ঢাকা, শনিবার 3 August 2019, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ১ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বাগমারায় মিটারে সংযোগ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎ কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু 

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রিয়াজ উদ্দিন (৫২) নামে এক বিদ্যুৎ কর্মীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তারের সাথে ঝুলে থাকা লাশ দুই ঘন্টা পর পুলিশের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা নামিয়েছে। গতকাল শুক্রবার বেলা ১০টার দিকে বাগমারা থানার সন্নিকটে হঠাৎপাড়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে এ ঘটনা ঘটে। রিয়াজ উদ্দিন বাগমারা গ্রামের পশ্চিম পাড়া মৃত ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-১ এর বাগমারা উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ জোনাল অফিসে নিয়মিত দৈনিক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। 

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে থানা সংলগ্ন হঠাৎপাড়ায় রিয়াজ উদ্দিন তার এক সহযোগীকে নিয়ে ৩টি বাড়িতে মিটারে সংযোগ দিতে আসে। এ সময় নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যুৎ অফিসে মোবাইল ফোনে লাইন বন্ধ করতে বলে খুঁটিতে উঠে কাজ করতে থাকে। কিন্তু একই খুঁটি দিয়ে দুইটি বি ও ডি ফিডারের লাইন থাকায় ভুলবশত: সংযোগে একটি বাদে অন্যটিতে মিলে। এতে করে সে খুঁটির উপরেই বিদ্যুতায়িত হয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা ঝলসে মারা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দীর্ঘ সময় ঘিরে রাখে। ঘটনার কিছু পর ফায়ার সার্ভিসের লোক জন আসলেও দুই ঘন্টা পর ১২টার দিকে পুলিশ নিহতের ঝুলন্ত লাশ নামানোর অনুমতি দেয়। বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি বলে জানান।

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঝুলন্ত লাশ নামাতে পুলিশের বাধার কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। ঘটনারস্থল ঘিরে রাখা ও লাশ নামানের ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। একই গ্রামের পাশের লোক রিয়াজের অকাল মৃত্যুতে কাছে যেতে না পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছে। দীর্ঘ দুই ঘন্টা লাশ ঝুলে থাকায় স্থানীয়রা বিড়াম্বনায় পড়ে। এলাকাবাসী আকর্ষিক মৃত্যু হতবাক তাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এব্যাপারে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির-১ এর বাগমারা জোনাল অফিসের ডিজিএম রেজাউল করিম বলেন, রিয়াজ উদ্দিন নিয়মিত দৈনিক কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। সে লাইন ম্যানের সহযোগী হিসেবে থাকতো। কেন সে একা লাইন ম্যানদের ব্যাতি রেখে মিটার সংযোগে গিয়েছে, এসব বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ