ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 August 2019, ১৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

বন্ড লাইসেন্সধারী সুতা ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে মাধবদী’র মিল মালিকরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন

মাধবদী (নরসিংদী) সংবাদদাতা : মাধবদী, নরসিংদী, গোপালদী, পুরিন্দা, আড়াইহাজার ও পাবনার সাহাজাদপুরের এক শ্রেণির সিন্ডিকেট সুতা ব্যবসায়ী বন্ড লাইসেন্স এর মাধ্যমে ভারত চীন ও ভিয়েতনাম  থেকে সুতা আমদানি করে মোটা অংকের টাকার মালিক হচ্ছে। ফলে দেশীয় সুতার মিল মালিকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। ঐ সমস্ত সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা ১৬,২০,২২ ও ৩০ কাউন্টের কমদামী সুতা বন্ড লাইসেন্স এর মাধ্যমে আমদানী করে ৬০ ও ৮০ কাউন্টের উন্নতমানের সুতা  দেখিয়ে স্থানীয় বাজার গুলিতে বিক্রি করছে। অথচ খোঁজ নিয়ে জানাগেছে স্থানীয় গার্মেন্টস গুলিতে ৬০ ও ৮০ কাউন্টের সুতা কাজেই লাগেনা। বৈধভাবে বিদেশ থেকে সুতা আনলে ১ কোটি টাকার সুতা আমদানিতে সাড়ে ৩৭ লাখ টাকা টেক্স দিতে হয় অর্থাৎ প্রতি লাখে ৩৭ হাজার টাকা টেক্স ফাঁকি দিচ্ছে ঐ সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। হাজার হাজার বন্ড লাইসেন্সধারীরা টেক্স ফাঁকি দিয়ে সুতা আমদানি করে বাজার গুলি সয়লাব করে ফেলেছে। মধাবদীর একজন বিশিষ্ট সুতা ব্যবসায়ীর সাথে কথা বললে তিনি জানান বন্ড লাইসেন্সধারীদের সুতা আমদানীর ফলে দেশীয় সুতার বাজারের অবস্থা বর্তমানে খুবই নাজুক। তিনি আরো বলেন গত দু’সাপ্তাহের মধ্যে ১ পাউন্ড সুতাও বিক্রি করতে পারিনি। প্রতি মাসেই লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যাপক হারে। ৫০,৬০ ও ৮০ কাউন্টের সুতা বন্ধ করে দেয়ার আবেদনও জানান তিনি। এখানকার তাঁত ফ্যাক্টরী মালিকদের সাথে কথা বলে জানাগেছে ৯৫ শতাংশ তাঁতীই কাপড় বুনতে গিয়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে। কাপড়ের বাজার পূর্বের চেয়ে অনেক কমে গেছে। নরসিংদী বাজারের আরো এক সুতা ব্যবসায়ীর সাথে কথা বললে তিনি জানান গতবারের চেয়ে এবার সুতার দাম প্রায় গড়ে ১০টাকা কমে গেছে। অথচ দেশের অর্ধেক সুতাই বিক্রি হয় মাধবদী ও নরসিংদীতে। তিনি বলেন সাফাতুল্লা স্পিনিং মিল ফতুল্লা নারায়নগঞ্জ, চন্দ্রা স্পিনিং মিলস চন্দ্রা, গুলশান স্পিনিং মিল সাভার, নিট কটন মিলস নারায়নগঞ্জ, ভাই ভাই স্পিনিং মিলস কালী বাড়ী, খান স্পিনিং মিলস বরিশাল, পাকিজা স্পিনিং মিল  মাধবদী ও সোনাারগাাঁও স্পিনিং মিলে ৪০,৫০ ও ৬০ কাউন্টের সুতা গড়ে ১১৭, ১৭৩ ও ১৫৩ থেকে ১২৮ টাকায় প্রতি পাউন্ড সুতা বিক্রি হচ্ছে। মাধবদীর সুতা ব্যবসায়ী ও পোশাক তৈরি’র মিল মালিকরা দেশীয় পোশাক শিল্পের উন্নয়ন ও উল্লেখিত সমস্যা গুলি সমাধানের লক্ষ্যে জরুরী ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ