ঢাকা, মঙ্গলবার 17 September 2019, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৭ মহররম ১৪৪১ হিজরী
Online Edition

অবশেষে আমাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী পাঠালেন  ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট

সংগ্রাম অনলাইন ডেস্ক:অবশেষে আমাজনের আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী পাঠানোর নির্দেশ দিতে বাধ্য হলেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারো। শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আমাজনের প্রকৃতি সংরক্ষণ, আদিবাসী জমি এবং সীমান্ত অঞ্চলের ছড়িয়ে পড়া আগুন নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীকে মোতায়েনের অনুমোদন দিয়ে আদেশ জারি করেছেন ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের অব্যাহত চাপের মুখে দেশটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা আসে।

অবশ্য এর আগে তিনি বলেছিলেন আমাজনের আগুন নিয়ে বহির্বিশ্বের নাক না গলালেও চলবে।

আমাজনের আগুন নিয়ে বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় উঠার প্রেক্ষিতে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো স্বীকার করে বলেছেন যে, কৃষকেরা অবৈধভাবে আগুন দিতে পারে, তবে এটি নিয়ে বহির্বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলোর নাক গলানোর প্রয়োজন নেই।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এ বছর আমাজনে রেকর্ডসংখ্যক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে টুইট করার পর এভাবেই জবাব দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট।

গতকাল জায়ার বোলসোনারো ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, “যারা এখানে অর্থ পাঠায়, তারা দাতব্য কাজের বাইরে পাঠায় না...আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপের লক্ষ্যেই তারা তা পাঠায়।”

এর আগে তিনি বলেছিলেন, “এই আগুনকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ব্রাজিলের একার নেই।”

সেসময় নিজ বাসবভনে এক সাংবাদিককে তিনি উল্টো প্রশ্ন করে বলেন, “আমাজন ইউরোপের চেয়েও বড়, আপনি সেখানকার অপরাধমূলক অগ্নিকাণ্ডের বিরুদ্ধে কীভাবে লড়াই করবেন?”

বোলসোনারো বলেন, “এর জন্য আমাদের সক্ষমতা নেই।”

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা দ্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্চ (ইনপে) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে আমাজনে রেকর্ডসংখ্যক দাবানল হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ৮৩ শতাংশ বেশি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

স্যাটেলাইট ছবি গবেষণা করে ইমপে দেখতে পেয়েছে যে, গত জানুয়ারি মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত অ্যামাজন বনে ৭২ হাজার ৮০০টি আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

ইমপের সর্বশেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে আমাজনের ৭ হাজার ৫০০ কিলোমিটার বনাঞ্চল হারিয়ে গেছে, যা ২০১৭ সালের তুলনায় ৬৫ শতাংশ বেশি।

বছরের এই শুষ্ক সময়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়মিত ও প্রাকৃতিক হলেও, পশু চারণভূমির জন্য বনাঞ্চল পরিষ্কার করতে কৃষকদের আগুন দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যাওয়াকেই দায়ী করছেন পরিবেশবিদরা।

জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসা ব্রাজিলের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার বলেছেন যে, ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্রাজিলের উচিত আমাজনকে উন্মুক্ত করে দেওয়া। যাতে খনন, কৃষি ও কাঠ ব্যবসায়ীরা এর সম্পদকে কাজে লাগাতে পারে।

১৫ আগস্ট ২০১৯, আগুনে পুড়ছে ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় পর্তো ভেলহো এলাকার বনাঞ্চল। স্যাটেলাইট থেকে তোলা। ছবি: রয়টার্স

বুধবার জায়ার বোলসোনারো দাবি করেছিলেন, যেসব বেসরকারি সংগঠনের (এনজিও) তহবিল বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে আমাজনে আগুন দিচ্ছে। তবে এ কথার সপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি।

আমাজনের আগুনকে ‘আন্তর্জাতিক সঙ্কট’ হিসেবে বর্ণনা করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ এ বিষয়ে জি-৭ সম্মেলনে আলোচনা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। এক টুইটবার্তায় তিনি লিখেছেন “আমাদের ঘর জ্বলছে।”

বিশ্বের সবচেয়ে বড় চিরহরিৎ বনাঞ্চলে রেকর্ড অগ্নিকাণ্ড নিয়ে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

তিনি বলেছেন, “বৈশ্বিক জলবায়ু সঙ্কটের মধ্যে আমরা অক্সিজেন ও জীববৈচিত্রের অন্যতম প্রধান উৎসের এমন ক্ষতি মেনে নিতে পারি না। আমাজনকে অবশ্যই রক্ষা করতে হবে।”

ডিএস/এএইচ

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ