ঢাকা, সোমবার 5 August 2019, ২১ শ্রাবণ ১৪২৬, ৩ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ

গাইবান্ধায় ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে

# এ পর্যন্ত মারা গেছে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপির স্ত্রীসহ ৫৪ জন, সরকার বলছে ১৮ # ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে ব্যাপকহারে
ইবরাহীম খলিল : দেশজুড়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ১ হাজার ৮৭০ জন ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী যা আগের দিনের চেয়ে ২২১ জন বেশি। গতকাল সকাল ৮টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৬৪৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়।
পুলিশের একজন অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের স্ত্রী ডেঙ্গু জ্বরে গতকাল ঢাকায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রের খবর অনুযায়ী মশাবাহিত রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন মারা গেলেন। তবে গতকাল পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলে এসেছে যে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ১৮।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৪ হাজার ৮০৪ জন। এদের মধ্যে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন ১৭ হাজার ৩৩৮ জন। আর সারাদেশে বিভিন্ন হাসপাতালে এ জ্বর নিয়ে ভর্তি আছেন ৭ হাজার ৩৯৮ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনে আরো বাড়বে। কেন না আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসই ডেঙ্গু বিস্তারের আসল মৌসুম।
এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি শাহাবুদ্দীন কোরেশীর স্ত্রী  সৈয়দা আক্তারসহ ৩ জন  মারা গেছেন। আর খুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে স্কুলছাত্র মঞ্জুর শেখের। গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান অতিরিক্ত আইজিপির স্ত্রী। ঢাকাতেই গতকাল ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ইডেন কলেজের ছাত্রী শান্তা তানভির। রাজধানীর জাপান ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে বিকালে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শান্তার শিক্ষক আজগর আলী কাঞ্চন। এছাড়া খুলনা মেডিকেলে গত রাতে মৃত্যু হয় মর্জিনা বেগম নামে এক নারীর।
রোববার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৮৭০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এবছর একদিনে এটাই সর্বোচ্চ। এরমধ্যে রাজধানীতে ১০৫০ জন এবং ঢাকার বাইরে ৮১৭ জন। গড়ে ঘণ্টায় প্রায় ৭৮ জন করে রোগী ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। এর আগে শুক্রবার সকাল ৮ টা থেকে শনিবার সকাল ৮ টা পর্যন্ত ভর্তি হয়েছিলো ১৬৪৯ জন। সেই হিসেবে একদিনে ২২১ জন বেড়েছে। ঢাকায় ছিলো ৯৬৫ জন। বেড়েছে ৮৫ জন। ঢাকার বাইরে ছিলো ৬৮০ জন, বেড়েছে ১৩৭ জন। হিসাব অনুযায়ি রাজধানীর চেয়ে ঢাকার বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের দৈনিক প্রতিবেদনে গতকাল রোববার জানানো হয়, ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৮১৭ জন। এছাড়া, রিপোর্টটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সর্বমোট মৃতের সংখ্যা বলা হয়েছে ১৮ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে চলতি বছরে ২৪ হাজার ৮শ ৪ জন রোগী বিভিন্ন সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৭ হাজার ৩শ ৮৮ জন রোগী সুস্থ হয়েছেন ও বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন৭ হাজার ৩শ ৯৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুসারে, ঢাকা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ১৩৪ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৯৭ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতাল ৩৯ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ৫৫ জন ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়াও, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেণ্ট হাসপাতালে ৩০ জন, বারডেম হাসপাতালে ১৩ জন, বিএসএমএমইউতে ২৬ জন, রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ১৭ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৩ জন, পিলখানা বিজিবি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ৩৬ জন, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ১১৩ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ঢাকা শহরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে নতুনভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৪০৩ জন রোগী। এদের মধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৫ জন, ধানমন্ডি ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ২০ জন, ধানমন্ডি কমফোর্ট নার্সিংয়ে ১ জন, শমরিতা হাসপাতালে ১০ জন, ল্যাব এইড হাসপাতালে ৮ জন, সেণ্ট্রাল হাসপাতালে ২৭ জন, হাই কেয়ার হাসপাতালে ৮ জন, হেলথ এন্ড হোপ হাসপাতালে ৩ জন, গ্রীন লাইফ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৭ জন, কাকরাইল ইসলামী ব্যাংক সেণ্ট্রাল হাসপাতালে ২১ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়াও, খিদমা জেনারেল হাসপাতালে ৬ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ২৩ জন, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩ জন, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৩ জন, অ্যাপোলো হাসপাতালে ১৫ জন, আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, বিআরবি হসপিটালস লিমিটেডে ৬ জন, আজগর আলী হাসপাতালে ২৮ জন, উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৯ জন, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৭ জন, সালাউদ্দিন হাসপাতালে ৯ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৮ জন ও আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়া, ঢাকা বিভাগের জেলা শহরগুলোতে ২১৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৫৯ জন ও খুলনা বিভাগে ১২৭ জন রোগী ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও রংপুর বিভাগে ৫৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৮৩ জন, বরিশাল বিভাগে ৭৮ জন, সিলেট বিভাগে ৩১ জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগে ৭০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব  মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলোজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী বলেন, ঢাকা থেকেই ডেঙ্গু রোগ ঢাকার বাইরে ছড়িয়েছে। রাজধানীর বাইরে যারা আক্রান্ত তারা সম্প্রতি কখনো না কখনো ঢাকায় এসেছিলেন বা যারা গেছেন, তাদের থেকে অন্যদের ছড়িয়েছে। 
এদিকে ঢাকার বাইরের সব জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। শনিবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৯০৫ জন। আর  শুক্রবার (২ আগস্ট) এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ১৯০ জন, বৃহস্পতিবার ছিল ৩ হাজার ৪৬৪ জন। বর্তমানে রোগী ভর্তি আছেন ২ হাজার ৩৮১ জন। আর চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২ হাজার ৫২৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অ্যান্ড অপারেশন্স সেণ্টার ও কণ্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৮৫৮ জন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৪৩ জন। রাজধানীর বাইরে ঢাকা বিভাগের ১২ জেলায় মোট ভর্তি আছেন ৪২৮ জন, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ২১৫ জন।
গত ১ আগস্ট পর্যন্ত  চট্টগ্রাম বিভাগের খাগড়াছড়িতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১১ জন জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. নয়নময় ত্রিপুরা জানান, ‘আক্রান্ত সব রোগীই ঢাকা থেকে এসেছেন। সংখ্যা বাড়ায় ডেঙ্গু রোগীদের আলাদা একটি ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’ চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ১১ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ১২৯ জন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৪৩২ জন।
চাঁদপুরে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। শুক্রবার (২ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত গত এক মাসে ১৩১ জন ডেঙ্গু রোগী চাঁদপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৯ জন এখনও চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত জুন মাসে এখানে চার জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নেন। জুলাইয়ে ভর্তি হন ১০০ জন। আক্রান্তদের কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
৩ আগস্টে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫৮০ জনে উন্নীত হয়েছে। খুলনা স্বাস্থ্য অধিদফতর (রোগ নিয়ন্ত্রণ) শনিবার জানায়, গত ১ জুলাই থেকে ৩ আগস্ট বেলা ৩টা পর্যন্ত খুলনা জেলায় ১৪২ জন ও যশোর জেলায় ১৪৮ জন, বাগেরহাটে ১৮ জন, সাতক্ষীরায় ৩৪ জন, ঝিনাইদহে ৫০ জন, মাগুরায় ২৮ জন, নড়াইলে ১৯ জন, কুষ্টিয়ায় ১১২ জন, চুয়াডাঙ্গায় ২১ জন ও মেহেরপুরে ৮ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন।
খুলনা স্বাস্থ্য অধিদফতরে (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সহকারী পরিচালক ডা. ফেরদৌসী আক্তার বলেন, ‘শুক্রবার বিকাল থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে নতুন ৭১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন। এর মধ্যে খুলনায় ৯ জন, সাতক্ষীরায় ৩ জন, বাগেরহাটে ৮ জন, যশোরে ১৪ জন, ঝিনাইদহ ৭ জন, মাগুরায় ৮ জন, নড়াইলে ১ জন, কুষ্টিয়ায় ১৫ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন ও মেহেরপুরে ২ জন রয়েছেন।
এদিকে, যশোরে গাণিতিক হারে ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে বলে জানিয়েছেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘এ হাসপাতালে ২৮ জুলাই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিলেন ৩১ জন, ২৯ জুলাই ৩৭ জন, ৩০ জুলাই ৫০ আর আজ ৩১ জুলাই ৬৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে ৫৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।’
একইভাবে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নূরুন নাহার বেগম জানান, কুষ্টিয়ায় ডেঙ্গুআক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে শিশুসহ ৩১ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ময়মনসিংহ বিভাগের পাঁচ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ২৭৭ জন। খুলনা বিভাগের খুলনা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ১০ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৬৩ জন, বর্তমানে ভর্তি আছেন ৪০৯ জন।
রাজশাহী বিভাগে রাজশাহী  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ৮ জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৬৯ জন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩২৫ জন। রংপুর বিভাগে রংপুর  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৫৪ জন, বর্তমানে ভর্তি আছেন ২১৩ জন। বরিশাল বিভাগে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজসহ ছয় জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৬৭ জন, বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১৯৭ জন। বরিশাল শের-ই-বাংলা  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন জানান, শনিবার (৩ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৬ জন।
সিলেট বিভাগে এমএজি ওসমানী  মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ চার জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন ৩১ জন, বর্তমানে ভর্তি আছেন ১০০ জন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে, সামনে ঈদের সময় মহাদুর্যোগে পরিণত হবে। ভয়াবহভাবে সারাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ারও আশঙ্কা করছেন।
ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেণ্ট সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। আসন্ন ঈদের সময়ে লাখ লাখ মানুষ ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে ঢাকার বাইরে যাবে। তখন আরও অনেকেই আক্রান্ত হবে।’
এদিকে, অবহেলার কারণে ডেঙ্গু সারাদেশে ছড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ  মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব। তিনি বলেন, ‘সারাদেশে ডেঙ্গু ছড়িয়েছে। এখন স্বাস্থ্য অধিদফতরকে দেশের সব জেলা-উপজেলার চিকিৎসকদেরকে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দিতে হবে, সচেতন করতে হবে।’
গত কয়েক দিন ধরেই ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। কেন বাড়ছে জানতে চাইলে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এএসএম আলমগীর বলেন, ‘ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু বাড়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে, ঢাকায় সেসব শিক্ষার্থী মেসে থাকেন, তারা অনেকেই ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে ঢাকা ছেড়েছেন, বাড়ি গেছেন। তবে গ্রামাঞ্চলে ছড়ানোর আরেকটি কারণ হলো, এডিস এজিপ্টি মশা যেমন নাগরিক মশা, শহরের মশা, মানুষের বাড়িঘরে থাকে তেমনি এডিস অ্যালবোপিকটাস গ্রামাঞ্চলে তাকে। এই এডিস অ্যালবোপিকটাস যদি কোনও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে কামড় দেয়, তাহলে সেও ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। তাই গ্রামে যারা যাচ্ছে এরা গিয়ে সেখানে যে মশার কামড় খাচ্ছে তাতে করে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে।’
এদিকে, স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা বলেন, “ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঈদের সময়ে যখন মানুষ ঢাকা ছাড়বেন, তখন তারা ‘রিজার্ভার’ হিসেবে কাজ করবেন।’’ যখন এডিস মশা সেসব এলাকায় থাকে, তখন সেসব মশার মাধ্যমে ডেঙ্গু ছড়াবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত রোগীদের লম্বা সারি দেখা গেছে। তাদের মধ্যে অধিকাংশ শিশুরই ডেঙ্গু হয়েছে কি-না, তা জানতে ও চিকিৎসা নিতে এসেছে। এছাড়াও শিশুদের নানা রোগ নিয়ে এখানে ভিড় জমাচ্ছেন অভিভাবকরা। কয়েকজন রোগীর অভিভাবক জানান, তারা এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চিকিৎসক দেখাতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।
এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা মঞ্জু মিয়া বলেন, ‘দুই মাস সাত দিন বয়স আমার বাবুর। ওর জ্বর, পাতলা পায়খানা। তাই ওকে ডাক্তার দেখাতে নিয়ে আসছি।’মিরপুর-১০ থেকে আসা নূর নবি বলেন, ‘আমার ৬ মাস বসয়ী বাবুর ডেঙ্গু হয়েছিল। ভালো হয়ে যায়। আবার জ্বর আসছে। তাই ডাক্তার দেখাতে নিয়ে এসেছি। এখনও এক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।‘তার অভিযোগ, ‘যে যার মতো করে পরিচিতদের চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকাচ্ছে। এ জন্য এত দেরি হচ্ছে।’ মিরপুর-১ থেকে নাতিকে নিয়ে এসেছেন রোকেয়া। তার ১ মাস বয়সী নাতি রিহাদের পেটে ও চোখের সমস্যা। তিনিও এক ঘণ্টা ধরে শিশু হাসপাতালের এ জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শায়লা ইমাম কান্তা বলেন, ‘গত শুক্র ও শনিবার রোগীর ভিড় বেশি ছিল। বন্ধের দিন থাকায় সাধারণত এ দুদিন বেশি রোগী ছিল। আজও আছে, তবে তা স্বাভাবিক। আমরা রোগীদের সাধ্যমতো চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করছি।’ এই চিকিৎসক জানান, শিশু হাসপাতালে শনিবার পর্যন্ত ১৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন। এ বছর হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক শাহাব উদ্দীন কোরেশীর স্ত্রী সৈয়দা আক্তার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। প্রায় ১০ দিন রোগে ভুগে মৃত্যু হয় তার। রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডির স্কয়ার হাসপাতালে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি তিনজন সন্তান রেখে গেছেন।
স্কয়ার হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, ‘ডেঙ্গু নিয়ে সৈয়দা আক্তার শনিবার আমাদের হাসপাতালে আসেন। সকাল থেকে তার শরীরের অবনতি হতে থাকে। পরে সাড়ে এগারোটার দিকে তার মৃত্যু হয়।’ খবর পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল হাসপাতালে ছুটে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন একাধিক কর্মকর্তা।
প্রিয়জনকে হারানোর এই খবরটি দেশের বাইরে বসে শুনেছেন অতিরিক্ত আইজি কোরেশী। তিনি বর্তমানে সরকারি সফরে ব্রাজিলে আছেন। স্ত্রী বিয়োগের কথা শুনে তিনি দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হন। সোমবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
সৈয়দা আক্তার জ্বর নিয়ে গত ২৬ জুলাই ডেঙ্গু নিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি হন বলে জানিয়েছেন তার একজন স্বজন। পরে সেখানে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরিবারের আরো দুই জন সদস্যও আক্রান্ত হন জ্বরে। তাদের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলেও ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল সৈয়দা আক্তারের অবস্থা। শনিবার ওই হাসপাতাল থেকে অতিরিক্ত আইজিপির পত্নীকে নেয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে। সকালে অবস্থার অবনতি হয়। চাকরি জীবনে একজন সৎ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত শাহাব উদ্দীন কোরেশী। তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর রাজবাগের পুলিশ অফিসার্স বাসভবন মেঘনায় বাস করতেন।
খুলনায় ডেঙ্গু জ্বরে স্কুল ছাত্রসহ দুইজনের মৃত্যু
খুলনা অফিস : খুলনায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্কুল ছাত্র মো. মঞ্জুর শেখ (১৫) ও বৃদ্ধা মর্জিনা বেগম (৭০) নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে খুলনার বেসরকারি গাজী মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঞ্জুর মারা যায়। আর শনিবার দিবাগত রাত ১২টার  দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মর্জিনা বেগম। এদিকে, এ ঘটনার পর নিহতের বাড়িতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার, স্বজন, সহপাঠী ও প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায় মা-বাবা।
জানা গেছে, মঞ্জুর শেখ রূপসা উপজেলার কাজদিয়া সরকারি কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র। সে উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের উত্তর খাজাডাঙ্গা গ্রামের সবজি বিক্রেতা মো. বাবুল শেখ ওরফে বাবু’র ছেলে। মঞ্জুর দুই ভাই-বোনের মধ্যে বড়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঞ্জুর শেখ কয়েকদিন ধরে প্রচ- জ্বরে ভুগছিল। সাধারণ জ্বর ভেবে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কিন্তু কোনও উন্নতি না হওয়ায় শনিবার তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। কিন্তু অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরবর্তীতে সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলেও সেখান থেকে তাকে ফেরত দেয়া হয়। পরে নেয়া হয় গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ভর্তির পর কয়েক ব্যাগ রক্তও দেয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে মঞ্জুর মারা যায়।
স্থানীয় টিএসবি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘প্রথমে মঞ্জুরের জ্বর হলেও কেউ বুঝতে পারেনি এটি ডেঙ্গু। তবে জ্বর মারাত্মক হলে তাকে শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুমেক হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যায়ে অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো যায়নি।’
খুমেকের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. পার্থ প্রতীম দেবনাথ বলেন, ‘ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মর্জিনা বেগম। তিনি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার ব্রহ্মগাতি গ্রামের ইসরাইল সরদারের স্ত্রী। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
মর্জিনা বেগমের স্বজনরা জানান, ডেঙ্গু ছাড়াও মর্জিনা বেগম লিভার রোগে আক্রান্ত ছিলেন। লিভারের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় গিয়ে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন তিনি। পরে  খুলনায় এসে সপ্তাহখানেক খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। শনিবার বেশ অসুস্থ হয়ে রাতে মারা যান তিনি।
খুলনার সিভিল সার্জন ডা. এএসএম আবদুর রাজ্জাক মর্জিনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে স্কুলছাত্র মঞ্জুর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে কিনা সেটি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।
এদিকে খুলনা বিভাগের বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। শুধু পরিধি বাড়ছে তাই নয়, বাড়ছে প্রতিদিন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। অনুযায়ী (১ জুলাই-৩ আগস্ট) খুলনা বিভাগের ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮০ জন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় রয়েছে ১৪৫ জন। যার মধ্যে ২ জন শিশু রয়েছে। ডায়াবেটিস, গর্ভবতী, কিডনীজনিত রোগ, লিভারজনিত রোগ ও বয়স্ক ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।
এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ দুইটি ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ৪০ শয্যা বেড চালু করেছেন। রোগীর চাহিদার তুলনায় হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ সনাক্তকরণ কিটস অনেক কম। ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মনে আতঙ্কও বাড়ছে। হাসপাতালে মশক নিধন কার্যক্রমে খুলনা সিটি কর্পোরেশন পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেই বলে রোগীর স্বজনরা জানান।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, রোগীর চাহিদা অনুযায়ী তার হাসপাতালে ডেঙ্গু সনাক্তকরনের কিটস খুবই কম। মাত্র ৩০টি কিটস শনিবার সকালে ম্যানেজ করা হয়েছে। আগামী ২-১ দিনের মধ্যে আরো কিটস চলে আসবে বলে তিনি আশাবাদী। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরি বিভাগে নিচ তলায় শনিবার থেকে আরও ২০টি বেড চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ৪০ শয্যা বেড চালু রয়েছে।
খুমেক হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম তুষার আলম বলেন, জ্বর, গায়ে ব্যথা, দুর্বলতা, মাংসপেশিতে ব্যথা, বমি বমি ভাব এ সমস্ত লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তাদেরকে এনএসওয়ান টেস্ট করে ডেঙ্গু জ্বর নিশ্চিত করে ৯৮ জনকে ডেঙ্গু জ্বরে সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ জন শিশু রয়েছে। যারা একাধারে ৫ দিনের বেশি জ্বরে ভুগছেন তাদেরকে এন্টিবডি টেস্ট করিয়ে নিশ্চিত করা হচ্ছে ডেঙ্গুর লক্ষণের বিষয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এফসিপিএস (মেডিসিন) বিশেষজ্ঞ ডা. শৈলান্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, ডেঙ্গু জ্বরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যাদের কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি, কাশি বেশি হচ্ছে তাদের চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
খুমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে চিকিৎসাধীন অখিল জানান, গত মঙ্গলবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে ঢাকায় থাকাকালীন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। ঢাকায় ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার দ্বীপবরন এলাকার বাসিন্দা কমলেসের ছেলে।
খুমেক হাসপাতালে একাধিক রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে খুলনা সিটি কর্পোরেশন থেকে মশক নিধনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। বেড স্বল্পতার কারণে অনেক রোগী বারান্দায় শুয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
হাসপাতালের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, খুমেক হাসপাতালে প্রতি মাসে খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা রাজস্ব প্রদান করা হয়। সেই হিসেবে মশক নিধন কার্যক্রম আজ পর্যন্ত চোখে পড়েনি। কেসিসি শুধু হাসপাতালের বর্জ্য নিয়ে যায়। মশক নিধনের স্প্রে কার্যক্রম কোনো দিনও চোখে পড়েনি।
সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গু আতঙ্ক
কবির আহমদ, সিলেট :  রাজধানী ঢাকার পর গত ৭ জুলাই থেকে সিলেট বিভাগে বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিনই নতুন নতুন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লেও সিলেটে নেই পর্যাপ্ত পরীক্ষা সরঞ্জাম। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সিলেট বিভাগে প্রায় দু’শতাধিক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া গেছে। এদিকে, সিলেট নগরীতেই মিলেছে এডিস মশার লার্ভা। ফলে ডেঙ্গু আরও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বুধবার সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ঢাক-ঢোল পিটিয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করে মশক নিধনের ঔষধ প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রেরণ করা হয়েছে ঘোষণা দিলেও এর বাস্তব চিত্র দেখছে না নগরবাসী। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে এখনও মশার ঔষধ সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ভয়ে আতঙ্কে নিজ উদ্যোগে অনেক সামাজিক সংগঠন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান করছেন।
অপরদিকে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়লেও সিলেটে নেই ডেঙ্গু পরীক্ষার যথেষ্ট কিট। পুরো বিভাগের জন্য এ পর্যন্ত মাত্র ৫২০কিট বরাদ্ধ পাওয়া গেছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, গত বুধবার সিলেটের ৪ জেলার সিভিল সার্জনদের ১২০টি করে কিট স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে গ্রদান করা হয়। এছাড়া সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আলাদাভাবে গ্রদান করা হয় আরও ৪০টি। ফলে মূলত গত বৃহস্পতিবার থেকেই ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সিলেটের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এর আগে বেসরকারি গ্রতিষ্ঠানেই এ পরীক্ষা করাতে হতো রোগীদের।
স্বাস্থ্য বিভাগ, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার সিলেটে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দুইশ' ছাড়িয়ে গেছে। এরমধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪ জন।
সিলেটের পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. দেবপদ রায় দৈনিক সংগ্রামকে জানান, যে পরিমাণ কিট বরাদ্ধ পাওয়া গেছে তা হয়তো আজকালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তখন আরও কিট গ্রদানের জন্য আমরা মন্ত্রনালয়ে আবেদন করবো।
তিনি বলেন, যতজনের জ্বর হচ্ছে সবাই যদি ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে চায় তাইলে বরাদ্ধ পাওয়া কিটে কিছুই হবে না। তাই মানুষজনকেও সচেতন হতে হবে। জ্বর হওয়া মানেই ডেঙ্গ নয়। এছাড়া এখানকার বেশিরভাগ রোগীই ঢাকায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সিলেটে ভর্তি হয়েছেন। অনেকে ঢাকায়ই পরীক্ষা করিয়ে এসেছেন। ফলে সিলেটের আক্রান্ত সকল রোগীকেই এখানে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে হচ্ছে না।
সিলেট ওসমানী মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন শতাধিক জন। এরমধ্যে ৪৬ জন বর্তমানে ভর্তি আছেন। বাকীরা সুস্থ হয়ে ফিরে গেছেন।
এই হাসপাতালের ডেঙ্গু কর্ণারের দায়িত্বগ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. সুপার্থ ভট্টাচার্য জানান, গত বৃহস্পতিবারের পূর্ব পর্যন্ত আমাদের হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরের রোগীর পরীক্ষা হতো না। বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয় থেকে ৪০টি ও সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে ৫০টি কিট গ্রদান করা হয়। এরপর থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা শুরু হয়েছে। হাসপাতালে এখন কিটের কোনো সঙ্কট নেই বলে জানান তিনি।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, আমরা কাছে আসা ১২০টি কিটের মধ্যে ৫০টি ওসমানী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দিয়েছি। ৭০টি আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। গ্রয়োজন অনুযায়ী আমার কাছ থেকে এগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলেছি।
তিনি বলেন, আপাতত কিটের কোনো সঙ্কট নেই। তবে ঈদের ছুটিতে যখন সবাই বাড়ি আসবে। তখন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। সে সময় কিটের সংখ্যা সঙ্কট দেখা দিতে পারে।
ডেঙ্গু রোগীদের বিনামূেল্য চিকিৎসার দাবিতে
রংপুরে বিক্ষোভ-সমাবেশ
রংপুর অফিস : এডিস মশার বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ডেংগু রোগে আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার দাবিতে গতকাল রোববার দুপুরে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সামনে শ্রমিক অধিকার আন্দোলন ও নিপীড়ণ বিরোধী নারীমঞ্চ বিক্ষোভ-সমাবেশ ও স্মারকলিপি পেশ করেছে।
 পলাশ কান্তি নাগের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য সচিব সুভাষ রায়, সানজিদা আক্তার, সবুজ রায়, পারভীন আক্তার, সুলতানা আক্তার গ্রমুখ।
সমাবেশে বলা হয় প্রতিদিনই ডেংগু রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। রংপুরেও আশংকা জনক ভাবে এডিস মশার বিস্তার ঘটছে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অসংখ্য রোগী ভর্তি হয়েছে। এই রোগীরা ঠিকমত চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। আক্রান্তদের নিয়ে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী চিকিৎসা বাণিজ্যে মেতে উঠেছে। ডেংগু রোগে আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষ মৃত্যুবরণ করলেও সরকারের টনক নড়েনি। উল্টো উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে। এডিস মশার বিস্তার রোধে কার্যকর ভাবে মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করলে দেশের মানুষকে হয়তো এই মহাবিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হতো না। পরে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার নিকট স্মারকলিপি গ্রদান করা হয়। মেয়র এসময় এডিস মশা নিধনে সিটি কর্পোরেশন সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে বলে আশ্বস্ত করেন।
নোয়াখালীতে ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু ৯৭ জন আক্রান্ত
নোয়াখালী সংবাদদাতা : ডেঙ্গু জরে এ যাবত ৯৭ জন আক্রান্ত ও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের ৪ জন  নোয়াখালী জেলা কারাগারের কারারক্ষী। বাকিরা নোয়াখালীর বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার্থে হাসপাতালে ভর্তি হয়। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত একমাত্র নোয়াখালী সদর উপজেলার দাদপুরের শাহ আলম অন্য জেলা থেকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নোয়াখালীতে মারা যায়। এ নিউজ জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে প্রান্ত। তাদের মধ্যে ৪৭ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
লক্ষ্মীপুরে ডেঙ্গু জ্বরে ৬১জন আক্রান্ত
লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুর জেলায় গত ১০ দিনে ৬১ জন ডেঙ্গু জ্বরের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের সরকারিভাবে জেলা সদর হাসপাতালসহ অপর ৪টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. নিজাম উদ্দিন। এদিকে গতকাল রবিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করনীয় বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল।
সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ সফিউজ্জামান ভূঁইয়া, জেলা সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. নিজাম উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের সহযোগি অধ্যাপক মাহবুবে এলাহি সানী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সফিকুর রেদোয়ান আরমান শাকিল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর খবিরুল আহসান, পৌরসভার প্যানেল মেয়র কামাল উদ্দিন খোকন, জেলা শিক্ষা অফিসার শরিৎ কুমার চাকমা, জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাসিনা ইয়াসমিন, লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন হাওলাদার, পৌর কাউন্সিলর আবুল খায়ের স্বপন, জহিরুল আলম শিমুল, আহসানুল কবির শিপন প্রমুখ। 
অপর দিকে সিভিল সার্জন নিজাম উদ্দিন জানান, গত ২৬ জুলাই থেকে ০৪ আগস্ট পর্যন্ত জেলা সদর সহ অপর ৪টি উপজেলায় মোট ৬১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে সদর হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৫৩ জন রোগীকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। বর্তমানেও ১৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এছাড়া রামগঞ্জ ১২জন ও রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে ৪ জন রোগী। আক্রান্তদের নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে চিকিৎস্যাসেবা প্রদান করা হয়।
গাইবান্ধায় ডেঙ্গুর গ্রকোপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে
গাইবান্ধা সংবাদদাতা : ডেঙ্গু রোগের গ্রকোপ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। শনিবার পর্যন্ত গাইবান্ধা সদর আধুনিক হাসপাতালে ১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে সিভিল সার্জন জানিয়েছে, গোটা গাইবান্ধা জেলায় এ পর্যন্ত ১৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে সনাক্ত করা গেছে।
এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এই ভয়ে সামান্য সর্দি, জ্বর, কাশি, ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত রোগীরাও হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ফলে হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ২০০ বেডের গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে বেডে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ওয়ার্ডের মেঝেতে এবং করিডরে ভর্তিকৃত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে।
গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক সুত্রে জানা গেছে, ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তদের মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ২ জন সাগর মিয়া ও এনাস, গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৬ জন রাশেদুল, ফাহিম, রুবেল, এনামুল, শ্রাবন ও গ্রিয়া আকতার, সাদুল্যাপুর উপজেলার ২ জন নিশা ও সাজেদা খাতুন, পলাশবাড়ি উপজেলার ৩ জন সুলতানা, শিহাব ও সবুজ মিয়া এবং গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ২ জন পারভেজ ও সাদা মিয়া।
সিভিল সার্জন অফিস সুত্রে জানা গেছে, স্থানীয় পর্যায়ে কেউ ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সকল ডেঙ্গু রোগীরাই সম্প্রতি ঢাকা থেকে ঘুরে এসেছেন এবং সেখান থেকেই তারা ডেঙ্গুর জীবানু বহন করে গাইবান্ধায় এসে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন বলে জানা গেছে।
এদিকে গাইবান্ধা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং সুষ্ঠুভাবে চিকিৎসা গ্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি এডিস মশা নিধনেও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কার্যকর নানা ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ