ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 August 2019, ১৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দীর্ঘদিন পর স্বরূপে ফিরছে পাকিস্তান ক্রিকেট

মোহাম্মদ জাফর ইকবাল : দীর্ঘদিন পর আবারো স্বরূপে ফিরছে পাকিস্তান ক্রিকেট। এতোদিন দুবাইয়ের মাঠকে নিজেদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করলেও এবার নিজ দেশেই খেলবে তারা। আবারো হোম গ্রাউন্ডের মাঠে গর্জে উঠবে ভক্তরা। টেস্ট খেলুড়ে কোনো দেশ একটি  পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলতে যাচ্ছে পাকিস্তানে। ঘোষণা অনুযায়ী তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে পাকিস্তান সফরে যেতে রাজি হয়েছে শ্রীলঙ্কা। ২৭ ও ২৯ সেপ্টেম্বর এবং ২ অক্টোবর করাচিতে হবে তিনটি ওয়ানডে। লাহোরে টি-টোয়েন্টি তিনটি হবে ৫, ৭ ও ৯ অক্টোবর।
লঙ্কানদের এই সফর দিয়ে দেড় বছর পর পাকিস্তানে ফিরবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। পাকিস্তানে সবশেষ ওয়ানডে সিরিজ হয়েছিল সেই ২০১৫ সালে। তিন ম্যাচের সিরিজ খেলেছিল জিম্বাবুয়ে। এরপর থেকে পাকিস্তানে সফরকারী দলগুলো কেবল টি-টোয়েন্টি খেলেছে।  ২০১৭ সালের অক্টোবরে পাকিস্তানে একটি টি-টোয়েন্টি খেলেছিল শ্রীলঙ্কা। সেই সময়ের অধিনায়ক উপুল থারাঙ্গা, লাসিথ মালিঙ্গা, নিরোশান ডিকভেলা, সুরঙ্গা লাকমল ও আকিলা ধনাঞ্জয়া সফর থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিলেন। অক্টোবরে শ্রীলঙ্কার এই সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ডিসেম্বরে। সেই সিরিজের ভেন্যু এখনও পরিস্কার নয়। পিসিবি টেস্ট সিরিজ পাকিস্তানেই আয়োজন করতে ইচ্ছুক। শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, পাকিস্তানে টেস্ট খেলার ঝুঁকি নিতে রাজি নন লঙ্কান ক্রিকেটাররা। তবে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কাকে দুই ম্যাচের সিরিজে আতিথ্য দেওয়ার সূচি আছে পাকিস্তানের। সিরিজটি হওয়ার কথা অক্টোবরে। তবে তার আগেই সীমিত ওভারের সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা।
২৭ সেপ্টেম্বর থেকে করাচিতে হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর লাহোরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে ৫ অক্টোবর থেকে। এই লাহোরেই ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কা দলের ওপর সন্ত্রাসী হামলায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল পাকিস্তানের। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে ফাফ দু প্লেসির নেতৃত্বে বিশ্ব একাদশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে পাকিস্তানে ফেরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। ২০১৭ সালের অক্টোবরে অবশ্য একবার পাকিস্তানে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেবারের সফরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের একটি ম্যাচ আয়োজন করা হয়েছিল লাহোরে। এবারের সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে থাকছে ছয় ম্যাচ। ২৫ সেপ্টেম্বর করাচিতে পৌঁছানোর কথা শ্রীলঙ্কার, আর লাহোর থেকে দেশে ফিরবে ১০ অক্টোবর। ক্রিকবাজ
চলতি বিশ্বকাপে দল হিসেবে পাকিস্তান প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়ে ভক্তদের জন্য একটি দু:সংবাদ এনে দিয়েছিল। যার রেশ এখনো কাটেনি। তবে সম্প্রতি একটি সুখবরই এখন তাদের কাছে অনেক খুশির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার কারণে ভক্তরা দলের এই হতাশাজনক হারকে নিয়েও তেমন আমলে নিচ্ছেনা। যে খবরটি দেশটির ক্রিকেট প্রেমিদের কাছে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে সেটি হলো, পাকিস্তানে ফিরছে তাদের স্বপ্নের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ফিউচার প্ল্যান ট্যুর (এফটিপি) অনুসারে শ্রীলঙ্কা পাকিস্তান সফরে যাচ্ছে। অবশ্য পাকিস্তান সফরে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য টিম পাঠায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। পাকিস্তান বোর্ডের সঙ্গে শ্রীলঙ্কান বোর্ডের সম্পর্ক সবসমই ভাল। সুতরাং নিরাপত্তায় সন্তুষ্ট থাকলে সেই লঙ্কানরাই আবার পাকিস্তানের মাটিতে ক্রিকেট ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশাবাদী ছিল সবাই। শেষ পর্যন্ত সেটিই হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান ক্রিকেটে উত্থান পতনের ঘটনা ঘঠছে। এর বিশেষ কারণ দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত না হওয়ার কারণে। পাকিস্তান এখন দুবাইতে তাদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে খেলছে। এতে করে দেশটির স্থানীয় ক্রিকেটে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ইমরান খান ক্ষমতায় আসার পর অনেকেই বলেছিলেন, নানা কারণে আলোচনা সমালোচনায় থাকা পাকিস্তান ক্রিকেটে সুদিন আসবে। পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারো অতীতের সেই সোনালী মাহেন্দ্রক্ষণ ফিরে আসবে। ব্যাটিংয়ে পিছিয়ে থেকেও শুধুমাত্র বোলিংয়ে বাজিমাত করা সেই পাকিস্তানকে সবাই দেখতে পাবে। তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়াজনের উদ্যোগ নেবেন। জানা গেছে, সদ্য শেষ হওয়া বিশ্বকাপ ক্রিকেটে তেমন পারফরমেন্স দেখাতে না পারার কারণে দেশটির ক্রিকেটের অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিলেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক এবং বিশ্বকাপ জয়ী দলপতি প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ক্রিকেট জগতের সাবেক তারকা ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব  নেয়ার পরই বলেছেন, অন্যান্য খাতের থেকে ক্রিকেটে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটানো হবে। ইমরান খানের মূল চ্যালেঞ্জ ছিল নিজ দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ফেরানো। ২০০৮ সালে এক সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে দীর্ঘ প্রায় একযুগ ধরে দেশটিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনুপস্থিত। দেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে চেষ্টার ত্রুটি রাখছে না পাকিস্তান। ছোট দলগুলোকে রাজি করিয়ে দুই একটা সিরিজ আয়োজন করেছে তারা। বড় দলের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজও গত এপ্রিলে একটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে। ওই সিরিজের সাফল্যের পর নিউজিল্যান্ডকে রাজি করানোর চেষ্টায় ছিল পাকিস্তান।
১৫ বছর পর প্রথমবারের মতো কিউইদের বিপক্ষে সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনাও ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো ধরণের ঝুঁকি না নেয়ারই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) হতাশ করে তারা জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে সফরে যাওয়া সম্ভব নয়। দেশে ক্রিকেট নির্বাসিত হবার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতকেই হোম ভেন্যু বানিয়ে খেলছে পাকিস্তান।
২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার টিম বাসে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে পাকিস্তানের মাটিতে কোনো টেস্ট খেলুড়ে মেজর দল সফর করেনি। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল। তবে, সেটি পাকিস্তানে অন্য দলগুলোর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মতো অবস্থা  তৈরি করতে পারেনি। তারপরও প্রাণ ফিরে পেয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেটে। তার সাথে দেশটির কোটি কোটি সমর্থক। আবেড়ে আপ্লুত খেলোয়াড়সহ ক্রিকেটের সাথে যুক্ত সাবেক ও বর্তমানরা। কারণ একটাই। দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর পাকিস্তানে ফিরেছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। খেলা দেখতে স্টেডিয়ামে ছিল উপচেপড়া পাকিস্তানীরা। শুধু নিজ দেশকেই নয়, সফরকারী জিম্বাবুয়েকেও অভিনন্দন জানাতে ভুল করেনি তারা। সফরকারীদের লালগালিচা সংবর্ধরা দেয়া হয়েছে দেশটির পক্ষ থেকে। পাকিস্তানীদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ জিম্বাবুয়ের সবাই। নিজেদের ফেসবুক-টুইটারে তারই প্রতিফলন দেখিয়েছেন তারা। অনেকেই লিখেছেন, খেলোয়াড়ি জীবনে এমন আতিথেয়তা তারা কখনোই পাননি। পাকিস্তানীদের আদর-আপ্যায়নে তারা মুগ্ধ। এরপর ২০১৭ সালে ওয়েস্টইন্ডিজ পাকিস্তান সফরে যায়। তাদেরও একইভাবে আদর আপ্যায়ন করা হয়। দীর্ঘ আট বছর পর ঘরের মাটিতে খেলতে গেছে টেস্ট খেলুড়ে কোন দেশ, এই খবরে পাকিস্তান জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। তবে তারা সেখানে কোনো টেস্ট খেলেনি। এবার শ্রীলঙ্কা খেলতে পাকিস্তানে যাবে। দেশে আবারো আন্তর্জাতিক খেলা শুরু হবে এটাই পাকিস্তানীরা চান।
শ্রীলঙ্কা সফরে যাবার খবরের মধ্যে আরেক শিরোনাম হচ্ছে মিসবাহ-উল-হক হচ্ছেন পাকিস্তান জাতীয় দলের কোচ। পিসিবির ক্রিকেট কমিটি থেকে পদত্যাগ করে প্রধান কোচ পদের জন্য এরই মধ্যে আবেদন করেছেন সাবেক এই অধিনায়ক। গত বিশ্বকাপের পর তখনকার কোচ মিকি আর্থারের চুক্তি আর নবায়ন করেনি পিসিবি। নতুন কোচের খোঁজ চলছে এরপর থেকেই। বাংলাদেশের মতো তাদেরও আগ্রহ ছিল মাইক হেসনের দিকে। তবে সাবেক নিউ জিল্যান্ড কোচ সাড়া দেননি সেভাবে। পরে দায়িত্ব নিয়েছেন আইপিএল দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ক্রিকেট পরিচালকের। মিসবাহ কোচ হতে আবেদন করেছেন সোমবার। তবে পরবর্তী কোচ হিসেবে তাকে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে কয়েকদিন আগে থেকেই। বর্তমানে তিনি প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি হিসেবে ২০ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে ১৭ দিনের একটি ট্রেনিং ক্যাম্প পরিচালনা করছেন, যেখানে তার দায়িত্বের কেতাবি নাম পিসিবি দিয়েছে ‘ক্যাম্প কম্যান্ড্যান্ট।’ ধারণা করা হচ্ছে, পরবর্তী কোচ হিসেবে পিসিবির পছন্দের সবুজ সঙ্কেত পেয়েই ক্রিকেট কমিটির দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন মিসবাহ। মিকি আর্থারের চুক্তি নবায়ন না করার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল এই ক্রিকেট কমিটির সুপারিশের। পাকিস্তানের সফলতম টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়েছেন ২০১৭ সালে। তবে পাকিস্তান সুপার লিগে খেলেছেন এই বছরও। ৪৫ বছর বয়সী মিসবাহ কোচিংয়ে আসার লক্ষ্য ঠিক করে আগেই ইসিবির লেভেল টু কোচিং কোর্স করে রেখেছেন। সম্প্রতি করেছেন পিসিবি লেভেল টু কোচিং কোর্সও।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ