ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 August 2019, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

সরকার দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে -প্রধানমন্ত্রী

সংগ্রাম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার বিশ্ব পরিমন্ডলে মর্যাদার আসন ধরে রেখে দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে। এটা সম্ভব হয়েছে দেশের জনগনের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যাপক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে সাফল্য অর্জনের মাধ্যমে। তাই সরকার বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ যে মর্যাদার আসনে আসীন হয়েছে তা ধরে রাখতে চায়।
প্রধানমস্ত্রী বলেন, ‘আজ দেশের উন্নয়নের যে অগ্রযাত্রা সেটা অব্যাহত থাখবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। মানুষ উন্নত, সুন্দর জীবন পাক।’এ লক্ষে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। তাঁর সরকার শত প্রতিকুলতা অতিক্রম করে বাংলাদেশকে আজ বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘আমরা চাই মাথা উঁচু করেই এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।’
শেখ হাসিনা গত সোমবার সকালে তাঁর সরকারী বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ,পদস্থ কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্বিজীবী এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ সহ সাধারণ জনগণের সঙ্গে ঈদ উল আযহার শুভেচ্ছা বিনিময়কালে একথা বলেন।
জনগণের সুখী ও সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিত করা তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ যেন বাংলাদেশকে খাটো করে দেখতে না পারে, এদেশের মানুষ সর্বত্র মর্যাদা পায় সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।’ তিনি এ সময় তাঁর এবং আওয়ামী লীগের ওপর আস্থা রেখে দেশের জনগন ভোট দিয়ে আরেকবার দেশ সেবার সুযোগ দেয়ায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোট দিয়ে আমাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করার মর্যাদা আমি রক্ষা করবো। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই আমার লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি সব কিছু উৎসর্গ করে এদেশের জনগণের ভাগ্য গড়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চারনেতা, ১৫ আগষ্টের শহীদ সহ মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত ঈদ আমাদের যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করার প্রেরণা দেয়।’
এসময় যারা হজ করতে গেছেন তাঁদেরও ঈদের শুভেচ্ছা জানান তিনি। সেইসঙ্গে সবার দোয়া ও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। সম্প্রতি নিজের চোখের ছানি অপারেশনসহ নানা প্রসঙ্গ টেনে সবার দোয়া চান তিনি।
পবিত্র ঈদুল আযহার এই দিনে গণভবনের সবুজ চত্বর বর্নাঢ্য সাজে সজ্জিত করা হয়। বিভিন্ন বয়সের এবং শ্রেনী পেশার লোকজন দীর্ঘ সাঁড়িতে অপেক্ষমান থেকে প্রধানমন্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, সিনিয়র সাংবাদিক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ, বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং সর্বোপরি সাধারণ জনতার ভীড়ে এ সময় গণভবন চত্বর মুখরিত হয়ে ওঠে।
অন্যান্য বছরের মত বছরের এই বিশেষ দিনটিতে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে সরাসরি স্বাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে অনেকেই এ সময় নিজস্ব অভাব অভিযোগ তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রী ধৈর্য ধরে অভাব-অভিযোগ শোনেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
বিচারক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তিন বাহিনী প্রধান, বিদেশি কূটনীতিক, সিনিয়র সচিব এবং সচিব মর্যাদার অন্যান্য বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মুহম্মদ ফারুক খান এবং অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, দলের যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং অন্যান্য কেন্দ্রিয় নেতৃবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আজ টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতার ৪৪তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এবং সেখানে অন্যান্য কর্মসূচিতে যোগ দিতে আজ বৃহস্পতিবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সফর করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর পৈতৃক বাড়ির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর তিনি বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে নিহত শহীদদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং ফাতেহা ও মোনাজাতে শরীক হবেন।
প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া হেলিপ্যাডে পৌঁছে সরাসরি বঙ্গবন্ধুর মাজারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু এবং ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞে নিহত অন্যান্য শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ফাতেহা ও মোনাজাতে অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানে এর আগে ৩ বাহিনীর একটি চৌকষ দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড-অব অনার প্রদান করবে।
প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, দলের নেতা-কর্মীরা মাজার প্রাঙ্গণে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে বিকেলে ঢাকায় ফিরবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ