ঢাকা, সোমবার 5 August 2019, ২১ শ্রাবণ ১৪২৬, ৩ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

লুটপাট করতেই ‘নিষিদ্ধ’ মশার ওষুধ আমাদানি

গতকাল রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার: ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ লুটপাট করতে নিষিদ্ধ ঘোষিত মশার ওষুধ আমাদানির পাঁতারা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। গতকাল রোববার দুপুরে এক আলোচনা সভায় দলটির মহাসচিব  মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আবারো দুর্নীতি করতে সরকার এবার মশার ‘নিষিদ্ধ’ ঔষধ আমদানির পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, মশার যে ঔষধ। একটা হচ্ছে, মশার ঔষধ নাই, কার্যকর হচ্ছে না। হবে কোত্থেকে? যে  দুর্নীতি তারা করে তাতে তো মশার ঔষধ কার্যকর হওয়ার কথা না। এখন নতুন ঔষধ আনবে, সেখানে আরো দুর্নীতি হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, সেখানে আনা হচ্ছে কী? পত্রিকাতে এসছে। দুইটা ঔষধ আপনার যেটা একেবারেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে থাইল্যান্ডে। সেই দুইটা ঔষধ নাকী আনা হচ্ছে- পত্রিকাতে আছে। আর যে দুইটা ঔষধ আনা হবে তার কার্যকারিতা সম্পর্কে কেউই কিছু জানে না। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ড্যাবের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘মুক্ত হোক গণতন্ত্র, নিশ্চিত হোক সুস্বাস্থ্য’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা হয়। গত ২৫ মে কাউন্সিলরদের ভোটে হারুন আল রশিদ ও আব্দুস সালামের নেতৃত্বে নতুন কমিটি নির্বাচিত হয় যারা ৯ জুলাই জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে ড্যাবের দায়িত্বভার গ্রহন করে।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব ডা. মেহেদী হাসানের পরিচালনায় এই আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কাদের গনি চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের রিয়াজুল ইসলাম রিজু, এগ্ররিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের শামীমুর রহমান শামীম, ড্যাবের মহাসচিব আব্দুস সালাম, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সেলিম, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম, ডা. কাজী মাজহারুল ইসলাম দোলন, ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ডা. ওবায়দুল কবির খান, ডা. একেএম ফরিদ উদ্দিন বক্তব্য রাখেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই যে একজন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাহেব। উনি বলেছেন যে, কতজন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন তিনি বলতে পারবেন না, এটা তার জানা নেই। যখন ডেঙ্গু চরম আকার ধারণ করেছে তার আগে উনি (স্বাস্থ্য মন্ত্রী) বললেন, এসিড মশা নাকী রোহিঙ্গাদের মতো। কত বড় অমানবিক হলে, কত বড় অমানুষ হলে এই ধরনের কথা একজন মন্ত্রীর মুখ দিয়ে আমাদের শুনতে হয়। পরবর্তিকালে উনি যখন মালয়েশিয়ায় গেলেন, কেনো গেলেন জানিনা, পত্র-পত্রিকায় বেরিয়েছে- ব্যক্তিগত কাজে গিয়েছেন। ফিরে আসার পরে তিনি বলছেন, তিনি জানেন না কতজন মারা গেছেন। বলছেন, ১৬শ থেকে ১৭শ আক্রান্ত হয়েছে।
বর্তমান অবস্থাকে ‘হীরক রাজার দেশে’র সাথে তুলনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা আমদানি করছেন কলকাতার ডেপুটি মেয়রকে তাদের কনসালটেন্সির জন্য। এখন এই যে অবস্থা, এই সরকার, এই মন্ত্রী। কিছুক্ষন আগে জাহিদ ভাই (অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন) বলেছেন, হীরক রাজার দেশে। হীরক রাজার দেশের চেয়েও এটা অদম হয়ে গেছে। হবু চন্দ্র রাজার গবু চন্দ্র মন্ত্রী। এই অবস্থার মধ্যে আছি আমরা দেশে।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের হতাশ না হওয়ার আহবান জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই অবস্থা থেকে আমাদের উঠে দাঁড়াতে হবে। আমরা জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। তারাই একমাত্র এই অবস্থা থেকে দেশ ও রাষ্ট্রকে মুক্তি দিতে। আমি যদি জনগনকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, জনগনের উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারি, আমরা যদি একটা ওয়েব সৃষ্টি করতে পারি তাহলে নিসন্দেহে তারা(সরকার) পরাজিত হবে। আমি বলব, কেউ হতাশ হবে না, আপনাদের হতাশা পেরিয়ে আশার আলো নিয়েই সামনের দিকে এগুতে হবে। বার বার এই দুযোর্গ এসেছে, বার বার বিএনপিকে, বিএনপির দর্শনকে ধবংস করার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু পারে নাই। প্রত্যেকবার সেই দেখবেন, ফিনিক্স পাখির মতোই বিএনপি জেগে উঠেছে  আবার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে গেছে এবং নেতৃত্ব দিয়েছেন আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। আমাদেরকে জনগনকে সঙ্গে নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমি মনে করি, ড্যাব এখানে বড় ভুমিকা পালন করতে পারে। এই যে মানুষের সঙ্গে আপনারা মিশে গেছেন, এখন যাচ্ছেন, মানুষের কাছে যান। মানুষের কাছেই সকলকে যেতে হবে, মানুষকে নিয়ে ফিরে আসতে হবে। এটা বড় বড় মনিষীদের কথা। আমাদের খুব বিখ্যাত বিপ্লবী মনিষী মাও সেতুং তিনি বার বার এই কথা বলেছেন- হোয়েন দি ক্রাইসিস, গো টু দ্যা পিপল, লারন ফরম দেম এন্ড কাম বেক এন্ড ইমপ্লিমেন্ট। এটাই এখন আমাদের মূল কাজ। আপনারা হচ্ছেন অগ্রনী শ্রেনী, অত্যন্ত উচ্চ শিক্ষিত মেধাবী মানুষ। আপনারা পারবেন এই সমস্যা সমাধান করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে।
মির্জা ফখরুল বলেন, এই অনির্বাচিত সরকার যারা ভোটে নির্বাচিত হয়নি, বন্দুকের জোরে ক্ষমতায় বসে আছে তাদের কাছে একটা পরিস্কার কথা আমরা বলতে চাই, সময় শেষ হওয়ার আগেই এই সংসদ বাতিল করুন, এই নির্বাচন বাতিল করুন এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এদেশের জনগন জানে কিভাবে এধরনের সরকারকে পরাজিত করতে হয়।
সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সময় শেষ হওয়ার আগেই এ পার্লামেন্ট বাতিল করুন। এ নির্বাচন বাতিল করুন এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এ দেশের জনগণ জানে কিভাবে এ ধরনের সরকারকে পরাজিত করতে হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অত্যন্ত কঠিন সময়ে বাস করছি। এত বড় কঠিন সময় বাংলাদেশে আর কখনো আসেনি। ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এর আগের মুহূর্তেও এত অসহায় বোধ করিনি। তখন জনগণের সামনে একটি শক্তি ছিল, জনগণের মধ্যে রাজনীতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ছিল। এখন মনে হয়, সমস্ত কিছু ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আজকে ভিন্ন আঙ্গিকে গণতন্ত্রের একটা লেবাস পরিয়ে দিয়ে আবার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। এ অবস্থায় যখন আমাদের সমস্ত অর্জন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যখন আমাদের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা কী করতে পারি? আমরা যেটা করতে পারি সেটা করতে চেষ্টা করছি। আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। জনগণই একমাত্র পারেন দেশকে রাষ্ট্রকে মুক্তি দিতে। আমরা যদি আজকে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, জনগণের উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারি, তাহলে নি:সন্দেহে সরকার পরাজিত হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ