ঢাকা, শুক্রবার 9 August 2019, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

হাইকোর্টেও জামিন পায়নি মিন্নি

 

স্টাফ রিপোর্টার: বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছেন তার আইনজীবী।

গণকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের অবকাশকালীন হাই কোর্ট বেঞ্চে আংশিক শুনানির পর জামিন পাওয়ার আশা না দেখে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্না আবেদন ফিরিয়ে নেন।

শুনানির শুরুতে জেড আই খান পান্না জামিন দেওয়ার পক্ষে যুক্তিগুলো আদালতের সামনে তুলে ধরেন। পরে রাষ্ট্রপক্ষে  অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মমতাজ উদ্দিন ফকির শুনানি শুরু করেন।

এ পর্যায়ে হাই কোর্ট বেঞ্চ জানতে চায়, হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় মিন্নির দেওয়া জবানবন্দীর কপি আসামীপক্ষের হাতে আছে কি না। জেড আই খান পান্না তখন বলেন, জবানবন্দীর কপি তাদের হাতে নেই, তাদের তা দেওয়া হয়নি।

বিচারক তখন বলেন, আপনারা জবানবন্দীর কপি নিয়ে আসেন, আমরা জামিন প্রশ্নে রুল দেব।

মিন্নির আইনজীবী এ সময় বলেন, আমরা রুল চাই না, জামিন চাই।

কিন্তু আদালত তাকে জানিয়ে দেয়, জবানবন্দীর কপি দাখিল না করলে জামিন হবে না।

জেড আই খান পান্না তখন আবেদন ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে। 

মিন্নির আইনজীবী পরে সাংবাদিকদের বলেন, হাই কোর্ট জামিন না দেয়ায় তারা ‘মর্মাহত’। মামলাটি ধ্বংস করার জন্য এই মামলার একমাত্র চাক্ষুস সাক্ষী ও এক নম্বর সাক্ষীকে আসামী করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত পুলিশ এজাহারভুক্ত অন্য আসামীদের ধরতে তৎপর না, বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিষয়টি এসেছে। বিষয়টি আমরা আদালতের কাছে তুলে ধরে বলেছি, মিন্নি একজন ১৯ বছর বয়সী কিশোরী। তিনি জামিন পেতে পারেন। 

রুল না নিয়ে কেন আবেদন ফেরত আনা হয়েছে জানতে চাইলে এ আইনজীবী বলেন, রুল দিলে অনেক সময়ের বিষয়। ১৬৪ পেলে আমরা আবার জামিন চাইব। ১৬৪ না দিলে দরকার হলে আমরা লিগ্যাল নোটিস পাঠিয়ে চাইব। যদি না দেয় তাহলে আবার আমরা আদালতের কাছে যাব। এটা পাবলিক ডকুমেন্ট। 

মিন্নির স্বামী রিফাতকে গণ ২৬ জুন বরগুনার রাস্তায় প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সে সময় স্বামীকে বাঁচাতে মিন্নির চেষ্টার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়।

পরদিন রিফাত শরীফের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন; তাতে প্রধান সাক্ষী করা হয়েছিল মিন্নিকে।

সম্প্রতি মিন্নির শ্বশুর তার ছেলের হত্যাকা-ে পত্রবধূর জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করলে আলোচনা নতুন দিকে মোড় নেয়।

গণ ১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক মিন্নিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। রিমান্ডের তৃতীয় দিন শেষে মিন্নিকে আদালতে হাজির করা হলে সেখানে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে পুলিশ জানায়।

তবে বরগুনা সরকারি কলেজের এই স্নাতকের ছাত্রী ইতোমধ্যে জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে।

তার বাবার অভিযোগ, নির্যাতন করে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মিন্নিকে ‘স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে বাধ্য করেছে’ পুলিশ। এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের হাত আছে বলেও তার দাবি।

বরগুনার সিনিয়র বিচারিক হাকিম আদালত এবং জেলা ও দয়েরা জজ আদালতে মিন্নির জামিন আবেদন নাকচ হয়ে যাওয়ার পর হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তার আইনজীবীরা। কিন্তু তাতেও তারা ব্যর্থ হওয়ায় ঈদের আগে মিন্নির জামিন আওয়ার আর কোনো আশা থাকছে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ