ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 August 2019, ১৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছার অভাবেই কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহে বিশৃংখলা হয়েছে -বাণিজ্যমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, চামড়া নিয়ে এবার আমার শিক্ষা হয়েছে। সে অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছি। যাতে আগামীতে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ নিয়ে বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি করতে না পারে। সে জন্য নতুনভাবে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের সদিচ্ছার অভাবেই এবার কুরবানি পশুর চামড়া সংগ্রহ নিয়ে বিশৃংখলা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একটি সম্ভাবনাময় বাজার ব্রাজিল। কিন্তু বেশি শুল্কের কারণে সেখানে আশানুরূপ রফতানি করতে পারছে না বাংলাদেশ। এ কারণে ব্রাজিলসহ আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়েসহ মার্কোসুরভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যের রফতানি বাড়বে।
গতকাল বুধবার (২৮ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। গত ১২ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত মার্কোসুরভুক্ত চারটি দেশ (ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে ও উরুগুয়ে) সফর করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। এই সফরের বিস্তারিত বিবরণ সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন তিনি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মফিজুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম ও বিজিএমইএ’র সভাপতি ড. রুবানা হক প্রমুখ।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই চারটি দেশে ৩০ কোটি মানুষ বসবাস করে, যেখানে বছরে তিন দশমিক চার ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপি’র একটি সুবিশাল অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। এ অঞ্চলে বাংলাদেশের পণ্য রফতানির বিশাল সম্ভাবনা আছে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প বা আরএমজি। কিন্তু এ ক্ষেত্রে শুল্ক হার বেশি। পণ্য রফতানি করতে আমাদের ৩৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। সে কারণে এই চার দেশের সঙ্গে এফটিএ চুক্তি করতে পারলে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ওষুধ, তামাক, চামড়া. চামড়াজাত পণ্য রফতানির বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, এ বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ মার্কোসুর বৈঠকে বাংলাদেশের এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে বলে তারা (মার্কোসুরভুক্ত দেশ) কথা দিয়েছে।
টিপু মুনশি বলেন, এই চার দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করতে আগামী ৭ ও ৮ নভেম্বর ব্রাজিলের সাও পাওলোতে একটি মেলা হবে। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় এই মেলার আয়োজন করা হবে। সেখানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ রফতানিযোগ্য সব ধরনের পণ্য প্রদর্শিত হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এবার কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হলেও তা কার্যকর করা হয়নি। ব্যবসায়ীরা অনুরোধ করার পরও তারা সে দাম মানলেন না। তাই কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বার বার বলা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা মানেননি। আগামী বছর যাতে এবারের মতো বিশৃংখলা পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয় এবং সাধারণ মানুষকে চামড়া নষ্ট করতে না হয় সে জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।
চামড়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি কেবিনেটে যে নীতিমালা হয়েছে সেই আলোকে কাজ করা হচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে যাতে ব্যবসায়ীরা মূল্য পায় সে জন্য কাঁচা চামড়া রফতানি করা হবে।
বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব বলেন, পেঁয়াজ আমদানি নির্ভর। ভারতে বন্যার কারণে ১২ টাকা কেজির পেঁয়াজ ২৫ টাকা হয়েছে। সেই প্রভাব বাংলাদেশের বাজারে পড়েছে। তবে যে পরিমাণে দাম বাড়ানো হয়েছে তাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না। ঈদের ১৫ দিন আগে হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায়। তখন আমাদের তদারকিতে দাম নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এখনও বাজারে মনিটরিং চলছে। আশা করছি পেঁয়াজের দাম নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা তৈরি হবে না।
উল্লেখ্য, সরকারের নির্ধারণ করে দেয়া দাম অনুযায়ী এবার ঢাকায় কুরবানি গরুর ২০ থেকে ৩৫ বর্গফুটের চামড়া লবণ দেয়ার পর ৯০০ থেকে এক হাজার ৭৫০ টাকায় কেনার কথা ছিল ট্যানারি মালিকদের। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় চামড়া কিনেছেন। আর রাজধানীর বাইরে চামড়া বেচা-কেনা হয়েছে আরও কম দামে। এ অবস্থায় তৃণমূল পর্যায়ে হাজার হাজার কুরবানি পশুর চামড়া মাটিচাপা দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ