ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 August 2019, ১৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণহীন

খুলনা অফিস : খুলনায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা। ভয়ভীতি-হুমকি, নানা প্রলোভন ও ফাঁদে (ব্ল্যাক মেইলিং) ফেলে এ সব ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গত দুইসপ্তাহে এ ধরনের কয়েকটি ঘটনায় থানায় মামলা হলে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
এদিকে নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবে একই সাথে খুলনায় ইয়াবা নেটওয়ার্ক নতুন করে বিস্তার লাভ করেছে। সেই সাথে গভীর রাত পর্যন্ত বখাটেদের অবাধ আড্ডা, ফেসবুক-ইন্টারনেটে পর্নোছবি, পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতির অনুকরণ অপরাধের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
অপরাধ বিশ্লেষকদের দাবি, খুলনায় নিয়ন্ত্রণহীন ছোট ছোট অপরাধই এখন বড় সর্বনাশ ডেকে আনছে। সামাজিক বন্ধন ভেঙে খুলনায় একসময় বখাটেদের ইভটিজিং মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। বখাটেদের অত্যাচারে এখানে একাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। কিন্তু অপরাধের ধরন বদলে এখন ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। সহজলভ্য ইয়াবা নেটওয়ার্ক থেকেই শুরু হয় এসব অপরাধের।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট লোহাপট্টি এলাকায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। এর আগে ১৬ আগস্ট টুটপাড়া মহিরবাড়ি খালপাড় এলাকায় বিয়ে বাড়িতে ধর্ষণের শিকার হয় ৭ বছরের শিশু। পুলিশ সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করলেও শিশুটি ধর্ষণকারীকে সনাক্ত করতে পারেনি। ওই দিনই খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করেন। ২ আগস্ট খুলনার রেলওয়ে থানায় এক নারীকে আটকের পর পুলিশের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। ২৯ জুন নগরীর পশ্চিমবানিয়াখামার এলাকায় প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বেড়াতে নিয়ে এক স্কুলছাত্রীকে (১৪) গণধর্ষণ করে বখাটেরা।
সামাজিক সংগঠন জনউদ্যোগ, খুলনার নারী সেলের আহবায়ক এডভোকেট শামীমা সুলতানা শীলু বলেন, খুলনায় ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ফেসবুক-ইন্টারনেটের যথেচ্ছ ব্যবহার, মাদকের সহজলভ্যতা ও দ্রুত বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি এসব অপরাধের জন্য দায়ী।
সরকারি সুন্দরবন কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী বলেন, এ ধরনের অপরাধের সাথে নানা বিষয় সম্পৃক্ত থাকে। পারিবারিক নীতি-নৈতিকতার অভাবে একটি শিশু বিকলাঙ্গ মানসিকতা নিয়ে বড় হয়। তার ওপর মাদকের সহজলভ্যতা, ইন্টারনেটে পর্নো ছবি ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে এরা সহজেই অপরাধের সাথে যুক্ত হয়।
গবেষণা সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, মাদকাসক্তদের ৫৮ শতাংশ ইয়াবাসেবী। ইয়াবা হচ্ছে এমফিটামিন জাতীয় ড্রাগ-মেথাএমফিটামিন। এটি গ্রহণ করলে শুরুতে শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙ্গা ভাব দেখা দেয়। এ কারণে ইয়াবাসেবীরা অপরাধের সাথে যুক্ত হচ্ছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (আরসিডি) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু বলেন, ইয়াবার সাথে জড়িতরা সামাজিক অপরাধে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। তবে আমরা নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করি। পরে জামিনে বেরিয়ে এসে একই ধরনের অপরাধে যুক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মাদক নির্মূল ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে আবাসিক হোটেল ও সন্দেহজনক স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে প্রতিটি ঘটনায় সাথে সাথে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি এলাকায় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামকে সতর্ক রাখা ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। তবে এই ধরনের অপরাধ নির্মূলে পিতা-মাতা অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি সমাজের সকলকে সক্রিয় হতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ