ঢাকা, মঙ্গলবার 17 September 2019, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

কাশ্মীর: হাসপাতালের রোগীরা বাসায় যেতে পারছে না

ভারতীয় সেনাবাহিনী হাসপাতালে ঢুকতে দেবার আগে রোগীর প্রেসক্রিপশন পরীক্ষা করছে।ছবি: বিবিসি

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক: কাশ্মীরে নাগরিকরা পরস্পরের সাথে যোগাযোগ করতে পারছে না।রাজ্যটির স্বায়ত্ব শাসন মর্যাদা কেড়ে নেয়ার পর মোবাইল, ল্যান্ড ফোন ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় সরকার।যোগাযোগের অভাব আর নিরাপত্তার কড়াকড়িতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ পরিবারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছেন, এমন কি সন্তান জন্মানোর মতো খুশির খবরও তারা বাড়িতে পাঠাতে পারছেন না।

সোপিয়ান জেলা থেকে শ্রীনগরের লাল ডেড হাসপাতালে সন্তান প্রসবের জন্য বোনকে নিয়ে আসা বিলাল আহমেদ বিবিসিকে বলছিলেন, তিনি তিনদিন ধরে হাসপাতালেই রয়েছেন। নিজের গাড়িতে করেই বোনকে নিয়ে এসেছিলেন।নিজের অভিজ্ঞতার কথা বিবিসিকে জানান তিনি।

''বহু জায়গায় নিরাপত্তারক্ষীদের নথিপত্র দেখাতে হয়েছে। কিন্তু এখন বাড়ি ফিরতে পারছি না। বোনের একটা মেয়ে হয়েছে। কিন্তু সেই খুশির খবরটাও বাড়িতে পাঠানোর কোনও উপায় নেই। ছোট শিশুটাকে পরিবারের কেউ দেখতে আসতেও পারে নি,'' বলছিলেন বিলাল আহমেদ।

ওই হাসপাতালেই বোনকে ভর্তি করাতে নিয়ে এসেছিলেন সোপিয়ান জেলারই আরেক বাসিন্দা রশিদ হুসেইন। তার বোনকে এখন ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু কীভাবে বাড়ি ফেরত যাবেন, সেটাই ভাবাচ্ছে মি. হুসেইনকে।

''বোনকে সম্ভবত আজকেই ছেড়ে দেবে হাসপাতাল থেকে। কিন্তু কীভাবে ফেরত যাবে জানি না। কোনও অ্যাম্বুলেন্স নেই। কোনও গাড়িও ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। টিভিতে দেখানো হচ্ছে এখানে নাকি সবকিছু স্বাভাবিক। কিন্তু কোথায় কী! জীবন তো পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে রয়েছে,'' বলছিলেন রশিদ হুসেইন।

চাচীকে চিকিৎসা করাতে আট দিন আগে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন শাহিল আহমেদ।

তিনি জানাচ্ছিলেন, চাচী এখনও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, কিন্তু বাড়ির কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই।

শাহিল আহমেদ বলছেন, ''তারা জানতে পারছে না কেমন আছেন চাচী। কেউ হাসপাতালে দেখতে আসতেও পারে নি। এখান থেকেও বাড়ি যাওয়া সম্ভব হয় নি। নিরাপত্তাবাহিনী তো দুজনের বেশি কাউকে একসাথে যেতেই দিচ্ছে না। সব নথিপত্র, পরিচয়পত্র দেখানোর পরেও ছাড়া হচ্ছে না।''

তবে প্রশাসনের প্রধান সচিব রোহিত কনসাল জানিয়েছেন, শনিবার সকাল থেকে কাশ্মীর উপত্যকার মোট ৩৫টি থানা এলাকা থেকে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে।

কিন্তু স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নিষেধাজ্ঞা বলবত থাকবে। তারপরেও জনজীবন স্বাভাবিক কবে হবে, তা সাধারণ মানুষ জানেন না।

সূত্র:বিবিসি

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ