ঢাকা, মঙ্গলবার 17 September 2019, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

ঝিলপাড় বস্তিতে অগ্নিকাণ্ড: বৃষ্টিতে রাস্তায় রাত কাটায় ঘরহারা মানুষ

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:রাজধানী মিরপুরের রূপনগরের ঝিলপাড় বস্তি গতকাল রাতের অগ্নিকাণ্ডে পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।রূপনগরের ৭ নম্বর সেকশনের চলন্তিকা মোড়ে অবস্থিত বস্তিটিতে ছিল তিন হাজার বসত ঘর, যা টানা তিন ঘন্টার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।সর্বস্ব হারিয়েছে বস্তিবাসী।ঘর হারিয়ে গতকাল রাতে বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় রাত কাটিয়েছে তারা।খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন সবাই। বৃষ্টি শুরু হলে কেউ কেউ আশপাশের বাসা-বাড়ির গ্যারেজে ডেকে নেন তাদের। তবে বৃষ্টিতে ভিজে খোলা আকাশের নিচে রাত পার করেছেন অনেকে।

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত তাসনুর (১৮) বার্তাটোয়েন্টিফোরকে বলেন, ‘আগুন লাগলে জান বাঁচাতে চার বছরের ছেলে সুমনকে নিয়ে এক কাপড়ে বের হয়ে আসি। আমার সব শ্যাষ হইয়া গেছে। রাতে রাস্তায় ঘুমাইছি। পরে এক বাড়িওলা তাদের গ্যারেজে ডাইক্কা নিছে। পরের বাসায় কাজ করি। এখন আমি কই থাকমু।’

আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত জাহানারা (৭০), কুলসুম (২৫), ইয়ানূররা (৩০) বলেন, আমগো মতো অনেক মানুষই রাস্তায় ঘুমাইছে। আমাগো কিচ্ছু নাই সব শ্যাষ হইয়া গেছে।

গত শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে বস্তিটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিটের চেষ্টায় রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ততক্ষণে পুরো বস্তি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

আজ শনিবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো বস্তি পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে। বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা বস্তিটিতে অগ্নিকাণ্ডের কারণে আর কোনো ঘর বাড়ি আস্ত নেই। বস্তিটি এখন আগুনে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কয়েকটা পোড়া টিন, কাঠ ও বাঁশ ছাড়া আর কিছুই বাকি নেই। বস্তির চারদিকে এখন শুধুই পোড়া গন্ধ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি জায়গায় গড়ে ওঠা বস্তিতে ঢোকার জন্য ২১ ফুটের যে রাস্তা ছিল তা রিকশার গ্যারেজ আর দোকানে ভরা ছিল। রোড ভাড়া দিয়ে মাসিক টাকা নিতেন প্রভাবশালীরা।

তাদের দাবি, অন্তত ভেতরে প্রবেশের রাস্তাটি ফাঁকা থাকলে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ভেতরে ঢুকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারত। অন্তত কিছু ঘর রক্ষা করা যেত।

উল্লেখ্য, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় পানি সংকটে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হয়। পরে বস্তির আশেপাশের বাসাবাড়ির রিজার্ভ ট্যাংক থেকে পানি সরবরাহ করা হয়। এছাড়া ওয়াসার গাড়ি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করা হয়।

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ