ঢাকা, রোববার 17 November 2019, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

চামড়ার দামে সিন্ডিকেটের কারসাজি:কাদেরের হুঁশিয়ারি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:সিন্ডিকেটের কারসাজির কোরবানির পশুর চামড়ার দাম পতনের অভিযোগ খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘চামড়ার দাম নিয়ে সিন্ডিকেটদের কারসাজি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে যারা দোষী তাদের কাউকে রেহাই দেয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

বুধবার সচিবালয়ে ঈদ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

চামড়ার দাম কমে যাওয়ার পেছনে ‘সিন্ডিকেটের কারসাজির’ অভিযোগের বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘চামড়ার ব্যাপারে বাস্তব চিত্রটা কী তা আমার সম্পূর্ণ জানা নেই। এ বিষয়ে যারা অভিজ্ঞ তাদের কাছ থেকে জানা দরকার।’

ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়ার দাম এবারও নির্ধারণ করে দেয় সরকার। গত বছরের নির্ধারিত মূল্যই বজায় রাখা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকার ভেতরে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে এ দাম ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

কিন্তু এবার কোরবানির ঈদের দিন থেকেই সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কেনা হচ্ছে না বলে অভিযোগ আসতে থাকে। নির্ধারিত দামের অর্ধেক মূল্যে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে লাখ লাখ টাকার চামড়া রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হয় ব্যবসায়ীরা।

উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মঙ্গলবার রাতে কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

এ প্রসঙ্গে কাদের বলেন, ‘চামড়া ব্যবসায় ভয়াবহ ধস নেমে আসার পেছনে একটি মহল সব সময় সিন্ডিকেট করে ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত করার চেষ্টা করে। সিন্ডিকেটের একটা চক্র আমাদের দেশে রয়েছে। চামড়া ব্যবসায় ধস নামার পেছনে আসলে কারা জড়িত বিষয়টি আমি জানি না। যদি সিন্ডিকেটের কারসাজি হয়ে থাকে, তবে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এদিকে বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী মঙ্গলবার অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলের ‘সিন্ডিকেটের কারসাজিতে’ কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম কমিয়ে ‘পাশের দেশে পাচার’ করা হচ্ছে।

রিজভীর সমালোচনা করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ঢালাও অভিযোগ করা বিএনপির পুরানো অভ্যাস। যদি কোনো সিন্ডিকেটের কারসাজি হয়ে থাকে, যিনি অভিযোগ করেছেন তিনি বলুন, তথ্য প্রমাণসহ দিতে হবে। বাস্তবে তাদের ইতিবাচক কোনো কাজ নেই, তারা সব সময় নেতিবাচক বিষয়কে আকড়ে ধরে। সব সময় সরকারের সামান্য কিছু পেলেই তাড়া ঢালাও বিষোদগার করতে থাকে। এটা বিরোধী দলের ঢালাও বিষোদগার কি না খতিয়ে দেখা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের পর মাত্র একদিন সময় গেল, এ সময়ে পুরো বিষয় মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। সব কিছু মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে বিষয়টি মূল্যায়ন করতে হবে।’

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ