ঢাকা, বৃহস্পতিবার 15 August 2019, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৬, ১৩ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক আহ্বান পাকিস্তানের

# ভারতীয় সিদ্ধান্ত একতরফা
# স্বাধীনতার শতবর্ষে কাশ্মীর ভারতের থাকবে না : এমডিএমকে
# মোদির পদক্ষেপ অসাংবিধানিক : প্রিয়াংকা গান্ধী
সংগ্রাম ডেস্ক : জম্মু ও কাশ্মীর প্রশ্নে ভারতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠকে বসার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। ওদিকে চীন কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত একতরফা বলে মন্তব্য করে দেশটির আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে। অপরদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ভারত শাসিত কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে। রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া, নিউইয়র্ক টাইমস।
কাশ্মীর বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের আহ্বান পাকিস্তানের
জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা রদ করার ভারতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বৈঠকে বসার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।
মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের বরাবর লেখা এক চিঠিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশি এ আহ্বান জানিয়েছেন বলে খবর বার্তা সংস্থার।
“পাকিস্তান যুদ্ধের উস্কানি দিবে না। কিন্তু ভারত যেন আমাদের সংযমকে দুর্বলতা না ভাবে,” চিঠিতে কুরেশি এমনটি বলেছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
“ভারত যদি ফের শক্তি প্রয়োগ করার পথে যায়, আত্মরক্ষার জন্য সর্বশক্তি নিয়ে পাকিস্তান জবাব দিতে বাধ্য হবে,” বলেছেন তিনি।
এহেন ‘বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখে’ পাকিস্তান ওই বৈঠকের অনুরোধ করছে, তিনি এমনটি বলেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
পাকিস্তানের অনুরোধে ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদ কীভাবে সাড়া দিবে এবং এক্ষেত্রে পরিষদের কোনো সদস্য দেশের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ দরকার হবে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা পরিষ্কার হয়নি। তাদের এ পদক্ষেপের প্রতি চীনের সমর্থন আছে বলে শনিবার জানিয়েছিল পাকিস্তান।
অগাস্ট মাসের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে পোল্যান্ড। জাতিসংঘে এক সংবাদ সম্মেলনে পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়াজেক চাপুতোভিজ পাকিস্তানের কাছ থেকে মঙ্গলবার পরিষদ একটি চিঠি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন এবং বলেছেন, “ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।”
জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে সেখানে নিজেদের আইন চালু করার ও স্থানীয় বাসিন্দা নন এমন নাগরিকদের সম্পত্তি কেনার সুযোগ করে দিয়েছে ভারত। ওই সিদ্ধান্ত নেয়ার দিন ৫ অগাস্ট থেকে কাশ্মীরের টেলিফোন লাইন, ইন্টারনেট ও টেলিভিশন নেটওয়ার্ক বন্ধ করে রেখেছে দিল্লী এবং লোকজনের অবাধ চলাচল ও জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে।
হিমালয় পবর্তাঞ্চলে অবস্থিত কাশ্মীরের বিভিন্ন অংশ ভারত, পাকিস্তান ও চীনের নিয়ন্ত্রণে আছে। সবচেয়ে জনবহুল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কাশ্মীর ভ্যালি ও হিন্দু প্রভাবাধীন জম্মু নগরী ও এর আশপাশের অঞ্চল ভারতের শাসনাধীন, আজাদ কাশ্মীর বলে কথিত পশ্চিম দিকের বিশাল একটি অঞ্চল পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে আছে আর উত্তর দিকের পবর্তময় একটি এলাকা আকসাই চীনের নিয়ন্ত্রণে আছে।
কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ১৯৪৭ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত ভারত-পাকিস্তান অন্তত তিনবার যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে।
কাশ্মীরে ভারতীয় সিদ্ধান্ত ‘একতরফা’: চীন
কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সিদ্ধান্ত ‘একতরফা’ বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে চীন আশা করে ভারত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গঠনমূলক ভূমিকা নেবে।
সোমবার একটি কূটনীতিক বৈঠক শেষে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানায় দেশটি। এর আগে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কূটনীতিক ওয়াং ইয়ের সঙ্গে সোমবার বৈঠক করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
গত ৫ আগস্ট ভারতের সংবিধান থেকে কাশ্মীর রাজ্যের স্বায়ত্ত্বশাসন দানকারী ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে ভারত সরকার জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্ত্বশাসন কেড়ে নেয় এবং এলাকাটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করার সিদ্ধান্ত জানায়। এরপরই ভারতের এ উদ্যোগকে একতরফা ও অবৈধ আখ্যা দিয়ে এর কড়া প্রতিবাদ জানায় পাকিস্তান। একসঙ্গে ভারতের পদক্ষেপের বিরোধিতা করেছে চীন।
কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান এইচআরডব্লিউ’র
ভারত শাসিত কাশ্মীরে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এইচআরডব্লিউয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি এক নিবন্ধে এ আহ্বান জানিয়েছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নিবন্ধে মীনাক্ষী লিখেছেন, এক সপ্তাহ হয়ে গেল ভারতীয় সরকার জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করেছে। কাশ্মীর এখনো নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বন্দী, তাদের প্রধান নেতারা কারাবন্দী হয়ে আছেন। ফোনের নেটওয়ার্ক সীমিত করে দেওয়া হয়েছে, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ঈদের দিন কাশ্মীরিরা তাদের প্রধান মসজিদে নামাজও পড়তে পারেননি।
প্রতিবাদরত কাশ্মীরী জনগণের ওপর সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যে জুলুম চালিয়েছে, সেটিও নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও লিখেছেন, কাশ্মীরীরা তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা করতে পারেনি, রোগীরা পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা পায়নি, এমন কথাও শোনা গেছে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাশ্মীরের অবস্থা বেশ ভাল আছে।
কাশ্মীর নিয়ে মোদির পদক্ষেপ অসাংবিধানিক: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
ভারতের জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে মোদি সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তিনি বলেছেন, অসাংবিধানিক পথে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। ওই দিন সকাল থেকে জম্মু-কাশ্মীর কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। দোকান, স্কুল, কলেজ ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনও গণপরিবহন নেই। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবাও সীমিত। শুক্রবার জুমার নামাজ ও ঈদকে সামনে রেখে কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দিয়েও রবিবার তা পুনর্বহাল করা হয়।
উত্তরপ্রদেশের সোনভদ্র সফরে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘ভারতের কাশ্মীরে যখন ৩৭০ অনুচ্ছেদ বহাল করা হয়েছিল, তখন বেশ কিছু নিয়মও তৈরি হয়েছিল। সে নিয়মগুলো না মেনেই কেন্দ্রের মোদি সরকার তা খারিজ করার কথা ঘোষণা করেন। কারও কোনও মতামতই নেয়নি বিজেপি সরকার। কিন্ত কংগ্রেস সবার মতামতের সমান গুরুত্ব দিয়ে এসেছে সবসময়। সবার মতামত নিয়েই আলোচনা করেছে।’
‘স্বাধীনতার শতবর্ষে কাশ্মীর আর ভারতের থাকবে না’
ভারতের তামিলনাড়ুর প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল এমডিএমকের প্রধান ভাইকো বলেছেন, ভারতের স্বাধীনতার শততম বার্ষিকীতে কাশ্মীর আর ভারতের অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই এমডিএমকে প্রধানের এমন মন্তব্যে বিতর্কের ঝড় বইছে।
গত ৫ আগস্ট (সোমবার) ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এদিন ভাইকো রাজ্যসভায় বলেন, “আপনারা কাশ্মীরের মানুষের ভাবাবেগ নিয়ে খেলা করছেন। যথনই ওখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল, তখনই আমার আশঙ্কা হয়েছিল। কাশ্মীরকে কসোভো, ইস্ট তিমোর বা দক্ষিণ সুদান হতে দেওয়া যাবে না।”
সোমবার এমডিএমকে প্রধান ভাইকো বলেন, দেশ যখন তার স্বাধীনতার শততম বছর উদযাপন করবে তখন কাশ্মীর আর ভারতের থাকবে না। বিজেপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘ওরা কাশ্মীরকে কাদার মধ্যে তলিয়ে দিয়েছে। আমি এর আগেও কাশ্মীর সম্পর্কে আমার মতামত প্রকাশ করেছি। কাশ্মীর সমস্যার জন্যে ৭০ শতাংশ দায়ী বিজেপি ও ৩০ শতাংশ দায়ী কংগ্রেস।’
বিশেষ মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার দিন সকাল থেকেই জম্মু-কাশ্মীর কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। দোকান, স্কুল, কলেজ ও অফিস বন্ধ রাখা হয়েছে। কোনও গণপরিবহন নেই। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবাও সীমিত। শুক্রবার জুমার নামায ও ঈদকে সামনে রেখে কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দিয়েও রবিবার তা পুনর্বহাল করা হয়।
আজাদ কাশ্মীর পরিদর্শনে ইমরান খান
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান আজাদ কাশ্মীরে সফরে গিয়েছেন। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে সেখানে তিনি ভারতকে নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সপ্তাহখানেক আগে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সাংবিধানিক স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়ার ঘোষণা দেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
এরপর গতকাল বুধবার পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের দিন ইমরান খান কাশ্মীর সফরে গেলেন।
কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেয়ার পর রাজ্যটির মর্যাদা পনর্বহালের চেষ্টা হিসাবে কূটনৈতিক তদবিরে জোর দিয়েছে পাকিস্তান।
ভারতের অবৈধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি অধিবেশন ডাকার আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান।
ইতিমধ্যে ভারতীয় কূটনৈতিককে বহিষ্কার করেছে ইসলামাবাদ। দুই দেশের মধ্যের বাণিজ্যিক ও আন্তঃসীমান্ত পরিবহনও বাতিল করেছে।
কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, এতে দিল্লিকে তার সিদ্ধান্ত থেকে এতটুকু নাড়াতে পারবে বলে মনে হচ্ছে না।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভারতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ব্যর্থ হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা করেছেন ইমরান খান।
হিটলারের নাৎসিবাদের মতো ভারতীয় হিন্দু জাতীয়তাবাদের সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে চোখ বন্ধ রাখায় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা জানান।
কাশ্মীরে ভারতকে অপরাধ ঢাকার সুযোগ দেয়া হবে না: পাক সেনাপ্রধান
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া বলেছেন, অধিকৃত কাশ্মীরে নেয়া অবৈধ পদক্ষেপে থেকে বৈশ্বিক মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ রেখা ও পাকিস্তানের দিকে সরিয়ে নিতে চাচ্ছে ভারত। কিন্তু কাশ্মীরে তাদের সংঘটিত অপরাধ ঢাকার কোনো সুযোগ দেয়া হবে না।
নিয়ন্ত্রণ রেখার বাগ সেক্টর পরিদর্শনকালে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান এমন মন্তব্য করেন। সেখানে সেনা সদস্যদের সঙ্গে তিনি ঈদ কাটান বলে দেশটির আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ অধিদফতরের বিবৃতিতে জানিয়েছে।-খবর এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের
তিনি বলেন, অধিকৃত কাশ্মীর থেকে বিশ্বের সম্পূর্ণ মনোযোগ নিয়ন্ত্রণ রেখা ও পাকিস্তানে নিয়ে যেতে চাচ্ছে ভারত, যাতে তারা সেখানে যা-ইচ্ছা তা করতে পারে। কাজেই জম্মু ও কাশ্মীরে তারা যে অপরাধ করেছে, তা ঢাকার কোনো সুযোগ তাদের দেয়া হবে না।
চলতি মাসের শুরুতে কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা কেড়ে নিয়েছে ভারতের ক্ষমতাসীন নরেন্দ্র মোদির সরকার।
সীমান্তে সেনাদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তব্যে কামার জাভেদ বলেন, কাশ্মীর সংকট নিরসনে পাকিস্তান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। শান্তির জন্য যতটা জোরালো দরকার, আমরা ততটাই পদক্ষেপ নেব বলে জানান তিনি।
পাকিস্তানের এই আর্মি জেনারেল বলেন, ধর্ম আমাদের শান্তির কথা শিখিয়েছে। কিন্তু সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে ও আত্মত্যাগের কথাও বলেছে। কাজেই কাশ্মীরি ভাই-বোনদের পক্ষে আমাদের দাঁড়তে হবে। এতে যতো চেষ্টা ও সময় লাগুক না কেন।
পরিস্থিতি অবনতি হলে আফগান সীমান্ত থেকে কাশ্মীর সীমান্তে সেনা নেবে পাকিস্তান
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত আসাদ মাজিদ খান সতর্ক করে বলেছেন, কাশ্মীর পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। পরিস্থিতি এমন হলে তার দেশ আফগান সীমান্ত থেকে সেনা সরিয়ে কাশ্মীর সীমান্তে মোতায়েন করবে। পাকিস্তান যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে তালেবান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। দু ‘পক্ষের আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসকে সোমবার দেয়া সাক্ষাৎকারে মাজিদ খান জোর দিয়ে বলেন, কাশ্মীর ও আফগানিস্তান আলাদা দুটি ইস্যু, তিনি এ দুটোকে এক করতে চান না। তার দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের আলোচনার সফলতাও কামনা করা সত্ত্বেও পাক রাষ্ট্রদূত বলেন, অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতীয় দমন-পীড়ন খুব খারাপ সময়ে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা পশ্চিম সীমান্তে বিপুল সেনা মোতায়েন করে রেখেছি। তবে কাশ্মীর পরিস্থিতির যদি অবনতি হয় তাহলে আমরা পূর্ব সীমান্তে সেনা পুনঃমোতায়েন করব।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসলামাবাদ এই মুহূর্তে পূর্ব সীমান্ত ছাড়া অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করছে না।
গত ৫ আগস্ট কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয়ার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে খুব সামান্যই যোগাযোগ আছে। এ সম্পর্কে পাক রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমি সন্দেহ করছি যে, পরিস্থিতির অবনতি ঘটবে।” তবে কী ধরনের অবনতি হবে তিনি তা বলতে অস্বীকার করেন। মাজিদ খান বলেন, “আমরা দুটি বড় দেশ; পরমাণু শক্তিধর বিশাল সামরিক বাহিনী রয়েছে এবং সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে। এ নিয়ে খালি খালি চিন্তা করে লাভ নেই; পরিস্থিতি খারাপ করলে নিশ্চয় তা আরো খারাপ হবে।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ