ঢাকা, শনিবার 3 August 2019, ১৯ শ্রাবণ ১৪২৬, ১ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বেলকুচিতে ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতে চলছে চিকিৎসার নামে প্রতারণা

বেলকুচিতে ডেন্টাল ক্লিনিকগুলোতে চলছে চিকিৎসার নামে প্রতারণা।

আব্দুস ছামাদ খান, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা: দন্ত চিকিৎসার নামে বেলকুচিতে চলছে প্রতারণা ও রমরমা বাণিজ্য। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে একাধিক ক্লিনিক থাকলেও তার কোনটি (বিডিএস) ডিগ্রিধারী চিকিৎসক দিয়ে পরিচালিত নয়, এমনি অভিযোগ রয়েছে বেলকুচির ডেন্টাল ক্লিনিকগুলিতে। ডিগ্রি নেই কিন্তু তারপরও অনেকই নিজেকে ডাক্তার ডেন্টিস্ট, ডেন্টাল সার্জন, কনসালটেন্ট পরিচয় দিয়ে কিংবা ভুয়া সনদ নিয়ে ক্লিনিক খুলে রমরমা ব্যবসা করছেন। বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) আইন অনুযায়ী শুধু এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রিধারীরাই চিকিৎসা করতে পারবেন। এরমধ্যে বিডিএস ডিগ্রিধারীরা কেবল দাঁতের চিকিৎসা করবেন। কিন্তু বেলকুচিতে বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। দেশে সনদধারী ডেন্টাল সার্জনদের পাশাপাশি বিএসসি ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট, ডিপ্লোমা ডেন্টাল টেকনোলজিস্ট এবং এস,এস,সি পাশ বা পাশ করেন নাই এমন কোয়াকরা (হাতুড়ে ডাক্তার) হরহামেশাই বেলকুচিতে দাঁতের চিকিৎসা করছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, এসব হাতুড়ে ডাক্তারের অপচিকিৎসার কারণে অনেকেই জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াসহ জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা উচিত।
সরেজমিন দেখা যায়, বেলকুচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন গেটের পাশে ‘সমাধান ডেন্টাল, মীম ডেন্টাল, ছিহাদ ডেন্টাল, বীথি ডেন্টাল, জনসেবা ডেন্টাল ক্লিনিকসহ’ বেলকুচির হাট বাজার এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাইন বোর্ড ঝুলিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে আসছে। এ সমস্ত সাইন বোর্ডে ‘স্থায়ী ও অস্থায়ী  ফিলিং, লাইট কিউর মেশিনে ফিলিং, পলিসিং, রুট ক্যানেলসহ নানাবিধ চিকিৎসা করে থাকেন লেখা আছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, একটি দাঁতেরর চিকিৎসা নিতে গেলে দেখা যায়, সে দাঁতের রোগ নির্মূল না হয়ে অন্য দাঁতগুলোর সমস্যা দেখা দেয় এবং ইনফেকশন হয়ে ঘাঁসহ নাবিধ সমস্যা দেখায়।
এ বিষয়ে সমাধান ডেন্টালের ডেন্টিস্ট এবি,এম, জাহিদুল ইসলাম শামীমেরর নিকট জানতে চাইলে, তিনি জানান আমরা বগুড়া থেকে ছয় মাসের একটি কোর্স করে এখানে পলিসং, স্ক্যানিং, দাঁত বাঁধাই, করে থাকি। জটিল রুগিকে আমরা ডাক্তারের নিকট পাঠাই। এ বিষয়ে বেলকুচি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুর রহমান জনান, বিএমডিসি কর্তৃক রেজিষ্টার্ড চিকিৎসক ব্যতীত কেউ ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেনা।  যারা স্বল্পমেয়াদী কোর্স বা প্রশিক্ষণ করে বিভিন্ন ডেন্টাল ক্লিনিকের নামে অপচিকিৎসা করছে ফলে রোগীর ইনফেকশনসহ নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। যারা এধরনের অপচিকিৎসা করছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যহত আছে এবং থাকবে। এ ব্যাপারে বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস,এম, সাইফুর রহমান জানান, এ ধরনের ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যহত আছে, তবে বন্যার কারণে কার্যক্রম কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। তবে খুব দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন জাহিদুল ইসলাম জানান, বিডিএস ডিগ্রীধারী ব্যতীত ডেন্টাল ক্লিনিক পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপত্র দেয়া অবৈধ। তবে এ ধরনের কার্যক্রম কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি পরিচালনা করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ