ঢাকা, রোববার 11 August 2019, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ৯ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দুর্ভোগ আর ভোগান্তির ঈদযাত্রায় এবার অতীতের সব রেকর্ড ভঙ্গ

ঈদে যেভাবেই হোক বাড়ি যেতে হবে, তাই এভাবেই চলছে ঘরমুখো মানুষ। গতকাল রাজধানীর পোস্তগোলা ব্রিজ হতে তোলা ছবি -সংগ্রাম

* বাসে ট্রেনে লঞ্চে সর্বত্র দুর্ভোগের জনস্রোত * সড়ক ও মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট * ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় অব্যাহত  * শিমুলিয়া ঘাটে ৭ শতাধিক গাড়ির জট * কাউন্টারে ঠাসাঠাসি যাত্রীদের বাসের খবর নেই
* সদরঘাটে যাত্রীদের নাভিশ্বাস
মুহাম্মদ নূরে আলম : পবিত্র ঈদুল আযহার বাকি মাত্র একদিন। ঈদের আনন্দ প্রিয়জনের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে গিয়ে পড়তে হয়েছে নানা বিড়ম্বনায়। ঈদের আনন্দ স্বজনদের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই ফাঁকা হতে শুরু করেছে ঢাকা। সেই থেকে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় রাজধানীর বাস, ট্রেন, লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে। ঈদের আনন্দে শামিল হতে নাড়ির টানে ছুটছে মানুষ। ইতোমধ্যে ঢাকা ছেড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। এখনও রাস্তায় অনেকে যানজটে আটকাপড়ে আছেন। ঈদে ঘরমুখী বাড়তি যাত্রী ও গাড়ির চাপে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে ধীর গতিতে চলছে যানবাহন। তাই কেউ কেউ গাড়ি ঘুরিয়ে ঢাকায় চলে আসার জন্য বলছে বাস চালককে। কোথাও কোথাও উড়াল সেতুর কারণে নির্বিঘেœই চলছে যানবাহন। ফলে দুর্ভোগ আর ভোগান্তি মিলিয়ে চলছে এবারের ঈদযাত্রা। টিকিটপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে বাড়ি পৌঁছানো পর্যন্ত নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ঘরে ফেরা মানুষদের। শিডিউল বিপর্যয়, যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ, আসন না পাওয়ার ভোগান্তি মেনে নিয়েই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেকড়ের টানে বাড়ি ফিরছে মানুষ। ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলো দেরিতে ছাড়ে। এসব ট্রেনের কোনোটি ৬, কোনোটি ৮ এবং কোনোটি ১০ ঘণ্টা বিলম্বে ছেড়ে যায়। এতে চরম ভোগান্তি আর সীমাহীন বিড়াম্বনায় পড়েছে ঘরমুখো মানুষ। এর ব্যতিক্রম নয় সদর ঘাটের লঞ্চ টার্মিনালও। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নৌপথে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সদর ঘাট লঞ্চ টার্মিনাল।
ট্রেনের যাত্রীদের ভয়াবহ ভোগান্তি: গতকাল শনিবার ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা বিলম্বে বিলম্বে কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ছেড়েছে। এই নিয়ে পড়তে ট্রেনযাত্রীদের ভয়াবহ ভোগান্তিতে। গতকাল শনিবার সকালে কমলাপুর রেলস্টেশনে রাখা ডিসপ্লেতে দেয়া ট্রেনের সময়সূচি অনুযায়ী, রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি সাড়ে ৮ ঘণ্টা দেরিতে আনুমানিক বেলা ২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে যাবে। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ৬ ঘণ্টা দেরিতে আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টায় ছেড়ে যাবে। চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ৮ ঘণ্টা দেরিতে আনুমানিক বিকেল ৪টায় এবং রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিলম্ব হবে উল্লেখ করা থাকলেও সম্ভব্য সময় জানানো হয়নি।
রেলসূত্র জানায়, প্রায় ৮ ঘণ্টা দেরিতে আনুমানিক বিকেল ৫টায় ছেড়ে যেতে পারে রংপুর এক্সপ্রেস। এ সময়ও পরিবর্তন হতে পারে। গত শুক্রবার বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ায় ঘরে ফেরা মানুষ ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, গতকাল টাঙ্গাইলে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব প্রান্তে ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এ কারণে দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় সব ট্রেনের ওপর এর প্রভাব পড়েছে। যে কারণে ট্রেনের শিডিউল ঠিক নেই।
ট্রেনের ইঞ্জিনে-ছাদে চড়ে ঈদযাত্রা চলছেই : বিমানবন্দর রেলস্টেশনে মাঝে মাঝে মাইকে ঘোষণা দেয়া হচ্ছে বাম্পারে চেপে যাত্রা করবেন না। প্লাটফর্মে ‘ট্রেনের ছাদে, বাম্পারে ভ্রমণ করে জীবনের ঝুঁকি নিবেন না’ লেখা সম্বলিত বিলবোর্ডও সাঁটানো আছে। বিলবোর্ডের পাশ দিয়েই চলাচল করছেন রেলওয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা।
গতকাল শনিবার সকাল ১০টা ২ মিনিটে বিমানবন্দর স্টেশনে আসে তিতাস কমিউটার ট্রেন। রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিমানবন্দরে স্টেশনে আসা ট্রেনটির দুই বগির মাঝখানে বাম্পার/ইঞ্জিনে চেপে রয়েছেন কয়েকজন যাত্রী। ট্রেনটির কয়েকটি বগির ছাদেও যাত্রী দেখা যায়। এ সময় এক আনসার সদস্যকে বাম্পারে বসা এক যাত্রীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। যাত্রীকে আনসার সদস্য জিজ্ঞাসা করেন, টিকিট আছে কি-না। তবে এভাবে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত থেকে বিরত রাখতে কোনো কথা বলতে বা কর্মকা- দেখা গেল না আনসার সদস্যের।
নাম জানতে চাইলে ওই যাত্রী জানান সাদেক। ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী এ যাত্রী বলেন, এইভাবে যাই না, ভিড় দেখে যাইতেছি। সরকারকে ট্রেন বাড়াইতে বলেন, তাহলে এভাবে যেতে হবে না। বাম্পারে যাত্রী যাতায়াতের ব্যাপারে আনসার সদস্যের মতোই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও নিরব। তারা যেন বিলবোর্ড সাঁটিয়েই দায়িত্ব শেষ করেছেন। বিমানবন্দর সার্কেল রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর চিফ ইন্সপেক্টরের সঙ্গে তার কার্যালয়ে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। তিনি ‘এনার্জি না থাকায় কথা বলতে পারবেন না’ বলে জানান। এর আগে গত রমজানের ঈদেও দুই ইঞ্জিনের মাঝখানে করে যাত্রা করতে দেখা যায় ঈদের ঘরমুখো যাত্রীদের।
কাউন্টারে ঠাসা যাত্রী, বাসের খবর নেই : রাজধানীঢাকার বড় তিনটি বাস টার্মিনাল সায়দাবাদ, গাবতলী, মহাখালীতে যাত্রীদের তীব্র স্রোত। প্রতিটি বাসের কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি কিন্তু বাসের কোনো খবর নেই। চার লেনের সড়ক হয়েছে, হয়েছে উড়াল সেতু। প্রতিবারই সড়কে যানজট হবে না বলে ঘোষণা দেয়া হলেও সড়কে চিরচেনা সেচিত্র বদলায়নি বরং কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেড়েছে। সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইলের সড়কে কখনও দীর্ঘ যানজট, কখনও বা ধীর গতির কারণে উত্তর, পশ্চিম ও দক্ষিণবঙ্গের বাসের সিডিউলে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে কল্যাণপুর বাস টার্মিনালের উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের বাস কাউন্টারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮-১০ ঘণ্টা করে দেরিতে ছাড়ছে প্রত্যেকটি পরিবহনের বাস। সকালের বাস এখনও টাঙ্গাইল কিংবা সিরাজগঞ্জ পৌঁছেনি। এমনকি গত রাতের বাস গন্তব্যে পৌঁছলেও ফেরার সুযোগ এখনও মেলেনি।
কল্যাণপুরের দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল, সালমা, শ্যামলী, এসআর, হানিফ, আল হামরা, আগমনী বাস কাউন্টারগুলোতে দেখা যায় যাত্রীতে ঠাসা। ব্যাগ লাগেজ নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় শিশু, মহিলা, বৃদ্ধসহ সব বয়সী যাত্রীরা। একটি করে বাস আসলেই উৎসুক যাত্রীরা দৌড়ে যাচ্ছেন কাউন্টারে। অনেকের সিডিউল না মেলায় মন খারাপ করে ফিরে আসছেন যাত্রী ছাউনিতে।
রাজশাহী-চাপাই রুটের দেশ ট্রাভেলসের কল্যাণপুর কাউন্টারের ইনচার্জ তৌহিদ বলেন, গতকাল রাত ১১টার গাড়ি ছাড়তে হয়েছে রাত ২টায়। রাতের ৪টি গাড়ি এখনও রাজশাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌঁছেনি। সকালে গেছে ৮টি বাস। সেগুলো এখনও সিরাজগঞ্জ ফুড ভিলেজ এলাকা অতিক্রম করতে পারেনি। গাড়ি যেসব ছেড়েছি সেগুলো না ফিরলে আজ রাতের বাস তো ছাড়া সম্ভব না। যে কারণে পরিস্থিতি বুঝে আজ রাতের সিডিউল কিছু বাসের যাত্রীকে সকালে আসতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ আজ রাতে ছাড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।
হানিফ এন্টারপ্রাইজের গাইবান্ধা রুটের টিকিট বিক্রেতা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সিডিউল বলতে কিছু নেই। সব তছনছ। কোন গাড়ি কখন যাবে বলার উপায় নাই। কমপক্ষে ৬/৮ ঘণ্টার দেরিতে বাস আসছে ও যাচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে।
শ্যামলী পরিবহন কাউন্টারের বাইরে চেয়ারে বসে বাসের অপেক্ষায় নওগাঁর যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী নাছির মিয়া। তিনি বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা গাড়ি। নওগাঁ যাবো। সাড়ে তিনঘণ্টা গাড়ির খবর নেই। কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে, কমপক্ষে রাত ৩টা বাজবে বাস ছাড়তে। ক্ষোভ প্রকাশ করে নাছির বলেন, সারাদেশে খাম্বা মার্কা উন্নয়ন দেখানো হচ্ছে। ঈদ আসলে বলা হয়, ঈদ যাত্রা হবে স্বস্তির। যানজট থাকবে না। কিন্তু প্রতিবারই ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমাদের ঈদের আনন্দ এখানেই বিষাদে নীল হচ্ছে। এখন অপেক্ষা ছাড়া উপায়ন্তর নাই।
সোহাগ পরিবহনের কল্যাণপুর কাউন্টারের ম্যানেজার সাইফুজ্জামান জানান, আমরা এখন পর্যন্ত সিডিউল বিপর্যয়ে পড়িনি। কারণ আমাদের নরমাল সিডিউলের চেয়ে ঈদে বাস কম চলে। তবে এসিবাস যথাসময়ে কাউন্টারে ছেড়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারলেও নন এসি বাস ছাড়তে দেরি হচ্ছে।
এসআর ট্রাভেলসের রংপুরের যাত্রী সৈয়দ মাহবুব বলছেন, সিডিউল ঠিক নেই। সন্ধ্যা ৭টার টিকিট কেটেছি। সময় মতো কাউন্টারে আসলেও কিন্তু এখনও সেই কাঙ্খিত বাসের দেখা মেলেনি। আসে নি। ঈদের ছুটির একদিন সড়কেই বুঝি যায়।
শিমুলিয়া ঘাটে ৫ শতাধিক গাড়ির জট : প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ গত শুক্রবার থেকে রাজধানী ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছে। ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন গতকাল শনিবারেও যাত্রী ও যানবাহনের চাপ রয়েছে শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ রুটে। বর্তমানে এ নৌ-রুটে ছোট-বড় ১৭টি ফেরি রয়েছে যানবাহন ও যাত্রী পারাপারের জন্য। পাশাপাশি যাত্রী পারাপারের জন্য রয়েছে ৮৮টি লঞ্চ, সাড়ে ৪শ স্পিডবোট ও ট্রলার। গতকাল শনিবার ভোর থেকে শিমুলিয় ঘাট এলাকায় যাত্রীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে ঘাটে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ছোট বড় পাঁচ শতাধিক যানবাহন। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপত্তায় শিমুলিয়া ঘাটে প্রায় পাঁচ শতাধিক পুলিশ বাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত রয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক (মাওয়া) শাহাদাত হোসেন বলেন, গত কয়েকদিন বৈরী আবহাওয়ার কারণে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় শুক্রবার থেকে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। তবে যাত্রী ও যানবাহন নির্বিঘেœ পারাপারে আমাদের সার্বাধিক ব্যবস্থা সচল রয়েছে। কোনো প্রকার দুর্ভোগ নেই। কিন্তু বাস্তবে দেখাগেছে তার উল্টো।
পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রীদের ভিড়, সড়কে দীর্ঘ যানজট : পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ রুটে যানবাহনের বাড়তি চাপে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ঘরমুখো হাজারো মানুষ। ফেরিঘাট থেকে টেপড়া বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। এ এলাকায় যানবাহনগুলো এলোমেলোভাবে চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকেই পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি ও লঞ্চে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যানজটের কারণে প্রায় সাত কিলোমিটার এলাকা পায়ে হেঁটে ঘাটে পৌঁছেছেন অনেক যাত্রী। যানজট ও ভোগান্তির জন্য ঘাট ব্যবস্থপনাকে দায়ী করেছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, ঘাটে বর্তমানে শৃঙ্খলা বলে কিছু নেই।
ঘাটে কর্তব্যরত মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শিবালয় সার্কেল) মো. মাহবুবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌ-রুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক গাড়ি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুট ব্যবহার করছে। এ কারণেই যানবাহনের বাড়তি চাপ রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি যানবাহন রাস্তায় বিকল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে যাত্রী পারাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। দুপুরের পর থেকে যানবাহন ও ঘরে ফেরা মানুষের চাপ কমতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
বঙ্গবন্ধু সেতুর টাঙ্গাইল অংশে তীব্র যানজট : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে বঙ্গবন্ধু সেতুর টাঙ্গাইল অংশে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে করটিয়া পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সেতু পার হওয়ার পর উত্তরবঙ্গের দিকে গাড়ি এগোতে না পারায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় খানা-খন্দ আর বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমে সিরাজগঞ্জে ওই এলাকার গাড়ির চাপ বেশি থাকায় এ জট দেখা দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ঈদে ঘরমুখী মানুষ।
চাপ থাকলেও যানবাহন থেমে থেমে ধীরগতিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে : ঘরে ফেরা মানুষের চাপ থাকলেও এখন পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কোথাও তীব্র যানজট দেখা যায়নি। গত শুক্রবার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা উড়ালসড়ক খুলে দেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের ভুলতায় এ উড়ালসড়ক খুলে দেয়ার পর থেকে সড়কের ওপর যানবাহনের তেমন চাপ দেখা যায়নি। ফলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের গাড়িগুলো যানজট ছাড়াই ভুলতা অংশ পার হতে পারছে। গত ঈদুল ফিতরে কাঁচপুর দ্বিতীয় সেতু, মেঘনা দ্বিতীয় সেতু ও মেঘনা গোমতী দ্বিতীয় সেতু খুলে দেওয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচল অনেক নির্বিঘœ এখন।
সদরঘাটে যাত্রীদের নাভিশ্বাস: রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনায়াসে আসা গেলেও সদর ঘাট লঞ্চ টার্মিনালের আগ দিয়ে তীব্র যানজটে পড়ছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। নারী-শিশুসহ বিভিন্ন বয়সীদের কিছুটা দূর থেকেই হেঁটে যেতে হচ্ছে লঞ্চ টার্মিনালের ভেতরে।
গতকাল শনিবার ভোর থেকেই ঘরমুখো যাত্রীদের স্রোত চলছে সদর ঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। সরেজমিনে দেখা যায়, প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়ির পানে ছুটছে মানুষ। ঈদযাত্রার শেষ মুহূর্তেও নদীপথে লেগে আছে ঘরমুখী মানুষের ভিড়। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গা থেকে যাত্রী নিয়ে আসা প্রতিটি লঞ্চ এখন কানায় কানায় পূর্ণ। গতকাল শনিবার সকাল থেকে সদরঘাট টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়া হুলারহাট, বরিশাল, পটুয়াখালী, বাউফল, পিরোজপুর, ভান্ডারিয়া, শরীয়তপুর, বরগুনা, ভোলা, চরফ্যাশন, দুমকি, আমতলীসহ বেশ কয়েকটি পথের বেশিরভাগ লঞ্চ ছিল যাত্রীতে ভরা। রাজধানীর যাত্রাবাড়িতে থাকে পটুয়াখালীর পলিটেকনিক রোডের মিল্টন শিকদার। স্ত্রী ও শিশু সন্তান নিয়ে ঈদের ছুটিতে তিনি বাড়িতে যাচ্ছেন।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে প্রবেশের আগে মিল্টন শিকদার বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে হেঁটে আসতে হচ্ছে। জনসন রোডের আগে থেকেই প্রচ- যানজট। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে এই পরিস্থিতিতে অনেক কষ্ট করে লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত আসতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ঈদের সময় এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। লঞ্চে উঠলেই এই কষ্ট আর মনে থাকে না। কারণ বাড়িতে যাব। মায়ের সাথে ঈদ করবো। বাচ্চারা তাদের দিদাকে পাবে।
উত্তরা থেকে লঞ্চ টার্মিনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পুরো ঘেমে গেছেন। ঝর্ণা রহমান। যাবেন বরিশালের কাশিপুরে। তিনি বলেন, উত্তরা থেকে আসতে যতটা না বেগ পেতে হয়েছে তার চেয়ে বেশি বেগ পেতে হয়েছে টার্মিনালে ঢুকতে। প্রচণ্ড যানজট, এই গরমের মধ্যে ব্যাগ নিয়ে বেশ খানিকটা পথ হেঁটে এসে একদম ঘেমে গিয়েছি।
ঢাকা নদী বন্দরের পরিবহন পরিদর্শক মো. হেদায়েতুল্লাহ জানান, সকাল থেকে ঘাটে ৩৬টি লঞ্চ এসেছে, ছেড়ে গেছে বিভিন্ন রুটের ২০টি লঞ্চ। আমরা কাউকে ছাদে উঠতে দেইনি। তেমনি কোনো বিশৃঙ্খলাও নেই। আর লঞ্চগুলো যাত্রীতে পরিপূর্ণ হলেই ছেড়ে যাচ্ছে। নৌ পুলিশের ইন্সপেক্টর এম এ মান্নান বলেন, আমরা ঘাটে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। এখন পর্যন্ত কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাইনি। তবে আমরা সব সময়ই সতর্ক অবস্থানে আছি। যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য ২৪ ঘণ্টাই কাজ করছি। এদিকে ঈদের ঘরমুখো যাত্রীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনইশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ