ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 August 2019, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চামড়ার দামে ভয়াবহ ধস

ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ৫ কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার দুই পাশে ফেলে দেয়া হয়েছে অসংখ্য পশুর চামড়া

* চামড়া ফেলে দিয়ে মাটিতে পুঁতে প্রতিবাদ
* শিল্প ধ্বংসের আশংকা
স্টাফ রিপোর্টার : চামড়ার দামে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এবার গরুর কাঁচা চামড়ার দাম ঢাকায় নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। সারাদেশে খাসির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয় প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা। কিন্তু বাস্তবে তার ধারে কাছেও নেই। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এবার চামড়ার দামে মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে। চামড়া শিল্প ধ্বংসের আশংকা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, বিশ্ববাজারে চাহিদা হ্রাস এবং নগদ টাকা না থাকার দোহাই দিয়ে পানির দামে কাঁচা চামড়া কিনছেন পোস্তার আড়তদাররা। ১৫/২০ হাজার টাকার খাসির চামড়া বিক্রি হচ্ছে আধা -লিটার পানির দামে। সরকার প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বেঁধে দিলেও এর অর্ধেকও পাচ্ছেন না মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। পাড়া-মহল্লা থেকে বেশি দামে চামড়া কিনে পঞ্চাশ থেকে একশ’ টাকায় বিক্রি করতেও বাধ্য হচ্ছেন কেউ কেউ। কোথাও কোথাও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর রাজধানীর বাইরে দেশের অন্যান্য স্থানে চামড়া বেচা-কেনা হচ্ছে আরও কম দামে। রাজধানীর বাইরে সবচেয়ে ভালো মানের কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে ৬শ টাকায়। আর মাঝারি মানের চামড়া বিক্রি হয় ৩শ’ থেকে ৫শ’ টাকার মধ্যে। যা গত বছরও ৭শ থেকে ৮শ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত ৩১ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমদামে বিক্রি হচ্ছে পশুর চামড়া। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৮০ হাজার টাকার গরুর চামড়ার দাম দিচ্ছেন ২শ টাকারও কম। এক লাখ টাকার গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩শ’ টাকা। বিগত বছরগুলোতে নামাজের পরপরই বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীর ভিড় দেখা গেলেও এবার তাদের দেখা মেলেনি। সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া দাম অনুযায়ী, ঢাকায় কুরবানির গরুর প্রতিটি ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুট চামড়া লবণ দেয়ার পরে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ট্যানারি মালিকদের।
ফলে লাভ দূরের কথা এ আড়ৎ সে আড়ত ঘুরেও খাটানো পুঁজি তুলতে পারেননি অনেকে। চামড়া নষ্ট হয়ে গেছে- আড়তদারদের এমন অজুহাতে শেষ পর্যন্ত মাত্র ৬০ টাকা দরে চামড়া বেচতেও বাধ্য হয়েছেন কেউ কেউ। তবে, কাঁচা চামড়া ক্রেতা সমিতির দাবি, প্রতি বর্গফুট ৩৫-৪০ টাকা দরে চামড়া কিনছেন তারা। চুয়াত্তরের দুর্ভিক্ষের পর দেশে চামড়ার দাম এতটা কমেনি স্বীকার করে তিনি বলেন, নগদ টাকার অভাবেই নজিরবিহিন এ দরপতন। আড়তদাররা বলছেন, চামড়ার বাজারে ধসের কারণে কিছু চামড়া পাচার হলেও লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এক কোটি পিসের বেশি চামড়া সংগ্রহ সম্ভব হবে।
বাংলাশে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ মৌসুমি বলেন, ‘মৌসুমি ব্যবসায়ীরা যেন চিন্তাভাবনা করে এবার চামড়া কেনেন। কারণ, আমরা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরাসরি চামড়া সংগ্রহ করছি না। তবে যারা লবণ দেবেন, তাদের কাছ থেকে আমরা চামড়া নেবো।’ কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের হাতে এই মুহূর্তে সব চামড়া কেনার মতো টাকা নেই। ফলে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এবার সব চামড়া হয়ত আমরা কিনতেই পারবো না।’
ফেলে দেয়া হলো চামড়া : ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ৫ কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার পার্শ্বে ফেলে দিয়েছে কুরবানির পশুর শত শত চামড়া । দাম না পাওয়ায় আবার কেউ ক্ষোভ অভিমানে কুরবানির পশুর চামড়া ফেলে দিয়েছে। ঢাকা নারায়নগঞ্জ লিংক রোডের ১০ কিলোমিটার সীমানার মধ্যে প্রায় ৫ কিলোমিটার জুড়ে রাস্তার দুই পাশ্বে ময়লা আবর্জনার সাথে ফেলে দেওয়া হয় কুরবানির পশুর চামড়া। এপথ দিয়ে যাতায়াতকারী বিভিন্ন পরিবহন যাত্রীরা মন্তব্য করেছেন, পানির দরে পশুর চামড়া বিক্রি করার চাইতে রাস্তার পাশ্বে ময়লা আবর্জনার মধ্যে ফেলে দেয়া অনেক ভালো।
জানা গেছে, লিংক রোডের জালকুড়ি, দেলপাড়া, কড়ইতলা,কাজীবাড়ি,ভুইগড়সহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তার দুই পাশ্বে পড়ে আছে পশুর চামড়া। বিশেষ করে ময়লা আবর্জনার স্থলে পড়ে আছে চামড়ার স্তুপ। পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দেলপাড়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, মানুষ কষ্টে দু:খে পশুর চামড়া রাস্তা ফেলে প্রতিবাদ জানিয়েছে। মৌলভীবাজারে কুরবানির পশুর চামড়া রাস্তায় পচে নষ্ট হয়েছে। বিনামূল্যেও নিচ্ছে না কেউ। এ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চামড়া সংগ্রহকারীরা, ছালাই কর্মী ও মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ। চামড়া বিক্রি করতে না পেরে কয়েক হাজার চামড়া নদীতে ফেলে দেন তারা। অন্যরা মাটিতে পুঁতে রেখেছেন। রাস্তায় ফেলে রাখা পচাঁ চামড়া অপসারণে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা মনু নদীর তীরে গর্ত করে চামড়া মাটি চাপা দিচ্ছে। পোস্তার আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা সিন্ডিকেট করার কারণে এমনটাই হয়েছে বলে স্থানীয় চামড়া ক্রেতাদের অভিযোগ।
জানা গেছে, শত বছরের পুরাতন বৃহত্তর সিলেটের বড় ব্যবসা কেন্দ্র মৌলভীবাজারের বালিকান্দি যাওয়ার পর সারা দিন ধরে চামড়া বিক্রি করতে না পারায় নিরুপায় হয়ে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেন সংগ্রহকারী এতিমখানা কর্তৃপক্ষসহ কুরবানিদাতারা। যার ফলে প্রবাসী অধ্যুষিত মৌলভীবাজার জেলায় লক্ষাধিক চামড়া নষ্ট হয়েছে। এতে বেকার সময় পার করছেন চামড়া শিল্পের প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকারী কয়েক হাজার মৌসুমী শ্রমিক।
ঈদের পরের দিন প্রচুর পরিমাণ গরু ও খাসির চামড়া মৌলভীবাজার পৌর বাস টার্মিনালে জমে আছে। সেখানেও দেখা যায়নি কোনো ক্রেতা-বিক্রেতা। মঙ্গলবার বিকেলে চামড়াগুলো পচে পরিবেশ দূষণ হওয়ার আশংকায় পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা মাটি গর্ত করে চামড়াগুলো পুঁতে ফেলে। এ সময় মৌলভীবাজার পৌরমেয়র ফজলুর রহমান বলেন ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য পৌরবাস টার্মিনালে চামড়া রাখার স্থান দেয়া হয়েছিল। সেখানে এত চামড়া জমা হয়ে ছিল যা ইতিমধ্যে নষ্ট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই চামড়াগুলো নিতে কেউ এগিয়ে না আসায় পরিবেশ রক্ষার জন্য গর্ত করে মাটিতে পুঁতে ফেলেছি যা কাম্য নয়। তিনি আরো বলেন, এ রকম ঘটনা অতীতে কখনো ঘটেনি। মৌলভীবাজারের ঐতিহ্যবাহী বালিকান্দি গ্রামের ব্যবসায়ীরা চামড়া না কেনার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় এতিমখানার সদস্য জাহেদ বলেন, আমাদের এতিমখানা পরিচালনা জন্য বড় অংকের আয়ের উৎস হলো চামড়া বিক্রির টাকা। এবার কি দিয়ে এতিম খানা চলবে ভেবে পাচ্ছি না। বালিকান্দি গ্রামের ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী ফরিদ মিয়া বলেন, রাতের বেলা বিভিন্ন চামড়া সংগ্রহকারী এসে বিনামূল্যে চামড়া দিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে কিন্তু আমরা রাখতে পারিনি। অনেকে রাস্তায় চামড়া রেখে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় আমিরপুর মাদরাসার মোহতামিম মাওলানা ওয়ালিদুর রহমান বলেন, আমরা বছরে একবার চামড়া সংগ্রহ করি, যা বিক্রি করে এতিম অসহায়দের সাহায্য করি। কিন্তু এবার যে কি হবে তা ভেবে পাচ্ছি না। স্থানীয় ভাবে বিক্রি করতে না পেরে বালিকান্দি নিয়ে যাই। রাত ২টা পর্যন্ত কোন ক্রেতার দেখা পাইনি। অবশেষে বিনামূল্যে দিতে চাইলেও কেউ তা নেননি। পরে পাশের মনু নদীতে ফেলি।
চট্টগ্রামে পরিত্যক্ত হাজার হাজার চামড়া : চট্টগ্রামে অবিক্রিত হাজার হাজার কুরবানির গরু, মহিষ ও ছাগলের চামড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে বিভিন্ন সড়কের পাশে এবং ডাস্টবিনে। এক সময়ের মূল্যবান এই রপ্তানি পণ্যটি এখন বর্জ্য পদার্থ হিসেবে পরিষ্কারে নেমেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। পবিত্র কুরবানি শেষে পশুর বর্জ্য অপসারণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সাফল্য দেখালেও কুরবানির চামড়া বর্জ্য হিসেবে অপসারণ করতে গিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এদিকে পরিত্যক্ত চামড়ার কারণে নগরীর মুরাদপুর, আতুড়ার ডিপু এলাকার পরিবেশ রীতিমত বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। চরম দুর্গন্ধে এসব এলাকা দিয়ে চলাচল করাও দায় হয়ে পড়েছে।
নগরীর প্রধান চামড়ার আড়ত মুরাদপুর আতুরার এলাকায় চামড়া বিক্রি করতে না পেরে হাজার হাজার চামড়া ফেলে গেছে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত চামড়া বিক্রিতে ব্যর্থ হয়ে গ্রামাঞ্চল থেকে নিয়ে আসা এসব চামড়া ফেলে যেতে বাধ্য হয় তারা। লাখ লাখ টাকা দিয়ে কিনে আনা এসব চামড়া এখন বর্জ্য। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন মঙ্গলবার বিকেল থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া চামড়া অপসারণে কাজ করছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী জানান, কুরবানির দিনেই আমরা পুরো মহানগরীর কুরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ করেছি। কিন্তু একদিন পরেই নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে অবিক্রিত এবং পরিত্যক্ত কুরবানির পশুর চামড়া। বিক্রি করতে না পেরে হাজার হাজার চামড়া রাস্তার পাশে ফেলে চলে গেছেন ব্যবসায়ীরা। এসব চামড়া বর্জ্য হিসেবে অপসারণ করা হচ্ছে জানিয়ে শফিকুল মান্নান বলেন, ‘বুধবার সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি পশুর চামড়া ডাম্পিং করা হয়েছে। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা চামড়া অপসারণ ও ডাম্পিং-এর কাজ চলছে। সিটি করপোরেশনের তিন হাজারেরও বেশি পরিচ্ছন্ন কর্মী এসব চামড়া সরিয়ে নিতে এবং শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে কাজ করে যাচ্ছে।’
চট্টগ্রাম কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল কাদের বলেন, ‘চট্টগ্রামের চামড়া ব্যবসায়ীরা মূলত ঢাকার ট্যানারি মালিকদের হাতে জিম্মি। ট্যানারি মালিকরা চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের সমস্ত পুঁজি আটকে রেখেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা এবার চামড়া কিনতে পারেনি। এ ছাড়া যেসব চামড়া ইতোমধ্যে কেনা হয়েছে, তা সংরক্ষণের জন্য লবণ কেনার টাকাও নেই ব্যবসায়ীদের।’ এবার চট্টগ্রাম থেকে ৫ লাখ চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও কী পরিমাণ চামড়া সংগ্রহ হয়েছে সে ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেন নি আবদুল কাদের।
ক্ষতির মুখে এতিমরা : এবার কাঁচা চামড়ার দামে মহাবিপর্যয়ে ভয়াবহভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছে গরিব-মিসকিন ও এতিমরা। ধর্মীয় রেওয়াজ অনুযায়ী, কাঁচা চামড়া বিক্রির টাকা কুরবানিদাতারা গরিব-মিসকিন ও এতিমদের মধ্যে দান করে থাকেন। কিন্তু, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া ও চামড়া জাতীয় পণ্যের বাজার চড়া থাকলেও এবছর সরকারিভাবে কাঁচা চামড়ার দাম গতবছরের দরেই নির্ধারিত হয়েছে। এরপর কাঁচা চামড়া কেনার পাইকার ও ব্যবসায়ীরা আগে থেকেই ‘টাকা নেই’, ‘বেশি দামে চামড়া কিনলে বেচতে পারবেন না’, ‘সংরক্ষণ করার প্রস্তুতি রাখুন’, ‘চামড়া পচে যেতে পারে’ ইত্যাদি হুজুগ তোলায় মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনেছেন প্রায় বিনামূল্যে। ফলে চামড়ার দাম একেবারেই পড়ে যাওয়ায় কুরবানিদাতার দানের টাকার পরিমাণ গেছে কমে। ফলে চামড়া ব্যবসায়ে জড়িত সবাই লাভবান হলেও বঞ্চিত হয়েছেন কেবল এতিম ও দুস্থরা। তাদের প্রাপ্য অংশ এবার ভয়াবহভাবে কমে গেছে।
আলেমরা বলছেন, চামড়া বিক্রির টাকা মূলত গরিব, এতিম ও দুস্থদের হক। কাজেই চামড়ার দাম কমে যাওয়া মানেই গরিব, এতিমদের অংশ কমে যাওয়া। তিনি বলেন, চার বছর আগে বড় একটি গরুর চামড়ার টাকা দিয়ে একজন এতিম ছয় মাস চলতে পারতো। কিন্তু এবার ওই ধরনের বড় গরুর চামড়ার টাকায় তার এক মাসও যাবে না।
মূলত যারা গরু, মহিষ, ছাগল বা হালাল পশু কুরবানি করেন, সেই পশুর চামড়া বিক্রির টাকা স্থানীয় মাদরাসার গরিব ছাত্র, এতিম-মিসকিন বা গরিব বা দুস্থদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে দিয়ে থাকেন। কিন্তু, কয়েক বছর হলো সেই চামড়ার দাম পাচ্ছেন না পশু কুরবানিদাতারা। এবার কুরবানির পশুর চামড়ার দাম ভয়াবহভাবে কমে গেছে।
কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত : চামড়ার উপযুক্ত দাম নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবদুল লতিফ বকসী এ তথ্য জানান। মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত মূল্যে কুরবানির পশুর চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে না। এ বিষয়ে চামড়াশিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত দামে কাঁচা চামড়া বেচাকেনা নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা কামনা করা হয়। কাঁচা চামড়ার গুণাগুণ যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য স্থানীয়ভাবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে চামড়া সংরক্ষণের জন্য ব্যবসায়ী ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের ওই বিজ্ঞপ্তিতে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার জন্য বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
কাঁচা চামড়া রফতানির বিরোধীতা : এদিকে চামড়ার দামে ভয়াবহ ধসের মধ্যে কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)। গতকাল বুধবার সংগঠনটির ধানমন্ডির নিজ কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে বিটিএ’র চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বলেন, ‘কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ দিলে শতভাগ দেশীয় এই শিল্প হুমকির মুখে পড়বে। তিনি আরও বলেন, ‘চামড়া শিল্প নগরীতে সাত হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। সাভারস্থ আধুনিক শিল্প নগরী প্রয়োজনীয় কাঁচা চামড়ার অভাবে সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়বে। এতে করে এই শিল্পের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত বিস্তর জনগোষ্ঠী বেকার হয়ে পড়বে। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। সার্বিক বিষয়ে বিবেচনা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেয়া কাঁচা চাপড়া রফতানি সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো জরুরি।’
শাহীন আহমেদ বলেন, ‘যেসব মৌসুমি ব্যবসাযী কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছে তাদের আশ্বস্ত করছি, লবণযুক্ত কাঁচা চামড়া আমরা ন্যায্য মূল্যে তাদের কাছ থেকে নেবো। তাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সরকার নির্ধারিত দামে আগামী ২০ আগস্ট থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু হবে।’ চামড়ার দাম না পাওয়া ও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য আড়তদারদের ওপর দায় চাপায় বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন।

৮০০ চামড়া রাস্তায় ফেলে প্রতিবাদ
১০ টন চামড়া সিসিকের ময়লার গাড়িতে
সিলেট ব্যুরো : দেশের অন্যান্য স্থানের মতো বিপাকে পড়েছেন সিলেটের চামড়া সংগ্রহকারী ব্যবসায়ীরা। চামড়ার ন্যায্য দাম না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এসব মৌসুমী ব্যবসায়ীবৃন্দ। অন্যান্য বছরের পাওয়া দামের চেয়ে এবার ১০ গুনের কম দামে সিলেটে বিক্রি হয়েছে কুরবানির পশুর চামড়া। অনেকেই নিজে দেয়া কুরবানি পশুর চামড়া কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে রাস্তায় ফেলে গিয়েছেন। কেউ বা সিসিকের ময়লার ‘গাড়িতে ফেলে দিয়েছেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ময়লা ফেলার ‘গাড়িতে প্রায় ১০ টন কুরবানির পশুর চামড়া গিয়েছে। নগরীর খাসদবীর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ চামড়ার কাক্সিক্ষত দাম না পেয়ে ৮০০ চামড়া মাটিতে পুতে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
রাস্তায় ফেলে রাখা এসব চামড়া পচে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হওয়ায় সেগুলো রাতেই অপসারণ করে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। নগরীর বিভিন্নস্থানে ফেলে রাখা প্রায় ১০টন চামড়া নিয়ে ফেলা হয়েছে দক্ষিণ সুরমার পারাইরচকে ময়লার ভাগাড়ে।
এমন তথ্য জানিয়েছেন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ভালো দাম না পাওয়ায় চামড়া বিক্রেতারা রাস্তায় ফেলে রেখে চলে যান। সেগুলো থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় সিসিক কর্তৃপক্ষ সেগুলো অপসারণ করে পারাইরচকে ময়লার ভাগাড়ে ফেলা হয়েছে। ভাগাড়ে ফেলা চামড়া প্রায় ১০টন হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে, সোমবার রাতে ন্যায্য মূল্য না পেয়ে আম্বারখানা এলাকায় আটশতাধিক চামড়া ফেলে রেখে চলে সিলেটের খাসদবির দারুস সালাম মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। এরপর আরো অনেকেই প্রতিবাদ স্বরূপ তাদেরকে অনুসরণ করেন।

আত্রাইয়ে পানির দরে চামড়া বিক্রি
আত্রাই (নওগাঁ) সংবাদদাতা : নওগাঁর আত্রাইয়ে এবার কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি হয়েছে পানির দরে। গত কয়েক বছরের মধ্যে এই দাম ছিলো সর্বনিম্ন। গরুর চামড়া ১০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা এবং ছাগল-ভেড়ার চামড়া বিক্রি হয়েছে ৫ টাকা থেকে ২০ টাকা দরে । এই মূল্য অবনতির বড় শিকার হয়েছে দুঃস্থ মানুষ এবং ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বছরের বৃহৎ এই আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠানের মাথায় হাত পড়েছে।
চামড়ার চাহিদা না থাকার অজুহাতে এবার ন্যায্যমূল্য দেয়নি এখানকার ব্যবসায়ীরা। ফলে কুরবানির পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে পড়েন উপজেলাবাসী। এ কারণে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে পানির দরে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, এবার কারসাজি করে চামড়ার দাম কমিয়ে ফেলা হয়েছে। ছলচাতুরি করে কমমূল্যে চামড়া কেনার চক্রান্ত বাস্তবায়ন করেছে একটি সিন্ডিকেট চক্র। এবার আত্রাই উপজেলায় কুরবানির চামড়ার দাম ছিল গেল কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মসজিদ-মাদ্রাসা-এতিমখানার কমিটির কাছে দান করা চামড়াগুলোর দামও ওঠেনি ভালো।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশি দরে চামড়া কিনে প্রতিবছরই তাদের লোকসান গুণতে হয়। এ জন্য এবার তারা বেশ ‘সতর্ক’ হয়েই চামড়া কিনেছেন। গতবছর ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট চামড়া ৪০ টাকা ও খাসির চামড়া সারা দেশেই ২২ টাকা দরে কিনেছেন ব্যবসায়ীরা। এবারও তারা একই দর চূড়ান্ত করে নিয়েছিলেন সরকারের কাছ থেকে। অন্য বছর সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দরে চামড়া বিক্রি হলেও এবার তা হয়নি।
উপজেলা জুড়ে এবার ফড়িয়াদেরও দৌরাত্ম্য ছিল অনেক কম। ফলে চামড়া কেনার সময় ব্যবসায়ীরা এবার বেমালুম চেপে গিয়েছেন সরকার নির্ধারিত দাম। কোথাও কোথাও চামড়া বিক্রি হয়েছে নির্ধারিত দামের চেয়েও কম টাকায়। গত কয়েকটি কুরবানির ঈদে চামড়া এতো কম মূল্যে বিক্রি হতে দেখা যায়নি। অন্য বছরগুলোর তুলনায় এবার মৌসুমি ব্যবসায়ীর দাপটও ছিল কম। ফলে চামড়ার বাজারে ‘রাজত্ব’ করেছেন প্রকৃত ব্যবসায়ীরাই। তারা চামড়া বিক্রেতাদের বলেছেন, গত বছরের চামড়ার প্রায় অর্ধেক এখনো রয়ে গেছে ঢাকার ট্যানারিগুলোতে। তাছাড়া ট্যানারিগুলো স্থানান্তর করতে গিয়েও টালমাটাল ব্যবসায়ীরা। ফলে নতুন করে চামড়া কেনার আগ্রহ ছিলো না তাদের। তারা চামড়া কিনছেন ঝুঁকি নিয়ে। ট্যানারি মালিকরা চামড়া না নিলে তারা লোকসান গুণবেন। এ জন্য তারা চামড়া বেশি দামে কিনতে পারছেন না।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের একাধিক মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক বছর চামড়া ব্যবসা করে মহাজনের কাছে তাদের লাখ লাখ টাকা বকেয়া পড়েছে। তাই এবার সতর্কতার সঙ্গে চামড়া কিনেছেন। তারা আরো বলেন গরুর চামড়া ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে কিনেছেন।
উপজেলার ভরমাধাইমুড়ি সিদ্দিকিয়া দারুল উলুম কাওমি মাদরার শিক্ষক মতিউর রহমান জানান, এবার চামড়ার দাম হওয়ার কারণে অনেক গ্রামে ছাগল-ভেড়ার চামড়া কেউ কিনতেও পর্যন্ত যায়নি। অনেক কুরবানিদাতা পশুর চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেছে । আবার কেউ কেউ নদীর পানিতে ভাসিয়ে দিয়েছে।
এদিকে চামড়ার দাম কম হওয়ায় কুরবানিদাতারা হতাশ হন। তারা মন্তব্য করেন, মাত্র কয়েক বছর আগে একটি গরুর চামড়া দুই হাজার থেকে আড়াই হাজারে এবং ছাগলের চামড়া ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পশুর মূল্য অনেক বেড়ে গেলেও চামড়ার দাম নেই বললেই চলে। এতে বিভিন্ন মাদ্রাসার এতিম শিশুদের হক নষ্ট করা হয়েছে। তারা এ জন্য চামড়া ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন। তারা বলছেন, গরিবের হক নষ্ট করে ধনীরা আরও ধনী হচ্ছেন।
উপজেলার সচেতন মহল মনে করছেন, সিন্ডিকেট চক্র সরকার নির্ধারিত দরের তোয়াক্কা না করে নামমাত্র দরে চামড়া বিক্রি করতে জনগণকে বাধ্য করেছে। এদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিরদাবি জানান।

বাগমারায় কুরবানির পশুর চামড়া সেন্ডিকেটে বেহালদশা
বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : রাজশাহীর বাগমারায় কুরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন বিক্রেতারা। এবারে ছাগলের চামড়া ১০ টাকা গরুর চামড়া ৬০ টাকা, মহিষ ও ভেড়ার চামড়া বিক্রি নেই। বিগত দিনে ঈদের দিন বিকেল থেকে কাঁচা চামড়া পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য মওসুমী চামড়া ব্যবসায়ী মিলে। কিন্তু এবারে গ্রামে সমাজে সমাজে চামড়া নিয়ে জমা থাকলে ক্রেতা দেখা দায় হয়ে পড়ে। চামড়া সিন্ডিকেটে কাঁচা চামড়া বিক্রি করতে না পেরে উপজেলার অধিকাংশ চমড়া পচে গেছে। এতে করে এতিম খানা, হাফিজিয়া মাদরাসা, গরীব ও দুস্থ অসহায় পরিবারের মাথায় হাত উঠেছে।
জানা যায়, প্রতিবারে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু, খাশি, মহিষও ভেড়া কুরবানি দেয়া হয়। কুরবানির পশুর চামড়া থেকে অর্জিত অর্থ হকদার হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ে মাদরাসা, এতিম খানা ও দুস্থ পরিবারদের দান করা হয়। এবারে সরকারী ভাবে ঢাকার বাইরে গরুর কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধরিণ করা হয় ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। খাশির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা, বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা। কিন্তু বাগমারা এলাকায় বর্গফুটের হিসেব তো দূরের কথা কোন দামই মিলছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানের মত কুরবানির পশুর চামড়া সিন্ডিকেটের অংশ হিসেবে এলাকায় চামড়া বাজার ধস নেমেছে। ক্রেতা সংকটে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অধিকাংশ এলাকার চামড়া পচে নষ্ট হয়েছে। বালানগর গ্রামের জামাতীয় সরদার মোফাজ্জল হোসেন জানান, কুরবানির চামড়ার অর্থ হকদার এতিম ও অসাহয়রা এবারে চামড়ার চাহিদা না থাকায় চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না। ঈদের দিনে প্রতিবারে মওসুমী চামড়া ব্যবসায়ী ভিড় করে। সন্ধ্যা পূর্বে কোন গ্রাহক মিলেনি। মাগরিবের নামাজ পার স্থানীয় এক ব্যবসায়ীকে চামড়া দিয়ে কিছু টাকা জমা দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পরের দিনের চামড়া কেউ না নিলে বুধবার সকালে তা মাটির নীচে পুতে দেয়া হয়। একই বাবে গ্রামের সরদার এরশাদ আলী বলেন, তিনি গরুর চামড়া ১০০ টাকা ও খাশির চামড়া ১০ টাকা করে বিক্রি করেছেন। মওসুমী চামড়া ব্যবসায়ী গোলাম হোসেন, ময়েন উদ্দিনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রতিবারে চামড়া ক্রয়ের আগে তারা বড় ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে আসতো। এবারে তারা চামড়ার চাহিদা নেই বলে টাকা দেননি। টাকা না পেয়ে চামড়া ক্রয়ে তাদের আগ্রহ নেই। তবে তারা নিজে নিজে তারা কম দামে কিছু চামড়া কিনে নাটোরে নিবেন বলে জানান। এদিকে এতিম খানা, হাফিজিয়া মাদরাসা, গরীব ও দুস্থ অসহায়রা প্রতিবারের ন্যায় কুরবানির চামড়া টাকা অর্থিক সহায়তা নিতে আগে থেকে পাড়া-মহল্লায় চিঠি বিতরণ করেছে। কুরবানির চামড়া বিক্রি সংকট ও দাম না পেয়ে পাড়া-মহল্লার প্রতিনিধিরা তাদেরকে কি ভাবে সহায়তা দিবেন এমনটি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ