ঢাকা, শুক্রবার 23 August 2019, ৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

৩ বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

 

স্টাফ রিপোর্টার: হাই কোর্টের তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগের তদন্ত শুরুর পর তাদের বিচারকাজ থেকে সাময়িকভাবে বিরত থাকতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের কথা তাঁদের জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ছুটির আবেদন করেছেন ওই তিনজন বিচারপতি। উচ্চ আদালতের এই তিন বিচারক হলেন বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী, বিচারপতি একেএম জহিরুল হক এবং বিচারপতি কাজী রেজাউল হক।

গতকাল বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত কার্যতালিকায় নির্ধারিত বেঞ্চে তাদের নাম ছিল না। তারাও আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেননি। তিন বিচারকের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়টি নিয়ে সকাল থেকে নানা গুঞ্জন চললেও সুপ্রিম কোর্ট বা আইন মন্ত্রণালয়ের কেউ মুখ খুলছিলেন না। শেষ পর্যন্ত বিকালে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের সামনে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, হাই কোর্টের মাননীয় তিনজন বিচারপতির বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রেক্ষাপটে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে পরামর্শক্রমে তাদের বিচারকার্য থেকে বিরত থাকতে বলা হয় এবং পরবর্তীতে তারা ছুটি প্রার্থনা করেন।

সাংবাদিকরা তিন বিচারকের নাম জানতে চাইলে সাইফুর রহমান প্রথমে নিরুত্তর থাকেন। সাংবাদিকরা তখন তিন বিচারকের নাম বলে জানতে চান- তাদের ক্ষেত্রেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না।

সুপ্রিম কোর্টের মুখপাত্র সাইফুর রহমান তখন বলেন, আপনারা তো লিখেছেনই।

তবে তিন বিচারকের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে রাজি হননি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এ কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, তিন বিচারপতির বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগের অনুসন্ধান বিচার বিভাগের অন্যদের জন্য একটি বার্তা। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে পরামর্শ করেই প্রধান বিচারপতি তিন বিচারপতিকে কাজ থেকে বিরত থাকতে এবং তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন তিনি এ বিষয়ে অবগত নন। তিনি বলেন, আমি অবগত নই এ কারণে যে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ স্বাধীন এবং এটা রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতির বিষয়। আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে আমাকে আগে অবগত হতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, কেবল তিন বিচারপতিই নন, আরও অনেক বিচারপতি এবং সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করেছি।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রকাশ্যে দুর্নীতি করেন। আইনজীবীরা তাদের কাছে প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও বিচারাঙ্গনের ভাবমূর্তি রক্ষায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

প্রসঙ্গত, এর আগে ১৬ মে নিয়মবহির্ভূতভাবে নিম্ন আদালতের মামলায় হস্তক্ষেপ করে ডিক্রি পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল হাইকোর্টের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহুরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চের বিরুদ্ধে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের ঋণ সংক্রান্ত এক রিট মামলায় অবৈধ হস্তক্ষেপ করে ডিক্রি জারির মাধ্যমে হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ রায় পাল্টে দেন বলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে অভিযোগ তুলেছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট অর্থ ঋণ আদালতের (নিম্ন আদালত) মামলাটির সব ডিক্রি ও আদেশ বাতিল ঘোষণা করেছিলেন।

তবে এ অভিযোগে বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি একেএম জহুরুল হককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। একইভাবে বিচারপতি কাজী রেজাউল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়েও মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

 

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ