ঢাকা, শুক্রবার 9 August 2019, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে ফেরিসহ সকল প্রকার নৌযান চলাচল শুরু

এম তরিকুল ইসলাম, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) সংবাদদাতা: বৈরী আবহাওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে সকল প্রকার লঞ্চ ও সিবোটসহ ফেরি চলাচল পুণরায় চালু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে এ নৌরুট সচল হওয়ায় ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বিড়ম্বনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে প্রশাসনসহ ফেরি সার্ভিস কর্তৃপক্ষের নিকট। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ১৬টি ফেরি দিয়ে যানচলাচল শুরু করে বিআইডব্লিউটিসি। সে সাথে ৮৭টি লঞ্চ ও ৩'শতাধিক স্পীডবোর্ট দিয়ে পারাপার শুরু হয় ঈদ যাত্রীদের।

গতকাল সরজমিনে শিমুলিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, সকালের দিকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বেশ চাপ ছিল। ফেরি ও লঞ্চ ঘাটে যাত্রীদের ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। তবে দুর্যোগপূর্ণ অবহাওয়ার কারণে সিবোট ঘাটে যাত্রীর ততটা চাপ ছিলনা। ফেরি ঘাটগুলোতে বিভিন্ন প্রকার যানবাহন সিরিয়াল ধরে পারাপারের অপেক্ষায় ছিল। এ সময় কথা হয় ইটালী প্রবাসী শরিয়তপুরের জুনায়েদ হোসেনের সাথে। তিনি জানালেন ৪ বছর পর দেশে ফিরেছেন পরিবার পরিজনের সাথে ঈদ করতে। ভোর রাতে শিমুলিয়া ঘাটে এসে ফেরি পারাপারের জন্য বসে আছেন। এখন দুপুর ১টা কিন্তু তিনি জানেন না কখন ফেরিতে উঠতে পারবেন। এ সময় ঘাটে দেখা যায় পন্যবাহি ট্রাকগুলো পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। ট্রাক ড্রাইভার জসিন দেওয়ান জানান, গত ৪ দিন পূর্বে তিনি শিমুলিয়া ঘাটে এসে সিরিয়াল দিয়ে আজ ঘাটের পাকিং ইয়ার্ডে এসছেন। কখন ফেরিতে উঠবেন তা অনিশ্চিত। হাতে যা টাকা পয়সা ছিল এ ৪ দিকে তা খবার-দাবারে শেষ হয়েছে। বিকাশে নতুন করে মহাজনের নিকট থেকে টাকা এনেছেন। কিন্ত কবে কখন ফেরি পার হতে পারবেন তা তিনি জানেননা।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটস্থ এজিএম মো. নাসির চৌধুরী জানান, বুধবার সকাল থেকেই বাতাস ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকায় নৌরুটে চলাচলকারী যাত্রীদের দুর্ভোগ দেখা দেয়। বন্ধ করে দেয়া হয় লঞ্চ ও স্পিড বোট। এতে বিপাকে পড়ে যাত্রীরা। তবে ওই দিন বেলা সাড়ে ১১টা থেকে উত্তাল পদ্মায় ঢেউ আর প্রচুর স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ছয়টি ফেরি চলাচল শুরু করে। এছাড়া পদ্মা উত্তাল থাকায় সকাল থেকে বন্ধ হয়ে যায় লঞ্চ ও স্পিডবোট। গতকাল বৃহস্পতিবার সকল থেকে ঢেউ ও স্রোত কিছুটা কমে গেলে ফেরি চলাচল পুনরায় চালু করা হয়েছে। এতে ঘাটে আটকে পড়া যানবাহন পারাপার শুরু করা হয়েছে। 

মাওয়া বন্দর কর্মকর্তা মো. শাহ আলম জানান, গতকাল সকাল থেকে লঞ্চ ও সিবোট চলাচল চালু করা হয়েছে। তবে নদীর অবস্থা ততটা সুবিধাজনক নয়। ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের প্রচুর চাপ রয়েছে।

মাওয়া ট্রাফিক জোনের টিআই মো. হিলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপদ ও নিবিঘ্নে কাজ করতে বৃহস্পতিবার রাত হতে (গতরাত) সকল প্রকার ট্রাক পারাপার বন্ধ করে দেয়া হবে। তবে যদি গাড়ীর চাপ না থেকে তবে সময় সুযোগ বুঝে মহাসড়কের পাশে দাড়িয়ে থাকা ট্রাকগুলো পার করা হতে পারে। তিনি আরো জানান, গতকাল সকালে ফেরিসহ সকল নৌযান পুনরায় চালু হওয়ায় আটকে পড়া যানবাহনের চাপ কমতে শুরু করেছে। আশা করছি এভাবে ফেরি চলাচল চালু থাকলে লোকজনকে বিড়ম্বনায় পড়তে হবেনা। 

উল্লেখ এর আগে মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে ৮ ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৬টি ফেরি চলাচল শুরু করেছে। কিন্তু বেলা বাড়ার সাথে সাথে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া আর উত্তাল পদায় প্রচুর স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেয় বিআইডব্লিউটিসি।

যাত্রী নিরাপত্তায় যত ব্যবস্থা শিমুলিয়ায়

এদিকে গতকাল শিমুলিয়াঘাটের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য জেলা পুলিশ কর্তৃক এক প্যারেড ব্রীফিং করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য প্রায় ৩শতাধিক পুলিশ সদস্য শিমুলিয়াঘাটে অবস্থান করবে বলে জানান পুলিশ সুপার জায়েদুল আলম পিপিএম। এছাড়া র‌্যাব, আনছার ও সাদা পোশাকের পুলিশও যাত্রীদের নিরাপত্তার কাজ করছে। তাছাড়া স্কাউট ও গালর্স গাইড যাত্রীদের যাত্রীদের ঘাটগুলো চিনতে ও ফেরি-লঞ্চে উঠতে সহযোগিতা করছে। যাত্রীদের চিকিৎসার জন্য নিয়োজিত রয়েছে একটি মেডিক্যাল টিম। 

 লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাবিরুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় নিয়ন্ত্রণে তিনিসহ একাধিক ভ্রাম্যমান আদালত কাজ করছে। প্রতিটি আদালতেই থাকছে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ