ঢাকা, বুধবার 7 August 2019, ২৩ শ্রাবণ ১৪২৬, ৫ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনায় মাদক ও চোরাচালানের নিরাপদ রুট কুরিয়ার ও ট্রান্সপোর্ট সার্ভিস

খুলনা অফিস : সুন্দর করে র‌্যাপিং পেপারে মোড়ানো ছোট্ট প্যাকেট। দেখতে বেশ ঝকমক করে। যে কারোরই মনে হবে ভেতরে ‘কোনো উপহার সামগ্রী’। কিন্তু না। ভেতরে রয়েছে নেশাদ্রব্য ইয়াবা ও গাঁজা। প্রশাসন ও জনসাধারণের চোখে ধুলো দিতেই এ ব্যবস্থা। এভাবেই ‘গিফট আইটেম’র আড়ালে কুরিয়ার সার্ভিসে বহন করা হচ্ছে মাদকদ্রব্য।
একইভাবে বিভিন্ন সাইজের কার্টন ও বস্তায় করেও পাচার হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন, নেশাজাতীয় ওষুধ এবং থ্রি পিস ও শাড়ি কাপড়সহ ভারতীয় বিভিন্ন ধরনের প্রসাধন সামগ্রী। বিভিন্ন কুরিয়ার ও ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের কাভার্ড ভ্যানযোগে উল্লিখিত অবৈধ সব পণ্য-সামগ্রী খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাচার হয়ে আসছে।
আবার সীমান্ত পেরিয়ে এসব সার্ভিসের মাধ্যমে খুলনা, আবার খুলনা হয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। মূলত কুরিয়ার সার্ভিস ও ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিগুলোর সঙ্গে যোগসাজসে মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীরা কুরিয়ার সার্ভিস ও ট্রান্সপোর্ট এজেন্সিগুলোকে মাদক ও চোরাচালানের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। কুরিয়ার ও ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসে কোনো ধরনের স্ক্যানিং ছাড়াই চলছে পণ্য পরিবহণের কার্যক্রম।
এদিকে, প্রশাসন, পুলিশ বা গোয়েন্দা বিভাগের কোনো ধরনের নজরদারি ছাড়াই যুগযুগ ধরে নিরাপদ এ রুটেই চলছে অবৈধ পণ্য পরিবহণ। তবে, কালেভদ্রে কোনো কোনো কুরিয়ারে অভিযান চালিয়ে মাদক উদ্ধার করা হলেও তা পরবর্তীতে রহস্যজনক কারণে ধামাচাপা পড়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনার প্রায় ৩০টি কুরিয়ার সার্ভিস ও ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি কাজ করছে। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানেরই বিভাগীয় শহর খুলনায় একাধিক শাখা অফিস রয়েছে। বিশেষ করে খালিশপুর কেন্দ্রিক শাখা অফিসের সংখ্যাই বেশি। বর্তমানে বিভাগীয় শহর খুলনায় কার্যক্রম পরিচালকারী কুরিয়ার সার্ভিস ও ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির মধ্যে এসএ পরিবহণ প্রাইভেট লিমিটেড, সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস প্রাইভেট লিমিটেড, রেইনবো এক্সপ্রেস পার্সেল সার্ভিসেস লিমিটেড, জননী কুরিয়ার এন্ড পার্সেল সার্ভিস, ওমেক্স কুরিয়ার এন্ড লজিস্টিকস লিমিটেড, এসআর পার্সেল সার্ভিসেস লিমিটেড, এজে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস, আফজাল পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার, ইউএস বাংলা এক্সপ্রেস লিমিটেড, করতোয়া কুরিয়ার এন্ড পার্সেল সার্ভিস, কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিস, নিউ জেবা কুরিয়ার এন্ড পার্সেল সার্ভিস, দি রয়্যাল পার্সেল এন্ড কুরিয়ার সার্ভিস, আহাদ পার্সেল এন্ড কুরিয়ার সার্ভিস, নিউ যমুনা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, মেসার্স কোহিনূর সোনার গাঁ ট্রান্সপোর্ট এন্ড পার্সেল সার্ভিস, সততা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, জনপ্রিয় আরব ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, অগ্রণী ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি পার্সেল সার্ভিস,নিউ একতা ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, সুন্দরবন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, নিউ পিরোজপুর কাঁচাবাজার ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি ও এসএমএম এক্সপ্রেস লিমিটেড অন্যতম।
পুলিশের সূত্র জানান, ২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর নগরীর সদর থানাধীন পাওয়ার হাউজ মোড়স্থ জননী কুরিয়ার সার্ভিস অফিস (জননী এক্সপ্রেস পার্সেল সার্ভিস) থেকে ১২শ’ পিস ইয়াবাসহ মো. জাহিদুল ইসলাম ফয়সাল (৩২) নামের এক মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়। চট্টগ্রাম থেকে জননী কুরিয়ার সার্ভিসে একটি ট্রলি ব্যাগে (লাগেজ) ইয়াবা খুলনায় পাচার করে আনা হয়।
খুলনা সদর থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ মো. হুমায়ুন কবির জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পাওয়ার হাউজ মোড়স্থ জননী কুরিয়ার সার্ভিস অফিসে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে কুরিয়ারে আসা ১২শ’ পিস ইয়াবাসহ সোনাডাঙ্গার ৯৪ হাজী ইসমাইল রোডের মৃত কাজী আব্দুর রশিদের ছেলে মো. জাহিদুল ইসলাম ফয়সালকে গ্রেফতার করা হয়। ব্যাগ তল্লাশী করে ইয়াবা ট্যাবলেটের ৩৩ গ্রাম গুঁড়াও উদ্ধার করা হয়।
একইভাবে ২০১৮ সালের ৩ মে সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকায় জননী কুরিয়ার সার্ভিস থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় মূল ডিলারসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হচ্ছে-ডিলার সাগর হোসেন, আব্দুস সাত্তার ও নজরুল ইসলাম। ওই সময় সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, একটি সংঘবদ্ধ মাদক চোরাচালান চক্র শহরের জননী এন্টারপ্রাইজ নামক কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে চট্টগ্রাম থেকে ২০ হাজার পিস ইয়াবা সাতক্ষীরা শহরে আনার চেষ্টা করছে-এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জননী এন্টারপ্রাইজ এলাকায় গোপনে অবস্থান নেয়। এ সময় শাকিল এন্টারপ্রাইজ নামে সাতক্ষীরায় বুকিং দেয়া মালামাল গ্রহণ করতে আব্দুস সাত্তার নামক এক ব্যক্তি আসলে তাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাসে সে ওই মালামালের সঙ্গে ২০ হাজার পিস ইয়াবা আছে বলে স্বীকার করে। পরে মালামালগুলো তল্লাশি করে একটি বস্তার মধ্যে প্লাস্টিকের ঝুড়ির মধ্যে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে সাগর ও নজরুল ইসলামকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৪০ লাখ টাকা।
অপরদিকে, ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর যশোরের বেনাপোল বাজারের কন্টিনেন্টাল কুরিয়ার সার্ভিস থেকে দুই লাখ টাকার ৪৬ পিস ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস ও লেহেঙ্গা উদ্ধার করে বিজিবি সদস্যরা। তবে, কুরিয়ারের এজেন্সি প্রতিনিধি কামাল হোসেন কৌশলে পালিয়ে যায়। কুরিয়ার সার্ভিসের আড়ালে কামাল হোসেন এসব চোরাচালানের পণ্য দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছে বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
কুরিয়ারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় জননী কুরিয়ার সার্ভিসে ইয়াবা ধরা পড়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি প্রশাসনের নজরে আসে। এ কারণে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তারা স্থান পরিবর্তন করে শেরে বাংলা রোডে নতুন অফিস নেয়। এখন সেখানেই চলছে ব্যবসা।
জননী কুরিয়ার সার্ভিসের শেরে বাংলা রোড শাখার ম্যানেজার রেজাউল করিম বলেন, বিশ্বাস এবং ধারণার আলোকে যতটুকু সম্ভব চেকিং করেই মালামাল বুকিং নেয়া হয়। তবে, মাদক ও অবৈধ মালামালের বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয় না। এ ধরনের কোনো ব্যবস্থাও নেই। যে কারণে ২/১টি ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক কিছু না। তাদের প্রতিষ্ঠানে থানা বা গোয়েন্দা পুলিশের নিয়মিত মনিটরিংও হয় না বলেও জানান তিনি।
অপরদিকে, রেইনবো এক্সপ্রেস পার্সেল সার্ভিসেস লিমিটেড’র নিউ মার্কেট শাখা থেকেও মাদক উদ্ধারের ঘটনা ঘটে। তবে, বিষয়টি অস্বীকার করে এ শাখার ম্যানেজার জামিনি রঞ্জন দাস বলেন, যতদূর সম্ভব হয় তারা মালামাল দেখে বুকিং নেন। তারপরও অতিরিক্ত টাকা নিয়ে কেউ কোনো অবৈধ মালামাল বুকিং নিতে পারে। তবে, সম্প্রতি জনৈক ব্যক্তি ভারতীয় থ্রি পিস বুকিং দিতে এলে তিনি তা ফেরত দেন বলেও দাবি করেন। এছাড়া ঢাকা থেকে কোনো অবৈধ মালামাল বুকিং দিলে তাদের সেটি দেখার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
সূত্র জানান, সম্প্রতি ওমেক্স কুরিয়ার এন্ড লজিস্টিকস লিমিটেড’র কেডিএ এভিনিউস্থ নিউ মার্কেট শাখায় ব্রাশ-পেষ্ট’র মধ্যে ২-৩ বস্তা ভারতীয় ফেসওয়াশ ও ফেয়ার এন্ড লাভলীসহ বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী ঢাকায় প্রেরণের জন্য বুকিং করা হয়। এছাড়া মাঝে-মধ্যেই এ শাখার মাধ্যমে নিষিদ্ধ ওষুধ এবং পলিথিন বহনের অভিযোগ রয়েছে। মূলত এ শাখার ম্যানেজার মো. শরীফ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য বুকিং এবং সরবরাহ করে থাকেন। মাঝে-মধ্যে এখানে গোয়েন্দা সদস্য ও সাংবাদিক পরিচয়ে কেউ এলে তাদের ‘ম্যানেজ’ করা হয় বলেও সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র আরও জানান, বর্তমানে খুলনায় কুরিয়ার সার্ভিস ও ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সাদা পলিথিন আনা হচ্ছে বিপুল পরিমানে। বস্তা ও কার্টনে করে বেকারী পণ্যের লেবেলের আড়ালে ঢাকা থেকে এসব পলিথিন এনে দক্ষিণাঞ্চলের বাজার সয়লাব করা হচ্ছে। এ সেক্ষে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে কার্টন বা বস্তার ওপরের দিকে কিছু লেবেল রেখে ভেতরে দেওয়া হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যাগ। ঢাকার চোরাকারবারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজসে খুলনার বড় বাজারের আব্দুল্লাহ স্টোরসহ চোরাচালান সিন্ডিকেট এসব পলিথিন বহনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্তের ১৫টি ঘাট দিয়ে প্রতিনিয়ত চোরাচালান পণ্য শাড়ি, থ্রি পিস, প্যান্ট-শার্ট পিসসহ বিভিন্ন ধরনের কাপড় এবং প্রসাধনী সামগ্রী প্রবেশ করছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের দামি মসলাও চোরাই পথে আসছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতাল, এ্যাম্বুলেন্স, লবণ ও সাবান পরিবহণের গাড়ি এবং কুরিয়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন কোম্পানির কাভার্ড ভ্যান এবং ওষুধ কোম্পানির গাড়িকে এসব অবৈধ পণ্য আনার কাজে নিরাপদ বাহন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চলের একাধিক সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে শতাধিক সদস্য এ কর্মকা-ের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সূত্র।
সূত্রগুলো আরও জানায়, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার বেনাপোল, ভোমরা, কেশবপুর ও কলারোয়াসহ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে চোরাচালানের পণ্য প্রবেশ করছে। বিশেষ করে সীমান্ত সংলগ্ন পুটখালী ঘাট, বালনডা, শিকরী, শিকারপুর, মাশিলা, কাবিলপুর, শরুপদা, বর্ণি, আন্দুলিয়া, কুলিয়া, দেবহাটা, হাকিমপুর, নওয়াপাড়া ও মণিরামপুর এলাকা দিয়ে খুলনায় মালামাল আনা হচ্ছে। তবে খুলনার অধিকাংশ মালামাল আনা হচ্ছে বেনাপোল, ভোমরা ও কলারোয়া এলাকা থেকে।
সূত্রমতে, ভারত থেকে যানবাহন ছাড়াই বিভিন্নভাবে ছোট ছোট বেল তৈরি করে মালামাল দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানো হয়। পরে তা কেশবপুরের ত্রিমোহনী ঘাটে নিয়ে এসএ পরিবহণ ও সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস, ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি, লবণ, সাবান ও বিড়ি-সিগারেটসহ বিভিন্ন কোম্পানির কাভার্ড ভ্যান, এ্যাম্বুলেন্স এবং ওষুধ কোম্পানির কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকে লোড করা হয়। এভাবে ডুমুরিয়ার চুকনগর হয়ে গল্লামারী দিয়ে সড়ক পথে এবং সাতক্ষীরার কুলিয়া ও দেবহাটা এলাকা দিয়ে রূপসা ও ভৈরব নদ ব্যবহার করেও মালামাল আনা হচ্ছে। নদী পথের ক্ষেত্রে সার, চিনি ও লবণের কার্গো এবং বিভিন্ন ধরনের ট্রলার ব্যবহার করা হয়। পরবর্তীতে নড়াইলের কালনা ঘাট এবং খানজাহান আলী (র.) সেতু পার হয়ে মাওয়া ও দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন মার্কেটে সরবরাহ করা হয় বলে গোয়েন্দা বিভাগের সূত্র জানিয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) মুখপাত্র মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, কুরিয়ার ও ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের ওপর সার্বক্ষনিক গোয়েন্দা নজরদারি রয়েছে। তবে, শুধুমাত্র সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলেই কেবল অভিযান চালানো হয়।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, কাভার্ড ভ্যান পরীক্ষা করার মত কোনো যন্ত্র তাদের কাছে নেই। যন্ত্র ছাড়া বিপুল পরিমাণ মালামাল বোঝাই কাভার্ড ভ্যান পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা কোনো ভাবেই সম্ভব না। তবে, কাভার্ড ভ্যান পরীক্ষার জন্য এন্ট্রি ড্রাগ টেস্টিং নামে এক ধরনের ডিভাইস ব্যবহারের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ চিন্তা-ভাবনা করছেন বলেও জানান তিনি।
সূত্র মতে, কুরিয়ার ও ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসে কোনো ধরনের স্ক্যানিং ছাড়াই চলছে পণ্য পরিবহণের কার্যক্রম। এর বাইরেও বিপুল পরিমাণ অর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটলেও এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর কোনো নজরদারি নেই প্রশাসনের। অপরাধ-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ ও পণ্য পরিবহণের সঙ্গে জড়িত কুরিয়ার সার্ভিসের ওপর কড়া নজরদারি দরকার। না হলে অপরাধীরা এসব প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে বড় ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ