ঢাকা, বুধবার 23 October 2019, ৮ কার্তিক ১৪২৬, ২৩ সফর ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ত্যাগ ও কুরবানির চেতনায় সারাদেশ পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: ত্যাগ ও কুরবানির মহিমায় উদ্ভাসিত হয়ে আজ সারা দেশে পালিত হচ্ছে মুসলিমদের দ্বিতীয় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। তবে, দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে এবারের ঈদ উদযাপনে কিছুটা শঙ্কা বিরাজ করছে।

ইসলাম ধর্মের মহান নবী হযরত ইব্রাহিম (আঃ)'র স্মরণে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)'র নির্দেশে পবিত্র ঈদ উল আজহা পালিত হয়ে আসছে। আল্লাহ রাব্বুল আ'লামী হযরতম ইব্রাহিম (আ.)'র ঈমানের পরীক্ষা নেয়ার জন্য তার একমাত্র ছেলে হযরত ইসমাইলকে কোরবানি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নবী ইব্রাহিম (আ.) আল্লাহ'র নির্দেশ নিজের আদরের সন্তানকে কুরবানি করতে উদ্যোগী হন।ফলে আল্লাহ তার প্রতি খুশি হয়ে সন্তানের জায়গায় পশু কুরবানি করান এবং ইব্রাহিম (আ.) সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।আল্লাহ তাঁকে খুশি হয়ে খলিলুল্লাহ উপাধি প্রদান করেন। এ ঘটনা স্মরণে এ দিন সচ্ছল মুসলিমরা পশু কোরবানি করে থাকেন।এই কুরবানির মাধ্যমে মুসলিমরা স্রষ্টার নৈকট্য অনুভব করেন এবং তাদের আত্মিক উন্নতি হয়।কেননা, কুরবানির সময় যে দোয়া পড়া হয় তাহলো:আমি সব দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে সেই মহান সত্তার দিকে আমার মনকে রুজু করছি, যিনি সারা জাহানের প্রতিপালক এবং নিশ্চয়ই আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ সবকিছুই সেই মহান প্রতিপালকের জন্য নিবেদিত।হে আল্লাহ, এই পশু তো তোমারই পক্ষ থেকে এবং আমি তোমার জন্যই এটি উৎসর্গ করছি।হে আল্লাহ এই কুরবানি একান্তভাবেই আপনার জন্য আমার (এবং অমুকের) পক্ষ থেকে।আল্লাহর নামে শুরু।আল্লাহ সর্বশক্তিমান।’’

দেশের মুসলিমরা সকালে ঈদগাহে নামাজ আদায় এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত শেষে বাড়ি ফিরে প্রথমে পশু কোরবানি দেন।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। এতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদুল আজহার পাঁচটি জামাত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায়, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায়, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে হবে।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নারীদের নামাজ আদায়ের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।

এদিকে, দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবে ঈদুল আজহা পালনের জন্য নিরাপত্তা বাহিনীগুলো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সেই সাথে তাদের সড়ক, নদী ও রেলপথে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকা এবং বাংলা ও আরবিতে ‘ঈদ মোবারক’ লেখা ব্যানারে সজ্জিত করা হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে কারাগার, হাসপাতাল, সরকারি শিশু কেন্দ্র, ছোটমনি নিবাস ও আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও স্টেশনগুলো বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণীতে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলিমদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, কোরবানি আত্মদান ও আত্মত্যাগের মানসিকতা সৃষ্টি করে এবং আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করে নেয়ার মনোভাব ও সহিষ্ণুতার শিক্ষা দেয়।

বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবহমানকাল থেকে বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ স্বাধীনভাবে নিজেদের ধর্ম ও আচার-অনুষ্ঠান জাঁকজমকের সাথে পালন করে আসছে। ‘এটা আমাদের সম্প্রীতির এক অনুপম ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্যকে সমুন্নত রেখে দেশ ও জাতির কল্যাণে তা কাজে লাগাতে হবে।’

রাষ্ট্রপতি সরকার নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেয়া ও বর্জ্য অপসারণে সবাইকে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, ঈদুল আজহা শান্তি, সহমর্মিতা, ত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। ‘আসুন, আমরা সবাই পবিত্র ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’

প্রতিবারের মতো এবারও ঈদ ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জীবনে সুখ ও আনন্দের বার্তা বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ