ঢাকা, শুক্রবার 2 August 2019, ১৮ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৯ জিলক্বদ ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মাঠে নামলেন সাকিব

স্পোর্টস রিপোর্টার : বিশ্বকাপের পর শ্রীলংকা সফরেও ব্যর্থ তামিম ইকবাল। অথচ তামিমের ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হওয়ার সুযোগ ছিল শ্রীলংকাা সিরিজে। কিন্তু তামিম সেটা পারেননি। শ্রীলংকায়ও ছিল ব্যর্থতার মিছিল। তিন ম্যাচ মিলে তার ছিল ২১ রান। দেশসেরা ওপেনারের নামের সঙ্গে যা বড্ড বেমানান! এমন ব্যর্থতার পর তামিমকে বিশ্রামের পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। গতকাল বনানীর বিদ্যা নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশ নেন সাকিব। সেখানেই শ্রীলংকা সিরিজসহ তামিম প্রসঙ্গে কথা বলেন তিনি। সাকিব বলেন, ‘দেখুন একজন খেলোয়াড়ের এরকম বাজে সময় যেতেই পারে। আমার কাছে মনে হয় এই মুহূর্তে তামিমের বিশ্রাম দরকার। রিকভার করা, ফ্রেশ হওয়া এবং শক্তভাবে কামব্যাক করার জন্য এই বিশ্রামটা দরকার। আমি নিশ্চিত ও(তামিম) এটা করবে।’ শ্রীলংকার বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়াটা মেনে নিতে পারছেন না সাকিবও। সাকিব বলেন, ‘হতাশাজনক অবশ্যই। সিরিজ হারলেও একটা ম্যাচ যদি জিতে আসতে পারতাম তা আত্মবিশ্বাসের জন্য কাজে আসতো, কিন্তু তা হয়নি। ব্যর্থতার কেন তা মিডিয়ার সামনে বলতে চাই না। দলের সঙ্গে যারা আছেন, নীতি নির্ধারক, কোচিং স্টাফ যারা আছেন এদের সঙ্গে আলাপ করে সমস্যা সমাধান করাটাই ভালো।’ তবে লঙ্কানদের বিপক্ষে এভাবে হারার পর নতুন করে পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে মনে করেন টেস্ট অধিনায়ক, ‘এখন সময় এসেছে ভালোভাবে কিছু পরিকল্পনা করার। যেন পরের তিন-চার বছর এর সুফল পাওয়া যায়। আমি নিশ্চিত বিসিবিতে যারা আছেন এটা নিয়ে চিন্তাা করছেন। ইতোমধ্যেই আমাদের দুজন কোচও নিয়োগ দিয়েছেন। হয়ত পুরো কোচিং স্টাফ একসঙ্গে হলে বোর্ডকে একটা পরিকল্পনা দিতে পারবে। তাতে আমাদের ক্রিকেট গত চার বছরে যতদূর এগিয়েছে, সেখান থেকে আরও এগিয়ে যাবে।’ বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্স করেও শ্রীলংকাা সিরিজ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন সাকিব। বোর্ডের কাছে ছুটি পেয়ে নিজের মতো করে কাটিয়েছেন কিছুটা সময়। সাকিব ভক্তদের ধারণা দলে সাকিব থাকলে এমন চিত্র হতো না। সাকিব অবশ্য এমনটা মনে করছেন না, ‘দেখুন বলা যায় না। ক্রিকেট এক বলের খেলা। তাই তিন বলে তিনদিন আউট হয়ে গেলে, হয়ত কিছু নাও করতে পারতাম (হাসি)। আমি মনে করি এটা আমার ব্যক্তিগত ধারণা, ঠিক হতে পারে ভুলও হতে পারে। যখন একজন খেলোয়াড় মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে তখনই তার খেলা উচিত। পুরো ফিট না থেকে খেলা উচিত নয়, কেননা তাতে পারফরম্যান্স দিয়ে দলে ভূমিকা রাখা কঠিন। এই জিনিষগুলো আমাদের বুঝতে হবে। আধুনিক ক্রিকেট যে অবস্থায় এসেছে, তাতে এই বিষয়গুলো ম্যানেজ করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ এদিকে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে। পুরো দেশেই এর ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়েছে। সবাইকে তাই সচেতন হওয়ার পরার্শ দিয়েছেন সাকিব। তিনি বলেছেন, ‘এ বছরের মতো কোনোবারই ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গু এতটা মহামারি আকার ধারণ করেনি। সবার জানা দরকার, বোঝা দরকার যে জিনিসটা কতটা সিরিয়াস হতে পারে।’ সাকিব বলেন,‘আমার একবার ডেঙ্গু হয়েছিল। তাই আমি জানি এটা কতটা কষ্টকর। দেশের অনেকে সিরিয়াস অবস্থায় আছে, অনেকে মারা যাচ্ছে। আমাদের সচেতন হতে হবে। নয়তো এই রোগ থেকে প্রাতকার পাওয়া সহজ হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা সঠিকভাবে জানতে পারব আমাদের কী করা উচিত, কোনও লাভ হবে না। শুধু শুনলাম কিন্তু বুঝলাম না বা কাজটা করলাম না, তাহলে কিন্ত লাভ হবে না।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি যতদূর জানি বনানী বিদ্যানিকেতনে সাড়ে ৬ হাজার ছাত্র আছে। মানে সাড়ে ৬ হাজার পরিবার। তারা যদি একটা পরিবারকেও বলে তাহলে ১৩ হাজার পরিবার জেনে যাচ্ছে। এটা যদি সামান্য পরিমাণেও কাজে আসে, তাহলে আমার এই প্রচারণা সার্থক হবে। আর এটা যেহেতু বাচ্চাদের বেশি আক্রান্ত করে, ওরা যদি আামার একটা কথাও মনে রাখে, তাতেই আমি সফল হবো।’ হজে যাওয়ার বিয়ষটি নিয়েও কথা বলেন সাকিব। সাকিব বলেন, শুক্রবার (আজ) হজে যাচ্ছি। আসার পরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ একটা সিরিজ আছে। ফিট থাকলে ওখানে খেলব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ