ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 August 2019, ১৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

স্ত্রীকে বাজে কথা বলায় ডেকে নিয়ে খুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো : স্ত্রী সম্পর্কে ‘বাজে’ কথা বলায় ক্ষোভ থেকেই বন্ধু সাখাওয়াত হোসেন ফাহিমকে ফোনে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে খুন করেন মো. আরিফ। মঙ্গলবার ভোলার রতনপুর থেকে আরিফকে গ্রেফতারের পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে বলে বুধবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদী হাসান। গত ২৩ আগস্ট সকালে ডিসি রোডের আবু কলোনীর পাশে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে শাখাওয়াত হোসেন ফাহিমের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
এসএম মেহেদী হাসান বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলায় ক্ষোভ থেকে মূলত হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে আরিফ। পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটায় বলে পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে আরিফ। আরিফ দাবি করেছে- সে একাই এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত। তিনি জানান, দুই বন্ধু শাখাওয়াত হোসেন ফাহিম ও মো. আরিফ প্রায় সময় আড্ডা দিত। ডিসি রোডের আবু কলোনীর পাশে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় টিনশেডঘেরা পানির টাংকি ও ভাড়াটিয়া বিপ্লব দে’র রুমেও আড্ডা দিত তারা। আড্ডাতে ইয়াবা সেবন করতো এবং প্রায় সময় আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলতো ফাহিম। এ নিয়ে আরিফের মনে ক্ষোভ জন্মে।
পুলিশ কর্মকর্তা এসএম মেহেদী হাসান বলেন, ঘটনার দুইদিন আগেও আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলে ফাহিম। আরিফের কাছে ফাহিম বলেন- তার স্ত্রীর সঙ্গ পেতে চান। ওইদিনের পর আরিফ ফাহিমকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ২০ আগস্ট সকাল ৮টার দিকে আরিফ বাসা থেকে একটি কাঁথা ও একটি ছুরি নিয়ে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় টিনশেডঘেরা পানির টাংকির ওখানে যায়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে গলির মুখে দাঁড়িয়ে শাহাব উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির মোবাইল থেকে ফাহিমকে ফোন করে ওখানে আসতে বলে। ফাহিমের আসতে দেরি হওয়ায় শাহজাহান নামে আরেকজনের মোবাইল থেকে ফের ফোন করে। ফাহিম আসলে তাকে নিয়ে পানির টাংকির ওখানে গিয়ে আড্ডা দেওয়ার জন্য বসে। একপর্যায়ে ফাহিমের গলায় ছুরি বসায় আরিফ। মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য ফাহিমের বুকে, পেটে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সেখান থেকে চলে যায় আরিফ। ঘটনার তিন দিন পর ২৩ আগস্ট ফাহিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এসএম মেহেদী হাসান জানান, হত্যাকান্ডের পরপরই আরিফ ভোলার জেলার রতনপুর এলাকায় তার খালার বাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করে। মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে ভোলা জেলার রতনপুর এলাকায় তার খালার বাড়ি থেকে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। আরিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি তার বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আরিফ চকবাজার ডিসি রোডের মো. খোকন প্রকাশ হেনজা প্রকাশ আবদুর রহমানের ছেলে। হত্যার শিকার শাখাওয়াত হোসেন ফাহিম পটিয়া উপজেলার আজিমপুর এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে। ফাহিম ডিসি রোডের শহিদ কমিশনার গলির বাবুল কোম্পানির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চকবাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবছার উদ্দিন রুবেল বলেন, হত্যার পরপরই স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় খুনির পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। পরে আমরা খবর পাই ভোলা জেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করেছে আসামী। সেখানে অভিযান চালিয়ে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বুধবার সকালে আরিফকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।
আবছার উদ্দিন রুবেল জানান, ২০ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিল ফাহিম। ২২ আগস্ট তার পরিবার চকবাজার থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। ২৩ আগস্ট ডিসি রোডের আবু কলোনীর পাশে আবুল কাশেমের বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে শাখাওয়াত হোসেন ফাহিমের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মুহাম্মদ আবদুর রউফ, চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার মুহাম্মদ রাইস্লু ইসলাম, চকবাজার থানার ওসি মো. নিজাম উদ্দিন, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরীসহ অভিযান পারিচালনাকারী টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ