ঢাকা, রোববার 18 August 2019, ৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

চলনবিলে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে উপচে পড়া ভিড়

শাহজাহান, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) থেকে : ‘মিনি কক্সবাজার’ খ্যাত চলনবিলের হাটিকুমরুল বনপাড়া মহাসড়কের তাড়াশ অংশের ৮ ও ৯ নং ব্রিজে বিনোদন পিপাসুদের ঢল নেমেছে। ঈদুল আজহার ছুটিতে বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে ছুটে আসছেন এখানে। চলনবিলের সিরাজগঞ্জ নাটোর, পাবনা জেলার হাজার হাজার মানুষ বর্ষা প্রকৃতির হাওয়া আর বিলের ঢেউ দেখতে তাড়াশের ব্রিজে জমায়েত হয়। নাটোর শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের এই বিল বর্ষা মওসুমে সমুদ্রের রূপ ধারণ করে। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে তীরে। এ সময় বিলের ভেতরের গ্রামগুলো দেখতে দ্বীপের মত মনে হয়। ডুবন্ত সড়কে হেঁটে বেড়ানোসহ বিলের পানিতে সাঁতার কাটা ও নৌকা ভ্রমণ করে সময় কাটান দর্শনার্থীরা। তারা কক্সবাজারের আমেজ উপভোগ করেন এখানে। তবে বাইরের মানুষের ভিড়ের কারণে বিলগ্রামের বাসিন্দাদের যাতায়ায়াতে বিড়ম্বনাসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এরপরও তাদের এলাকায় বিপুল দর্শনার্থীর আগমনে তারা খুশি। অন্যদিকে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার অভাবসহ যাত্রী ছাউনির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগ রয়েছে দর্শনার্থীদের। হালতি বিলের এই এলাকাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
বিশালায়তনের চলনবিলের একাংশ এই হালতি বিল। বর্ষায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ‘মিনি কক্সবাজার’ নামে পরিচিত এই বিল দেখতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। তাদের জন্য গত কয়েক বছর আগে পাটুল ঘাট থেকে নির্মাণ করা হয়েছে ডুবন্ত সড়ক। বর্ষায় সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে থাকলেও শুষ্ক মওসুমে সড়কগুলো দিয়ে যানবাহন চলাচল করে। এই ডুবন্ত সড়ক নির্মাণের পর থেকে বর্ষা মওসুমে প্রতিদিনই এই পাটুল ঘাট এলাকায় লোকজন ঘুরতে আসে।
তবে এবার বর্ষার শুরুতেই পানিতে ডুবে এক শিক্ষকের মৃত্যুতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে দেখা দেয় হতাশা। ওই মৃত্যুর ঘটনার পর জেলা প্রশাসন হালতি বিলের নৌকা মাঝিদের মধ্যে লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ করে।
বিলের দ্বীপগ্রাম খোলাবাড়িয়ায় মাকে নিয়ে নানা বাড়ি বেড়াতে এসে বিপাকে পড়েন বগুড়ার মওসুম খাতুন। তিনি জানান, বুধবার সকাল ১১টা থেকে পাটুল ঘাটে অপেক্ষা করছেন নৌকার জন্য। কিন্ত দর্শনার্থীদের চাপে বিল পারাপারের জন্য নৌকা না পেয়ে ঘাটেই অপেক্ষা করতে হয় কয়েক ঘণ্টা। কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসিব, রেজা ও ইকবাল জানান, এখানকার নৈর্সগিক সৌর্ন্দয্যে কক্সবাজারের আমেজ অনুভব করছেন তারা। তবে এবার অন্যবারের তুলনায় বিলভ্রমণে নৌকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। জনপ্রতি ৫০ টাকার ভাড়া ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
নৌকার মাঝি আবদুল লতিফ শাহ আলম বলেন, এবার ঘুরতে আসা মানুষ সংখ্যা অনেক বেশি। সে তুলনায় নৌকা কম। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়েই নৌকা চালাতে হচ্ছে। যারা দিনভর বিল ঘুরছেন তাদের কাছ থেকে কিছু বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সমাজসেবক আকতার হোসেন বলেন, বিলের মধ্যে ডুবন্ত সড়ক নির্মাণের পর থেকেই এখানকার অর্থনৈতিক চিত্র পাল্টাতে শুরু করেছে। দিনমজুররা এখন বছরের অর্ধেক সময় চাষাবাদ এবং বাকি সময় নৌকা বেয়ে ভালোমতই জীবনযাপন করছেন। অনেকেই বিল পাড়ে দোকান বসিয়ে বাড়তি আয় করছেন।
জেলা পরিষদ সদস্য রইস উদ্দিন রুবেল বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় এই হালতি বিল এলাকায় অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধির জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও বেশ কিছু প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শাহ রিয়াজ বলেন, হালতি বিলের পাটুল ঘাট এলাকাকে পর্যটন সুবিধার আওতায় আনতে বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ঘুরতে আসা লোকজনের নিরাপত্তায় লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি পর্যায়ের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
 ঈদের তৃতীয় দিনেও বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বিনোদন পিপাসু মানুষের উপচে পড়া ভিড়ে ঠাসা রয়েছে। এই মওসুমে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বিনোদন পিয়াসী মানুষ এমনিতে ভীড় জমাতে শুরু করে, এর সাথে যোগ হয়েছে ঈদ। ঈদুল আজহার ছুটিতে দুর-দুরান্ত থেকে আসা বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার মানুষ নির্মল প্রাকৃতিক সৌন্দয্যের টানে ছুটে আসছেন। সকাল হতে নানারকম যানবাহনে নাটোরের উত্তরা গণভবন, রাণীভবানীর রাজপ্রাসাদ, মিনি কক্সবাজার খ্যাত পাটুল, সিংড়ার-বারুহাস সাবমারসিবল সড়কসহ পর্যটন স্পটগুলো আবাল-বৃদ্ধ-বনিতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি বিনোদন পার্কও এখন মুখরিত।
এর মধ্যে নাটোর শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরত্বের মিনি কক্সবাজার খ্যাত পাটুলের হালতি খোলাবাড়িয়া বিল বর্ষা মওসুমে সমুদ্রের রুপ ধারণ করে। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে তীরে। এ সময় বিলের ভিতরের গ্রামগুলো দেখতে দ্বীপের মতো মনে হয়। ডুবন্ত সড়কে হেঁটে বেড়ানোসহ বিলের পানিতে সাঁতার কাটা ও নৌকা ভ্রমণ করে সময় কাটাচ্ছেন দর্শনার্থীরা। তারা কক্সবাজারের আমেজ উপভোগ করছেন। আকাশে মেঘ আছে এবং বিলের পানি ও উত্তাল রয়েছে, সে কারণে একজনও যেন লাইফ জ্যাকেট ছাড়া নৌকা ভ্রমণে বের হতে না পারে, তার জন্য এবারে নৌকা ভ্রমণে জেলা প্রশাসন থেকে সর্তকতা জারি করা হয়েছে।
হালতি বিলে আগত সহস্র মানুষের ভ্রমণ সুন্দর করতে ইতোমধ্যেই এখানে পুরুষদের জন্য দুটি ও মহিলাদের জন্য দুটি টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বিল অঞ্চলে পর্যটন কেন্দ্র যাওয়ার রাস্তা খুবই সরু খানা-খন্দকে পরিপূর্ণ হওয়ায় বিরক্তি প্রকাশ করেছেন পর্যটকরা। এ ছাড়া বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার অভাবসহ যাত্রী ছাউনির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে দর্শনার্থীদের।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ