ঢাকা, শনিবার 10 August 2019, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৬, ৮ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ভারত ও পাকিস্তানকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান

সংগ্রাম ডেস্ক : কাশ্মীরের শ্রীনগরে অবস্থিত বিখ্যাত জামা মসজিদের ফটক বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার। এজন্য নগরীর প্রধান মসজিদে জুমার নামায আদায় করতে পারেনি মুসলমানরা। তবে অভ্যন্তরীণ ছোট ছোট মসজিদে নামায আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সরকারি কর্মকর্তারা। কিন্তু অনুমতি মিললেও সেসব মসজিদের আশপাশের অঞ্চলে প্রচুর নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরে নিজের বাড়িতে যেতে পারলেন না রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদ। গত বৃহস্পতিবার ভোরে শ্রীনগর বিমানবন্দরে নামলে তাকে সেখানেই থামিয়ে দেয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই পারেননি জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী। পরে বিকাল সাড়ে ৩ টায় বিমানে তাকে দিল্লী ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কংগ্রেস নেতা। এদিকে বৃহস্পতিবার সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পাকিস্তান ও ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। গত বৃহস্পতিবার তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতেও দেশদুটিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। গুতেরেস তার আহ্বানে সিমলা চুক্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে কয়েকদশক পুরনো সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার ঘটনায় উত্তেজনা বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখনই সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, কোনো সমস্যা ছাড়াই নামাজ আদায় সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে ধীরে ধীরে কাশ্মীরের অচলাবস্থা অনেকটাই শিথিল করা হতে পারে। সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদার অবসান ঘটানো এবং রাজ্যটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করার কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের পর যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগাম সতর্কতাস্বরূপ হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী কাশ্মীর উপত্যকায় কড়া নজর রাখছে। খবর রয়টার্স, এএফপি, এনডিটিভি, পার্স।
কাশ্মীরে নিজের বাড়িতে যেতে পারলেন না গুলাম নবী
জম্মু-কাশ্মীরে নিজের বাড়িতে যেতে পারলেন না রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা গুলাম নবী আজাদ।
গত বৃহস্পতিবার ভোরে শ্রীনগর বিমানবন্দরে নামলে তাকে সেখানেই থামিয়ে দেয়া হয়। বিমানবন্দর থেকে বেরোতেই পারেননি জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক এ মুখ্যমন্ত্রী। পরে বিকাল সাড়ে ৩টায় বিমানে তাকে দিল্লী ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে বলে জানান নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক কংগ্রেস নেতা।
কংগ্রেসের এই বর্ষীয়ান নেতা শ্রীনগর বিমানবন্দরে সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, প্রতিবারই সংসদ অধিবেশন শেষে আমি নিজের বাড়ি ফিরি। এজন্য আমি কারও অনুমতি নিইনি। আমি ওখানে যাচ্ছিলাম মানুষের দুরবস্থায় তাদের পাশে দাঁড়াতে।' নিজের বাড়িতেই ফিরতে না পারায় অসন্তুষ্ট আজাদ বলেন, কাশ্মীরবাসী কেন্দ্রের এ পদক্ষেপে রীতিমতো ক্ষুব্ধ। কারণ সারা অঞ্চলে কোনো মোবাইল, ইন্টারনেট বা সংযোগ পরিষেবা নেই।
তার অভিযোগ, এই প্রথম কোনো রাজ্যে আইন পাস হল আগে সেখানে কারফিউ জারি করে। বুধবার শ্রীনগরের রাস্তায় কাশ্মীরি যুবকদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদষ্টো অজিত দোভালের গল্প করা এবং খাওয়ার ছবিটিও প্রশাসনিক ভাঁওতা বলে বৃহস্পতিবার কটাক্ষ করেছেন আজাদ।
অর্থের বিনিময়ে ওই ছবি তোলা হয়েছে বলে ব্যঙ্গ করে তিনি বলেছেন, আপনি টাকা দিয়ে যে কাউকে কিনতে পারবেন এবং তাকে দিয়ে ওটা করাতে পারবেন।
লোকসভা কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী লালকেল্লা থেকে ঘোষণা করেছিলেন, আমরা কাশ্মীরিদের এগিয়ে নিয়ে যাব আলিঙ্গন করে। বুলেট দিয়ে নয়। কিন্তু বর্তমানে কাশ্মীরের অবস্থা কনসেনস্ট্রেশন ক্যাম্পের মতো। মোবাইল কানেকশন নেই, ইন্টারনেট নেই, অমরনাথের তীর্থযাত্রীরা নেই। কী হচ্ছে ওখানে?'
গুলাম নবী আজাদকে ঢুকতে না দেয়ার ঘটনায় কেন্দ্রের বক্তব্য, আমরা সব পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। উনি (গুলাম নবী আজাদ) কাশ্মীরে ঢুকলে সমস্যা হতে পারে। ওকে নিরাপদে রাখার দায়িত্ব রাজ্য প্রশাসনের। তাকে নিরাপদ স্থানে রাখবে নাকি দিল্লি ফেরত পাঠাবে, সম্পূর্ণ রাজ্য প্রশাসনের বিষয়।
জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করার আহ্বান সৌদি আরবের
এদিকে বৃহস্পতিবার বেশ সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দিয়েছে। বিবৃতিতে জম্মু-কাশ্মীর উপত্যকায় শান্তি এবং স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে পাকিস্তান ও ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ভারতীয় সংবিধান থেকে অনুচ্ছেদ ৩৭০ বাতিলের পর জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে সৌদি। জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের ঘটনায় উদ্বিগ্ন সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা অনুযায়ী উপত্যকার শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান ওই কর্মকর্তা।
কাশ্মীর নিয়ে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান গুতেরেসের
কাশ্মীর নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানকে ‘সর্বোচ্চ সংযম’ প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেস। গত বৃহস্পতিবার তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এমন কোনো পদক্ষেপ না নিতেও দেশদুটিকে অনুরোধ জানিয়েছেন। গুতেরেস তার আহ্বানে সিমলা চুক্তির কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে। ওই চুক্তিতে তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই কাশ্মীরবিরোধ মীমাংসার সুযোগ রাখা হয়েছে।
“মহাসচিব জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি উদ্বেগ সহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনে অনুরোধ করেছেন। তিনি ১৯৭২ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিষয়ক চুক্তির কথা স্মরণ করেছেন, যে চুক্তিটি সিমলা চুক্তি নামে পরিচিত; সেখানে জাতিসংঘের সনদ অনুসারে শান্তিপূর্ণ উপায়ে জম্মু ও কাশ্মীরের চূড়ান্ত মর্যাদা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে,” বলেছেন গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক।
কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতায় গুতেরেস জাতিসংঘ কিংবা তার নিজের নাম প্রস্তাব করেননি।
কাশ্মীরে ভারত সরকার কর্তৃক বিপুল সেনা-সমাবেশ ঘটানোর পাশাপাশি বিধিনিষেধ আরোপের কারণে সেখানকার মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এদিকে জম্মু-কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে একটি বিলও পাস করা হয়েছে। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মীরজুড়ে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত সেনা। পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার পর গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শতাধিক স্থানীয় নেতাকে। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি।
ভারতের এই পদক্ষেপকে অবৈধ উল্লেখ করে পাকিস্তান জানিয়েছে বিষয়টি তারা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপন করবে। জাতিসংঘের মহাসচিব জানান, এমন কোনো পদক্ষেপ কারও নেয়া ঠিক হবে না যেখানে কাশ্মীর পরিস্থিতির অবনতি হয়। গত বৃহস্পতিবার তার মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক এক বিবৃতিতে বলেন, ভারত-সীমান্তবর্তী কাশ্মীরের ওপর চলা বিধিনিষেধ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আসা প্রতিবেদনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন গুতেরেস। ভারত সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে সেখানকার মানবাধিকার পরিস্থিতি অবনতি হতে পারে বলেও সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।
দুজারিক নির্দিষ্ট করে বলেন, ১৯৭২ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে শিমলা চুক্তি হয়েছিলো। সেখানে জাতিসংঘের আইন মেনে জম্মু ও কাশ্মীরের সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে কথা বলা হয়েছিলো। জাতিসংঘ মহাসচিব কাশ্মীর ইস্যুতে মধ্যস্থতার প্রস্তাব না দিয়ে সিমলা চুক্তি বাস্তবায়নের কথা বলেছেন।  তিনি বলেন, এই অঞ্চলের ব্যাপারে জাতিসংঘ তার সনদ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
এর আগে বুধবার টুইটারে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আগের উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের মুখপাত্র। বর্তমান অচলাবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ওই বার্তায় বলা হয় তা কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে দেবে। জাতিসংঘের এই মুখপাত্র বলেন, এর মাধ্যমে জম্মু কাশ্মীরের ভবিষ্যত মর্যাদার প্রশ্নে কোনও গণতান্ত্রিক বিতর্কে অংশ নেয়া থেকে সেখানকার জনগণকে বিরত রাখা হবে। ভারতের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অংশ তাই এই ইস্যুটি সম্পূর্ণই তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।
দুজারিক জানান, মহাসচিব ও জাতিসংঘ সচিবালয় কাশ্মীর উপত্যকার পরিস্থিতির ওপর ‘কড়া নজর’ রাখছে।
সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে না -পাকিস্তান
ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে কয়েকদশক পুরনো সাংবিধানিক বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার ঘটনায় উত্তেজনা বাড়লেও পরিস্থিতি মোকাবেলায় এখনই সামরিক পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে এক সাংবাদিক সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি ভারতের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া কেমন হতে পারে সে বিষয়ে ধারণা দিতে গিয়ে একথা বলেন।
পাকিস্তান ভারতের যেকোনো আগ্রাসন মোকাবেলার অধিকার রাখে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
“আমরা সামরিক বিকল্পের কথা ভাবছি না। কিন্তু আমরা কি ভারতের যে কোনো আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া দেখানোর অধিকার রাখি না? পাকিস্তান রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও আইনি বিকল্পের কথা ভাবছে,” বলেছেন কুরেশি।
পাকিস্তান ইসলামাবাদ থেকে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার, নয়া দিল্লির সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কচ্ছেদসহ বেশকিছু পদক্ষেপও নিয়েছে।
চীন বলেছে, তারা লাদাখকে আলাদা করে কেন্দ্রের শাসনে নেয়ায় উদ্বিগ্ন। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের লাদাখ অংশ তাদের বলে দাবি করে আসছে। মূল লাদাখের কিছু অংশ তাদেরও নিয়ন্ত্রণে।
ভারত ও পাকিস্তান উভয়েই হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত কাশ্মীরের সমগ্র অংশের মালিকানা দাবি করে আসছে; দেশ দুটি কাশ্মীরের পৃথক দুটি অংশ নিয়ন্ত্রণও করছে।
এর মধ্যে ভারতশাসিত অংশেই দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৎপরতা আছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ওই এলাকায় সংঘাত-সহিংসতায় হাজার হাজার লোকের প্রাণ গেছে।
ভারত-পাকিস্তানকে সর্বোচ্চ ধৈর্যধারণ করতে বলল মালয়েশিয়া
কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দু দেশকে সর্বোচ্চ ধৈর্যধারণ করার আহ্বান জানিয়েছে মালয়েশিয়া।
প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মুহাম্মাদের কার্যালয় থেকে বৃহস্পতিবার দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “জম্মু-কাশ্মীরের সাম্প্রতিক ঘটনায় বিশেষ করে বার বার ওই অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় মালয়েশিয়া উদ্বিগ্ন।”
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “ভারত ও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে মালেয়শিয়া আশা করে যে, আরো উত্তেজনা ছড়ানো ঠেকাতে দুই প্রতিবেশী সর্বোচ্চ ধৈর্যধারণ করবে; তা না হলে এ অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি ব্যাহত হবে।”
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দুপক্ষকেই জাতিসংঘ প্রস্তাবনার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে এবং আলোচনায় বসতে হবে। জাতিসংঘে পাস হওয়া প্রস্তাব মেনে চলার বিষয়ে মালয়েশিয়া ভারত ও পাকিস্তানকে উৎসাহিত করেছে।
সংযত থাকার আহ্বান যুক্তরাষ্ট্রের
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, কাশ্মীর ইস্যুতে তাদের পররাষ্ট্রনৈতিক অবস্থানে কোনও পরিবর্তন হয়নি। শুক্রবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র মর্গান অর্টেগাস এ তথ্য জানান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ভারত-পাকিস্তান উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
নীতিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র কাশ্মীরকে ভারত ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বিষয় হিসেবে দেখে থাকে। পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র জানান, এই নীতিতে কোনও পরিবর্তন আসেনি। আর আসলেও এখানে সেই ঘোষণা দেওয়া হতো না। যুক্তরাষ্ট্র কাশ্মীর নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সংলাপের পক্ষে বলে জানান তিনি।
মর্গান অর্টেগাস বলেন, ‘আমরা সবাইকে সংযত থাকার আহ্বান জানাই। আমরা সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি দেখতে চাই এবং কাশ্মীরসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ভারত-পাকিস্তানের সংলাপকে সমর্থন করি।’ এই বিষয়ে দুই দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
ওআইসি'র প্রতি ইরানের আহ্বান
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সংসদ স্পিকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষ সহকারী ও উপদেষ্টা আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, কাশ্মীরে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় তেহরান উদ্বিগ্ন এবং কাশ্মীর সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। বৃহস্পতিবার রাতে এক টুইটার বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।
আমির আব্দুল্লাহিয়ান বলেন, জম্মু-কাশ্মীর তথা ওই অঞ্চলের মানুষের স্বার্থে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকটের সমাধান চায় ইরান। এ সময় তিনি কাশ্মীর সংকট সমাধানে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ