ঢাকা, সোমবার 5 August 2019, ২১ শ্রাবণ ১৪২৬, ৩ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

উত্তরাঞ্চলে পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়ার শেরপুরে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির এখনও উন্নতি হয়নি। এখনও ভাসছে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকাসহ উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম। পানিবন্দি প্রায় অর্ধ লাখ মানুষ। খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ, জ্বালানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এদিকে আগস্ট মাসে আরও একটি বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক।
বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, যমুনা নদীর পানি কমলেও বাঙালি ও করতোয়া নদীর পানি এখনও বিপদসীমার প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই শেরপুর অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি তেমন বোঝা যাচ্ছে না। গত শনিবার (৩আগস্ট) থেকে এই দুই নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে। এছাড়া পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই।
পৌর শহরের ৩নং ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকাসহ উপজেলার গাড়ীদহ, খামারকান্দি, খানপুর, সুঘাট ও সীমাবাড়ী ইউনিয়নের অন্তত ষাটটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বানভাসি মানুষদের এখন একমাত্র ভরসা নৌকা ও কলাগাছের ভেলা। বসত ভিটায় পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার উঁচু স্থান ও উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছেন। পানিবন্দি অর্ধ লাখ মানুষ ও তাদের গৃহপালিত পশুপাখি নিয়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
খানপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বীয়া জানান, তার ইউনিয়নে সিংহভাগ গ্রাম বন্যা কবলিত। বিশেষ করে সবজি চাষীরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দিনমজুর মানুষ গুলো চরম দুরবস্থায়। তবে এলাকায় এখনও সরকারি কোনো সহায়তা দেওয়া হয়নি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. সারমিন আক্তার জানান, প্রাথমিক জরিপ অনুযায়ী এই বন্যায় তিন হাজার ৫৮২ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা হাতে পেয়েছি। ইতিমধ্যে এই বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনসহ তার দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী সেখ জানান, বন্যা কবলিত এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া তালিকা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও সরকারি সহায়তা প্রদান কার্যক্রম অচিরেই শুরু করা হবে।
এদিকে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, আগস্টে আরও একটি বন্যা দেখা দিতে পারে। সেজন্য সরকার প্রযোজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শনিবার (৩ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে গাইবান্ধা শহরের ঘাঘট নদীর গোদারহাট বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পুনঃসংস্কার কাজ ও বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
জাহিদ ফারুক বলেন, এবারের বন্যায় গাইবান্ধায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের ৩৭টি পয়েন্টে ধ্বসে গেছে। ধ্বসে যাওয়া অংশগুলো জরুরিভিত্তিতে পুনঃসংস্কার কাজের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায় আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসবের সংস্কার কাজ শেষ হবে।   প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আগামীতে এই ধরনের আর কোনো ভোগান্তি হবে না। কারণ, বাঁধগুলো মজবুত করে নির্মাণ করা হবে। যাতে ভাঙ্গনের হাত থেকে বাঁধ ও সম্পদ রক্ষা পায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার কাছে ত্রাণ পৌঁছানো হয়েছে। এসব ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত থাকবে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে এবং কৃষকদের কৃষি পুর্নবাসনের আওতায় আমন চারাসহ বীজ ও সার বিনামূল্যে দেওয়া হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ