ঢাকা, শুক্রবার 9 August 2019, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

রাজধানীর পশুর হাটগুলো কাদা-গোবরে একাকার

 

স্টাফ রিপোর্টার: প্রবল বর্ষণে রাজধানীর পশুর হাটগুলোয় সৃষ্টি হয়েছে চরম অরাজক অবস্থা। বৃষ্টির পানি, কাদা আর গোবরে একাকার হয়ে গেছে প্রতিটি হাট। বৃষ্টিতে ভিজে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন গরুর পাশাপাশি বেপারিরাও। অধিকাংশ হাটের আশপাশের রাস্তা কাটা থাকায় পোহাতে হচ্ছে বাড়তি ভোগান্তি। বেচাকেনা এখনও শুরু না হলেও বৃষ্টি উপেক্ষা করে গতকাল প্রচুর সংখ্যক ক্রেতা হাটে এসেছেন। কাদা-পানিতে শরীর ভিজিয়ে আনন্দও করছেন কোনো কোনো তরুণ ক্রেতা। সংশ্লিষ্টদের আশা, আজ শুক্রবার থেকে হাটগুলোয় বিক্রি বাড়বে। আগামীকাল শনিবার সবচেয়ে বেশি পশু বেচাকেনা হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুষ্টিয়া থেকে আফতাবনগর হাটে আটটি গরু নিয়ে এসেছেন সোলায়মান মিয়া। হাতিরঝিল সংলগ্ন প্রধান গেট থেকে একটু সামনে গেলেই পিচঢালা রোডের দু’পাশ ঘিরে সারিবদ্ধভাবে বিক্রির জন্য বেঁধে রাখা হয়েছে তার গরুগুলো। অপেক্ষাকৃত কাদামুক্ত জায়গা পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট। তবে ক্রেতা না পাওয়ায় অক্ষেপের কথাও জানান তিনি। গতকাল বিকেলে তিনি নয়া দিগন্তকে বলেন, ঈদের কয়েক দিন আগে রাস্তায় যানজট বেড়ে যায়। এসময় বিপুল পরিমাণ গরু আনা হয় বলে সুবিধামতো স্থানে গরু রাখা যায় না। তাই একটু আগেভাগেই গরু নিয়ে এসেছি, যেন পছন্দমতো জায়গা পাওয়া যায়। তিনি বলেন, বৃষ্টির জন্য মাঠে কাঁদা হওয়ায় গরু রাখতে একটু ঝামেলা হচ্ছে। তবে আগে আসায় আমি ভালো জায়গাটা পেয়েছি। সে কারণে অন্যদের চেয়ে ভোগান্তি হচ্ছে কম। 

রাজধানীর উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন আশপাশ, কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গাসহ রাজধানীর আরও কয়েকটি পশু হাটে গিয়ে দেখা যায় হাটগুলোতে এবার পর্যাপ্ত দেশীয় গরু-ছাগল রয়েছে। বৃষ্টির কারণে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই হাটে ক্রেতার সংখ্যা অনেকটা কম ছিল। ক্রেতাদের অনেকেই দুপুরের পরে বৃষ্টিতে ভিজে পশু বাজারে এসেছেন। আর ক্রেতা যারা আসছেন তারা দর-দাম জিজ্ঞেস করে চলে যাচ্ছেন। মূলত তারা এখন পশু পছন্দ করার কাজটি করছেন। কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন হাটের বিক্রেতা মনির উদ্দিন বলেন, আশা করছি আগামীকাল ছুটির দিন শুক্রবার থেকে পুরোদমে পশু বিক্রি জমে উঠবে। চাঁদ রাত পর্যন্ত এই কেনা-বেচা চলবে। ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, এবার ঈদুল আজহার হাটগুলোয় উঠেছে প্রচুর সংখ্যক দেশীয় গরু। গরুর দাম এখন পর্যন্ত সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

বিভিন্ন পর্যায়ের বেপারির সাথে কথা বলে জানা যায়, বেশি দাম পাওয়ার আশায় ব্যবসায়ী ও খামারিরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে রাজধানীতে গরু নিয়ে আসেন। অনেকেই ধারদেনা করে গ্রামের বাজার থেকে গরু কিনে এনেছেন। আবার অনেকে বাকীতে গরু কিনে এনেছেন ঢাকায়। সবচেয়ে বেশি বেপারি এসেছেন কুড়িগ্রাম, জামালপুর, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, সাতক্ষীরা, যশোর, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুর থেকে। কয়েকজন বেপারি একতাবদ্ধ হয়ে যৌথভাবে গাড়ী ভাড়া করে আসার খবরও পাওয়া গেছে। তবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে পূঁজি নিয়ে ফেরত যাওয়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাটের পাশাপাশি রাজধানী ঢাকায় এবার অস্থায়ী পশুর হাট বসছে ২৩টি। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৯টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বসছে ১৪টি অস্থায়ী হাট। দক্ষিণ সিটি করপোরেশন চাচ্ছে শেষ মূহুর্তে এসে আরও দুইটি হাটের অনুমতি দিতে। ৩০০ ফিট সড়কের হাটের টেন্ডার আহ্বান করেও পরে তা বাতিল করা হয়। অধিকাংশ হাটের প্রস্তুতিই প্রায় সম্পন্ন। তবে ডেঙ্গু সমস্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় কর্তপক্ষকে এবার সেদিকেই বেশি নজর দিতে হচ্ছে। হাটগুলোর টেন্ডার থেকে এবার দুই সিটির আয় হয়েছে ২২ কোটি টাকারও বেশি।

ডিএসসিসির অস্থায়ী হাটগুলো হলোÑ উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘের মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, ঝিগাতলা-হাজারীবাগ মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি স্থান, কামরাঙ্গীরচর ইসলাম চেয়ারম্যানের বাড়ির মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর বাঁধসংলগ্ন খালি জায়গা, মেরাদিয়া বাজারসংলগ্ন আশপাশ এলাকার খালি জায়গা, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সামসাবাদ মাঠসংলগ্ন আশপাশের খালি স্থান, কমলাপুর স্টেডিয়াম সংলগ্ন বিশ্বরোডের আশপাশের খালি জায়গা, শনিরআখড়া ও দনিয়া মাঠসংলগ্ন ফাঁকা জায়গা, ধূপখোলা মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউয়ারটেক মাঠসংলগ্ন আশপাশ এলাকার স্থান, আফতাবনগর ইস্টার্ন হাউসিং মেরাদিয়া মৌজার সেকশন-১ ও ২, খিলগাঁও রেলগেটের পশুর হাট এবং পোস্তগোলা শ্মশানঘাটসংলগ্ন পশুর হাট।

ডিএনসিসির অস্থায়ী হাটগুলো হলোÑ উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিম অংশে ও ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের উভয়পাশের ফাঁকা জায়গা; মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন (বছিলা) পুলিশ লাইনসের খালি স্থান; মিরপুর সেকশন-৬, ওয়ার্ড ৬-এর (ইস্টার্ন হাউসিং) খালি জায়গা; মিরপুর ডিওএইচএসের উত্তর পাশের সেতু প্রপার্টি সংলগ্ন ফাঁকা স্থান; ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট খেলার মাঠ; ভাটারা (সাঈদনগর) পশুর হাট; বাড্ডার ইস্টার্ন হাউসিং (আফতাবনগর) ব্লক-ই, আফতাবনগর সেকশন ৩-এর খালি জায়গা এবং কাওলা-শিয়ালডাঙ্গা সংলগ্ন এলাকা। এছাড়া গাবতলীর স্থায়ী পশুর হাট তো রয়েছেই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ