ঢাকা, সোমবার 9 December 2019, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

মুসলিম কমাতে নারীদের জোর করে বন্ধ্যা করে দিচ্ছে চীন

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: চীনের তথাকথিত ‘পুনঃশিক্ষা’  বন্দিশিবিরে; যেখানে জোরপূর্বক মুসলিমদের আটক করে রাখা হয়েছে, সেখানে উইঘুর মুসলিম নারীদের জোর করে ইনজেকশনের মাধ্যমে বন্ধ্যা করে দেয়া হচ্ছে। 

দেশটির জিনজিয়াং প্রদেশে কথিত ‘পুনঃশিক্ষা’ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আটক ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমের মধ্যে যেসব নারী রয়েছেন তাদের সঙ্গে এমনটা করা হচ্ছে বলে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত হয়েছে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জিনজিয়াংয়ের সেসব শিবিরে একসময় বন্দি থাকা নারীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট।প্রতিবেদনে আরো বলা হয় চীনে ধর্মীয় সংখ্যালঘু এসব মুসলিম দীর্ঘদিন ধরে জিনজিয়াংয়ে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

জিনজিয়াং প্রদেশ চীনের পশ্চিম অঞ্চলে অবস্থিত। ওই অঞ্চলটি স্বর্ণ, তেল ও গ্যাসসম্পদে সমৃদ্ধ। সেখানে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তারা সবাই উইঘুর সুন্নি মুসলমান। তারা চীনা নয়, তুর্কি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত। কথাও বলেন উইঘুর ভাষায়। স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করতে পারে ভেবে তাদেরকে আটকে রেখে নির্যাতন চালাচ্ছে চীনা সরকার।

গুলবাহার জলিলভা নামে একজন যিনি ১ বছরের বেশি সময় ধরে চীনের ওই বন্দিশিবিরে ছিলেন। ফ্রান্স২৪’কে তিনি বলেন, তারা সময়ে সময়ে আমাদের ইনজেকশন দিত। দরজার ছোট একটু জায়গা দিয়ে আমাদের হাত আটকাতে হয়েছিল। ইনজেকশন দেয়ার পর আমরা দ্রুত অনুধাবন করতে পারি আমাদের আর কখনো পিরিয়ড হবে না।

তিনি আরও বলেন, ছোট একটি সেলে ৫০ জনসহ আমার বেশিরভাগ সময় পার করতে হয়েছে। আমাদের তখন মনে হত আমরা কেবল এক টুকরা মাংস।

মেহরিগুল তুরসুন একসময় চীনের ওই বন্দিশিবিরে ছিলেন তিনি বলেন, তাদের অজ্ঞাত ড্রাগ ও ইনজেকশন দেয়া হত। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন তুরসুন।

তিনি আরও বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ক্লান্ত বোধ করেছিলাম, স্মৃতিশক্তি হারিয়েছিলাম এবং হতাশাগ্রস্থ বোধ করেছিলাম। এবং এর ৪ মাস পর তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ বলে ধরা পড়ার পরে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে এলে সেখানকার চিকিৎসকেরা জানান, তাকে বন্ধ্যা করে দেয়া হয়েছে।

মেহেরগুল জানান, আরও লাখ লাখ নারীকে এভাবে জোরপূর্বক বন্ধ্যা করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এসব নারী।

চীনের উগ্রপন্থীদের মোকাবেলার অজুহাতে কথিত রাজনৈতিক পুনঃশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে উইঘুর সম্প্রদায়ের ১০ লাখ মুসলিমকে আটক রাখা হয়েছে জানিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের মুক্ত করার দাবি জানিয়ে আসছ জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে চীন সরকার।

গবেষকরা বলছেন, ‘যুদ্ধের সময় বন্দিশিবিরগুলোতে যেভাবে পূনঃশিক্ষা কার্যক্রম চালানো হয় ঠিক সেভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে উইঘুর মুসলিমদের। পদ্ধতিগতভাবে তাদেরকে সামাজিকবাবে দীক্ষায়ন করার কাজটি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। যা প্রকৃতপক্ষে সাংস্কৃতিক গণহত্যা।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ