ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 August 2019, ১৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

ক্রিকেট ফুটবল রাগবি বিশ্বকাপজয়ী একমাত্র দেশ ইংল্যান্ড

অরণ্য আলভী তন্ময় : সর্বশেষ বিশ্বকাপ ক্রিকেট জিতে নিজেদের অনন্য এক অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলো ইংল্যান্ড। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের ক্রিকেট বিশ্বকাপের ট্রফি জিতে ক্রিকেটের জন্মদাতা দেশটি। ইংল্যান্ডই প্রথম দেশ যারা ক্রিকেট, ফুটবল ও রাগবি বিশ্বকাপ জয়ের নজির তৈরি করল। ইংল্যান্ডের প্রথম সাফল্য ১৯৬৬ ফুটবল বিশ্বকাপে। সেবার ফাইনালে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে প্রথম ফুটবল বিশ্বকাপ জেতে তারা। এরপর ২০০৩ ফাইনালে আয়োজক অস্ট্রেলিয়াকে ২০-১৭-এ হারিয়ে রাগবি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড। দীর্ঘদিন মানুষের স্মৃতিতে থাকবে রোববারের রূদ্ধশ্বাস ক্রিকেট বিশ্বকাপ ফাইনাল। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ টাই হওয়ার পর সুপার ওভারেও ম্যাচের মীমাংসা না হওয়ায় বেশি বাউন্ডারির নিরিখে ২০১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ জেতে ইংল্যান্ড। এ নিয়ে নারী ও পুরুষ ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দুটি বিশ্বকাপ জিতল ইংল্যান্ড। ঠিক দু’বছর আগে লর্ডসেই হিদার নাইটের নেতৃত্বে ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপ জেতে ইংরেজ মেয়েদের দল।
১৯৬৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আর ২০১৯ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ। দুই বিশ্বকাপের শিরোপা গেছে আয়োজকদের হাতে। ইংল্যান্ডের হাতে। দুই বিশ্বকাপের ফাইনালটা শেষ হয়েছে রোমাঞ্চকরভাবে। ফুটবলের পর ক্রিকেট বিশ্বকাপজয়ী একমাত্র দেশ হিসেবে অনন্য মাইলফলক গড়েছে ইংল্যান্ড। টাইম মেশিনে একটু পেছনে ফেরা যাক। ১৯৬৬ সাল। জুলাই মাস। ঠিক ৫৩ বছর আগে ফুটবলের সর্বোচ্চ মর্যাদার আসরটির আয়োজক ছিল ইংল্যান্ড। সেবার পশ্চিম জার্মানীকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল ইংল্যান্ড। সেটাও কী নাটকীয়ভাবে। এবার ঠিক ৫৩ বছর পর ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এবারও আয়োজক ইংল্যান্ড। এবারও কী নাটকটাই না হলো ফাইনালে। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপ ঘরে রেখে দিয়েছে ইংল্যান্ড। দুইটাই লন্ডনের মাঠে। ফুটবলটা ওয়েম্বলিতে। ক্রিকেটে লর্ডসে। দুই বিশ্বকাপ জিতে ইংল্যান্ড অনন্য মাইলফলক ছুঁয়েছে। একমাত্র দল হিসেবে ফুটবল ও ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে বিশ্বকাপ জিতেছে। এমন কীর্তি আর কোনও দলেরই নেই। কী নাটকীয় রোমাঞ্চ ছড়িয়ে দুই বিশ্বকাপ জিতেছে ইংল্যান্ড। ফুটবলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ২-২ ব্যবধানে অমীমাংসিত ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে (৩০ মিনিট) জিতে নেয় ইংল্যান্ড। এই ম্যাচে তিনবার বল জালে জড়ান জেওফ হার্স্ট। বিশ্বকাপের অষ্টম আসরের শিরোপা নেন ববি মুরে। ঠিক তার অর্ধশতক বছর পর ক্রিকেট বিশ্বকাপের ১২ তম আসরে শিরোপা ঘরে তুলে ইংল্যান্ড। এটাও কত নাটক ছড়ালো। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনাল ইতিহাসের সবচেয়ে সেরা ম্যাচটাই দেখলো ক্রিকেট ভক্তরা। নির্ধারিত ম্যাচে ২৪১ করেছে ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ড। সুপার ওভারের লড়াইয়েও ১৫ রানের ড্র রোমাঞ্চ। শেষে বাউন্ডারির হিসেবে ম্যাচটি জিতে নিয়েছে ইয়ান মরগানের ইংল্যান্ড। ক্রিকেট বা ফুটবলের আর কোনও দল কী পারবে এমন কীর্তি গড়তে? প্রশ্নটা তোলা রইলো। ফাইনালে শিরোপা জয়ের জন্য শেষ ওভারে ইংল্যান্ডের দরকার ছিল ১৬ রান। দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে বুক চিতিয়ে লড়ছিলেন ইংলিশ অলাউন্ডার বেন স্টোকস। সেই ওভারের চতুর্থ বল মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে দৌড়ে দুই রান নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি। এ পথে মার্টিন গাপটিলের থ্রো তার ব্যাটে লেগে বাউন্ডারির বাইরে চলে যায়। ফলে দুইয়ের জায়গায় ছয় রান পান স্বাগতিকরা। মূলত তাতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শেষ পর্যন্ত প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে মাতে ইংল্যান্ড। স্বপ্নভঙ্গ হয় নিউজিল্যান্ডের। এমন ভুতুড়ে সিদ্ধান্তের জন্য আম্পায়ারদেরই দায়ী করেছেন বিখ্যাত আম্পায়ার সায়মন টয়ফেল। এমন সিদ্ধান্ত মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) নিয়মকেও ভঙ্গ করেছে বলে দাবি করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই অফিশিয়ালস। পাঁচবারের আইসিসি বর্ষসেরা আম্পায়ার বলেন, ‘ইংল্যান্ডকে পাঁচ রান দেয়া উচিত ছিল। ছয় রান নয়। এটা পুরোপুরি ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। আম্পায়ারদের বিচারে ভুল হয়েছে। কে রান নিচ্ছিল তা লক্ষ্য করেননি তারা। কিন্তু তাদের দেখা উচিত ছিল, ফিল্ডার বল থ্রো করার সময় ব্যাটসম্যানের গতিবিধি কেমন ছিল। আম্পায়াররা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা ন্যায্য নয়।’ ওই সময় ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল তিন বলে নয় রান। ছয় রান পেয়ে যাওয়ায় দরকার ছিল দুই বলে তিন রান। শেষমেশ সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচটি। সেখানেও মীমাংসা না হলে বাউন্ডারি সংখ্যা বিবেচনায় শিরোপা জেতেন মরগ্যানরা।
বিশ্বকাপ নিয়ে ইংল্যান্ডের আক্ষেপ ছিল। গেল ১১টা আসরে কোনোবারই শিরোপা ছোঁয়া হয়নি খেলাটির আবিষ্কারক দেশটির। তবে, সেই আক্ষেপ ঘুঁচলো দ্বাদশ আসরে এসে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ