ঢাকা, মঙ্গলবার 6 August 2019, ২২ শ্রাবণ ১৪২৬, ৪ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কাশ্মীরের জ্যেষ্ঠ নেতারা গৃহবন্দী সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

কাশ্মীরের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা গত রোববার মেহবুবা মুফতির বাড়িতে বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন              -এনডিটিভি

 

৫ আগস্ট, আনন্দবাজার, বিবিসি, এনডিটিভি : বিরোধপূর্ণ কাশ্মীর উপত্যকায় অতিরিক্ত ৩৫ হাজার সেনা মোতায়েনের পর জম্মু ও কাশ্মীরের শীর্ষ নেতাদের গৃহবন্দি করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

যাদের গৃহবন্দি করা হয়েছে তাদের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিও রয়েছেন। রোববার রাত থেকে তাদের গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে বলে ভারতীয় গণামধ্যমগুলোর খবর।

বিজেপিবিরোধী হিসেবে পরিচিত ওই নেতাদের গৃহবন্দি করার পাশাপাশি সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহু জায়গায় ফোন ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে।

গত সপ্তাহে ‘হামলার’ হুমকির কথা জানিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে থাকা হিন্দু তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের তাৎক্ষণিকভাবে রাজ্য ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয় সরকার। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কেন এভাবে নিরাপত্তা জোরদার করছে, তা নিয়ে তখন থেকেই জল্পনা কল্পনা চলছিল।

আনন্দবাজার লিখেছে, জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশকে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন থাকলেও সরকার তা স্বীকার করেনি।

তবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিএসএফকে থানা পাহারা দিতে দেখা গেছে। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার এসব পদক্ষেপের বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এখনও দেয়নি।  ফলে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে। কেবল জম্মু ও কাশ্মীর নয়, পুরো ভারতজুড়েই জল্পনা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ছে।

জম্মু ও কাশ্মীরের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর ধারণা, ভারতীয় সংবিধানে কাশ্মীরকে দেওয়া বিশেষ মর্যাদা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে দিল্লী। ওই বিধান অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীরে বাইরের কেউ জমি কিনতে পারে না।

এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যেই রোববার কাশ্মীরের মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা মেহবুবার বাড়িতে বৈঠক করেন। কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা খর্ব করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার সিদ্ধান্ত হয় সেখানে। এরপর রাতেই তাদের কাউকে কাউকে গ্রেপ্তার এবং কাউকে কাউকে গৃহবন্দি করা হয় বলে আনন্দবাজারের খবর।

৮০০০ সেনা পাঠাচ্ছে দিল্লী : জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করে কেন্দ্রের অধীনে আনতে সংবিধান সংশোধনের ঘোষণা দেওয়ার পর সেখানে অতিরিক্ত আরও আট হাজার সেনা মোতায়েন করছে নরেন্দ্র মোদির সরকার।

সোমবার ভারতের বিভিন্ন অংশ থেকে বিমানে করে তাদের জম্মু ও কাশ্মীরে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় বিমান বাহিনীর সি-১৭ পরিবহন বিমানে করে আধাসামরিক বাহিনীর ওই সদস্যদের শ্রীনগরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

গত সপ্তাহে জম্মু ও কাশ্মীরে অতিরিক্ত ৩৫ হাজার সেনা মোতায়েন করেছিল দিল্লী। এবার তাদের সঙ্গে অতিরিক্ত এই আট হাজার সেনাও যুক্ত হচ্ছে।

বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ায় কাশ্মীরে ব্যাপক জনরোষ দেখা দিতে পারে, এমন আশঙ্কায় রাজ্যজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে সেখানে ব্যাপক সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।

এর আগে গত সপ্তাহে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে অমরনাথের পথে থাকা হিন্দু পুণ্যার্থী ও কাশ্মীর উপত্যকায় থাকা পর্যটকদের তাৎক্ষণিকভাবে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার।

এরপর রোববার রাত থেকে কাশ্মীরের শীর্ষ নেতাদের গৃহবন্দি করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। যাদের গৃহবন্দি করা হয়েছে তাদের মধ্যে জম্মু ও কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিও রয়েছেন।

বিজেপিবিরোধী হিসেবে পরিচিত ওই নেতাদের গৃহবন্দি করার পাশাপাশি সব ধরনের সভা, সমাবেশ ও জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহু জায়গায় ফোন ও ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে।

আনন্দবাজার লিখেছে, জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশকে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে গুঞ্জন থাকলেও সরকার তা স্বীকার করেনি।

তবে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিএসএফকে থানা পাহারা দিতে দেখা গেছে। বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ আর্টিকেল জম্মু ও কাশ্মীরকে তাদের নিজস্ব সংবিধান রাখার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা, যোগাযোগ ও বৈদেশিক সম্পর্ক বাদে আর সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দিয়েছিল। ভারতীয় সংবিধানের এই অংশটি বাতিল হলে কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার অধিকার শেষ হবে। এই ৩৭০ আর্টিকেলের আশ্বাসেই ১৯৪৭ সালে কাশ্মীর ভারতীয় ইউনিয়নে যোগ দিয়েছিল।

সংবিধানের ৩৭০ ধারা রদ করার প্রস্তাবের পাশাপাশি ‘জম্মু ও কাশ্মীর সংরক্ষণ বিল’ নামে আরও একটি প্রস্তাব দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার, যা পাস হলে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হবে আলাদা দুটো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। রাজধানী দিল্লীর মতো জম্মু ও কাশ্মীরে আইনসভা থাকবে, তবে লাদাখে তা থাকবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ