ঢাকা, শুক্রবার 9 August 2019, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৬, ৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আসছে ভারতীয় শাড়ি কাপড়

খুলনা অফিস : শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আসছে ভারতীয় শাড়ি কাপড় ও থ্রী-পিচসহ অন্যান্য প্রসাধনী সামগ্রী। ইতোপূর্বে সড়ক পথে অনেক শাড়ি কাপড় ও অন্যান্য পণ্যের চালান আটক হওয়ায় আসন্ন পবিত্র ঈদ উল আযহাকে টার্গেট করে এখন সুন্দরবনের রুট নিরাপদ হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারীরা। এতে অবৈধ পথে আসা ভারতীয়  পোশাকে সয়লাব দেশের বাজার। ফলে দেশীয় ব্যাবসায়ীরা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে চোরাই পথে আসা ভারতীয় শাড়ি কাপড়ের একটি বড় চালান সুন্দরবনের পাশ থেকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাচারের সাথে জড়িত মাফিয়াদের চিহ্নিত করতে না পারায় থামছে না অবৈধ এ কর্মকান্ড।

প্রতি বছর ঈদ, বড়দিন আর নানা উৎসব আয়োজনে নতুন কাপড়ের চাহিদা বাড়ে বাজারের দোকানগুলোতে। আর এমন চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করে ভারতসহ বিভিন্ন দেশের কাপড়ের বড় বড় চালান। গেল ৫ আগস্ট মংলা বন্দরের পশুর নদীর হারবাড়িয়া ও নন্দবালা এলাকা থেকে বাল্কহেড বোঝাই ২৬ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি কাপড়ের চালান জব্দ করে কোস্ট গার্ড। তবে বিকেল ৩টার সময় নদীর মোহনা থেকে পণ্যগুলো জব্দ করলেও পাচারের সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি কোস্ট গার্ড। ভারতীয় শাড়ির চালান জব্দের ঘটনায় কোস্ট গার্ডের উপর মংলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসায়ীরা খুশি। তবে বার বার শুধু মাত্র শাড়ি, থ্রীপিচ ও সাটপিচ কাপড় আটক হলেও পাচারকারীরা থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এ নিয়ে তাদের ক্ষোভও কম নয়। মংলা বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী বাহাদুর বস্ত্রালয়ের মালিক মো. বাহাদুর মিয়া ও ফেন্সি ক্লথ’র মালিক মো. খোকন মিয়া জানান, নিয়মিত চোরাই পথে আসা কাপড়ের চালান জব্দ হচ্ছে কিন্তু কারা এর সাথে জড়িত তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে না। তাই প্রায় সময়ই আহরহ ঘটছে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে কাপড়ের চালান আসার ঘটনা। এ কারনে যারা ভারতীয় শাড়ি কাপড় বিক্রি করছেন তারাই কেবল ব্যবসা করছেন। কারণ শুল্ক ফাঁকি দেয়ার কারণে কম মূল্যে ভারতীয় শাড়ি ও থ্রী পিচ বিক্রি বেশি হচ্ছে। আর দেশীয় কাপড়ের পণ্য বিক্রি করতে না পারায় বাকী ব্যবসায়ীরা লোকসানে কবলে পড়ছেন। সেই সঙ্গে ধিরে ধিরে কমছে দেশীয় কাপড়ের চাহিদা। মংলা নিউ মেইন রোড়ে ফেন্সী ক্লথ স্টোরে থ্রী পিচ কিনতে আসা শর্মিলা মজুমদার, কেয়া বড়–য়া ও শাড়ি কিনতে আসা সাজিয়া ইয়াসমি বলেন, ভারতীয় কাপড়ের চেয়ে বাংলাদেশী কাপড়ের দাম বেশি হওয়ায় তারা ভারতীয় শাড়ি কিনতে বেশী আগ্রহী থাকেন।  

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপটেন এম শফিকুল ইসলাম সরকার জানান, খুলনাসহ তৎসংলগ্ন এলাকায় শুল্কফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশি কাপড়ের চোরাচালানী বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগেরহাট, মংলা, খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরা এলাকায় কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার করা হয়েছে। গেল ৫ আগস্ট প্রায় ২৬ কোটি টাকার চালান আটকের সাফল্য টহলেরই অংশ। তিনি বলেন ভারত থেকে অবৈধভাবে মালামাল বাংলাদেশে প্রবেশ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা হবে, এ লক্ষে কাজ করছে কোস্ট গার্ড। তিনি দাবি করেন, চোরাচালানী আগের তুলনায় এখন অনেকটা কমে গেছে। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাই পথে আসা মালামাল জব্দ হলেও কেন পাচারের সাথে জড়িতরা আটক হন না এমন প্রশ্নের জবাবে জোনাল কমান্ডার জানান, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারের সাথে জড়িতরা যানবহন ও পন্য ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায় তাই তাদের আটক করা সম্ভব হয় না।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ