ঢাকা, শুক্রবার 23 August 2019, ৮ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

মোদি সরকার যে পদ্ধতিতে ৩৭০ ধারা বিলোপ করেছে তা আইনত সঠিক নয় : অধীর চৌধুরী

২২ আগস্ট, পার্সটুডে : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস নেতা ও লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী এমপি বলেছেন, কেন্দ্রীয় নরেন্দ্র মোদি সরকার যে পদ্ধতিতে ৩৭০ ধারা বিলোপ করেছে আইনত তা সঠিক নয়। গত মঙ্গলবার দুপুরে, মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে রবীন্দ্র সদনে দলীয় কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখার সময় তিনি ওই মন্তব্য করেন।

এদিন অধীর বাবুকে দলীয় এক কর্মী বলেন, ‘দাদা বিজেপি’র অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছি। ৩৭০, ৩৫-এ ধারা নিয়ে আমাদের বিব্রত করছে। এ নিয়ে আমরা কী বলব, কিছুই বুঝতে পারছি না।’এরপরেই অধীর চৌধুরী এপ্রসঙ্গে মন্তব্য করেন।

অধীর বাবু এসময় কাশ্মীরকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে কীভাবে ভারতভুক্ত করা হয়েছিল সেই ইতিহাস তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জওহরলাল নেহরু, বল্লভভাই প্যাটেল, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়দের উপস্থিতিতে সংসদে কাশ্মীরের ভারতভুক্তি নিয়ে আলোচনা করেন।

অধীর বাবুর স্বীকারোক্তি ‘সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কংগ্রেস সরকারের আমলে কাশ্মীরকে দেয়া বিশেষ সুবিধার ৯৫ শতাংশ আলোচনার মাধ্যমে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে।’ এরপরেই তিনি বলেন, ‘মোদি সরকার যে পদ্ধতিতে ৩৭০ বিলোপ করেছে তা আইনত সঠিক নয়। আমরা (সরকারকে) বলেছি যা করবে, আইন মেনে করো। ভারতভুক্তির সময় একটি চুক্তির মাধ্যমে কাশ্মীরের মানুষকে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে কারফিউ জারি করে, কাশ্মীরের মানুষকে ঘরবন্দি করে, তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে এক ঝটকায় সেই ক্ষমতা কেড়ে নেয়া হল। এটা কী ঠিক?’

কাশ্মীর ইস্যুতে চলতি মাসে সংসদে বক্তব্য রাখার সময় অধীর চৌধুরী কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি না আপনারা পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কথা ভাবছেন। আপনারা সমস্ত আইন লঙ্ঘন করে একটি রাজ্যকে রাতারাতি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করছেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশ্য অধীর বাবু বলেন, ‘আপনি বলছেন এটা ‘আভ্যন্তরীণ বিষয়’। কিন্তু এটা ১৯৪৮ সাল থেকে নজরে রেখেছে জাতিসঙ্ঘ। তাহলে এটা অভ্যন্তরীণ বিষয় কী করে হয়? আমরা শিমলা চুক্তি এবং লাহোর ঘোষণায় সই করেছিলাম, সেটা কি অভ্যন্তরীণ বিষয় ছিল, নাকি দ্বিপাক্ষীয় ছিল?’ তার প্রশ্ন, জম্মু-কাশ্মীর কী তাহলে অভ্যন্তরীণ বিষয় হতে পারে? আমরা তা জানতে চাই বলেও কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী মন্তব্য করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ