন্তু সেটা পারেনি বাংলাদেশ। কিন্তু কলম্বোর তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে সফরকারীরা হেরেছে ১২২ রানের আরো বড় ব্যবধানে। শেষ ম্যাচে ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে সৌম্য সরকার ও তাইজুল ইসলাম লড়াই করলেও লাভ হয়নি। লজ্জার হারে শেষ হলো লঙ্কা মিশন। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ ওভারে করা ২৯৪ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৩৬ ওভারেই অলআউট ১৭২ রানে। তাতে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০তে হেরে হোয়াইটওয়াশ মাশরাফি-সাকিববিহীন বাংলাদেশ। এ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে টানা দ্বিতীয়বার হোয়াইটওয়াশ হওয়ার লজ্জায় ডুবলো তামিমরা। বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফরেও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। অন্যদিকে ২০১৪ সালের পর আবার শ্রীলংকার কাছে হোয়াইটওয়াশ হতে হলো তাদের। অথচ সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স কিংবা আইসিসির র‌্যাংকিং- দুই জায়গাতেই শ্রীলংকার চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত সিরিজে দেখা গেলো উল্টোটাই। তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন দলকে হেসেখেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিয়েছে স্বাগতিক শ্রীলংকা। শ্রীলংকা সফরে হোয়াইটওয়াশ হয়ে সিরিজ হারের ধাক্কা লেগেছে র‌্যাঙ্কিংয়েও। অবস্থানের পরিবর্তন না হলেও রেটিং পয়েন্ট ঠিকই কমেছে। সিরিজের তিন ম্যাচেই লজ্জাজনক হারে সবমিলিয়ে ৪ রেটিং পয়েন্ট হারিয়েছে বাংলাদেশ। সফর শুরুর আগে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৯০। বর্তমান পয়েন্ট ৮৬। তবু আগের মতোই র‌্যাঙ্কিংয়ের সাথেই অবস্থান টাইগারদের। বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট কমলেও বেড়েছে শ্রীলংকার পয়েন্ট। বাংলাদেশের চেয়ে এক ধাপ নিচে থাকা লঙ্কানদের রেটিং পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২-এ। সিরিজ শুরুর আগে তাদের রেটিং পয়েন্ট ছিল ৭৯। এদিকে শীর্ষে থাকা ইংল্যান্ডের রেটিং পয়েন্টও বেড়েছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ পাওয়া ইংলিশদের ২ রেটিং পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫-এ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভারতের রেটিং পয়েন্ট (১২২) আগের অবস্থানেই আছে। র‌্যাঙ্কিংয়ে অবস্থানের নড়চড় না হলেও ১ রেটিং পয়েন্ট করে বেড়েছে অস্ট্রেলিয়া (১১২) ও নিউজিল্যান্ডের (১১৩)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ