ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 August 2019, ১৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

কাবাডি এবং গন্তব্য

মোহাম্মদ সুমন বাকী : গ্রাম বাংলার খেলা কাবাডি। সবুজ ঘাস, কর্দমাক্ত মাঠ, বেলে মাটি, গামছা থেকে ট্রফি পর্যন্ত পুরস্কার এর স্পর্শে অন্যতম উপহার। এক কথায় বলা যায়, তা খুবই চমৎকার। এই ক্রীড়ার ইতিহাসকে আলেকিত করার জন্য যা প্রতিবেদনে তুলে ধরতে হয় বার বার। সেটা নতুন প্রজম্মের কাছে হয়ে উঠবে সাফল্যের হাতিয়ার। এমন ধারায় চারদিকে বয়ে যাবে কাবাডির জোয়ার। এ প্রত্যাশা সবার। তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। যা শতভাগ সত্য কথা। উপরের বাক্যগুলো এই খেলার সোনালী ইতিহাস। সেটা স্মৃতিচারণ করতে হলে মিডিয়ার ভুবনে দৃষ্টি ফেলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। বলেন কি? এমন বিষয়ে কোটি কোটি ক্রীড়া পাগল প্রেমী অভিমত রাখবেন কি? আসলে তা সত্য কথা। কাবাডির প্রচার এবং প্রসারে উল্লেখ করতে হয় যা। ঘাস, কর্দমাক্ত মাঠ, বেলে মাটি সে সব এ খেলার ছায়াতলে স্মৃতির পাতায় ঠাঁই নিয়েছে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ম্যাচগুলোতে চোখ রাখলে এর বাস্তবতার ছবি স্বচ্ছ পানির ন্যায় পরিস্কার হয়ে দেখা দেয়। কারন বর্তমানে খেলা অনুষ্ঠিত হয় ম্যাটে। সেটাও আবার ধারাবাহিকতার সাথে। তা বজায় রয়েছে কয়েক বছর ধরে। এটা হচ্ছে কর্দমাক্ত মাঠ, বেলে মাটি এবং ঘাসের বিকল্প পদ্ধতি। এমন পন্থায় আউট ডোর বাদ (খোলা আকাশের নীচ)। এখানেও বিকল্প ধারার আবির্ভাব। এই অবস্থায় আউটডোর এর পরিবর্তে ইনডোর ইন। অবশ্য তাতে লাভ হয়েছে। এ সত্য কথার পরিপ্রেক্ষিতে কাবাডি বিশ্বায়ন পেয়েছে। ডা উল্লেখ করা প্রয়োজন। জনপ্রিয় ক্রীড়াটির উন্নয়নের স্বার্থে। ঘাস, বেলে মাটি ও কর্দমাক্ত মাঠের যুগে হা ডু ডু, কাবাডি কাবাডি, টিক টিক টিক টিক, কাবাড, কাবাড শব্দের আওয়াজে মাত্র তিন দল এই খেলার আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। সে কথা জানা আছে সকলের।
কাবাডির সোনালী ইতিহেিসর পাতায় সাক্ষী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা তিন দল হলো ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। প্রতিদ্বন্দ্বিতার মোহনীয় আকর্ষণে তাদের অপর সঙ্গী হিসেবে যোগ দেয় শ্রীলংকা। পরবর্তী সময়ে এই চারদল হয় আন্তর্জাতিক কাবাডির অন্যতম ভরসা। বছর পেরিয়ে যুগের পর যুগ বজায় ছিলো এমন ধারা। ভারত চ্যাম্পিয়ন, বাংলাদেশ রানার্স আপ। খেলার টুর্নামেন্ট আয়োজনের অপর নাম মানেই এমন প্রত্যাশিত রেজাল্টের আত্মপ্রকাশ। লড়াইয়ের আমেজে সেটা দেখা গেছে বার বার। এক বাক্যে তা ছিলো খুবই চমৎকার। যা নিয়ে সবাই বইয়ে দিতেন প্রশংসার জোয়ার। তখন মনে হয়েছে সেটা যেন এ ক্রীড়ার রেজাল্টের পারফেক্ট বাহার। অবশ্যই তা দলের শক্তির বিবেচনায়। সোনালী ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলালে অংশগ্রহনকারী টিম গুলোর এমন পারফর্মের ধারা পাওয়া যায়। উপমহাদেশর কাবাডি বিশ্ব দরবারে আলোকিত হবে সেই আলোচনায়। তা নতুন করে না বললে হয়। সেটা স্বর্ণাক্ষরে পাতায় পাতায় আলোকিত স্থান পেয়ে ধরে রেখেছে আসল ভয়। যা কাবাডির একতরফা দাপটে অবাক করা পরিবর্তন ঘটায়। এমন ঘটনা প্রথম ধাপে দুঃখের সাগরে ভাসায়। এরপর কোটি খেলা পাগল ভক্তকে বার বার হাসায়। খুব খুব খুবই জানা দরকার তা কেথায়? এমন দুঃখ ভারাক্রান্ত এবং হাস্যকর ঘটনা লাল-সবুজ পতাকার ছায়াতলে থাকা দলের মাঝে দেখা যায়। এ পরিস্থিতিতে স্থান পরিবর্তন ! যা ঘটে বাংলাদেশের হার !! যা বিশ্লেষণ শেষে অনায়াসে অভিহিত করা যায় এভাবে-বিনা মেঘে বজ্রপাত হবার যোগাড় !!! সেটা ১৯৮৯ সালের কথা। এমন ফলাফলে লাল-সবুজ পতাকা টিমে ভর করে হতাশা। অনেক সাধনার পর বাংলাদেশের কোচ তত্তবধানে থাকা পাকিস্তান প্রথম জয় পায়। তাও আবার শক্তিশালী লাল-সবুজ জার্সীধারীদের বিপক্ষে। রীতিমতো তা ছিলো বিশাল চমক ! সে সময় অনেকটা লজ্জার ভাষায় প্রশ্ন চারদিকে ভেসে উঠে, বাংলাদেশ হতে পাকিস্তান কেন কোচ পাঠানো হলো? সত্যি কথা বলতে কী, নাচতে না জানলে উঠোন বাঁকা ! অপ্রিয় হলেও সত্য কথা !! কাবাডির বেলায় ঘটে এমন দশা !!! কি বলবেন দেশের কোটি কোটি ক্রীড়া পাগল প্রেমীরা? এমন ব্যর্থতা কখনো ভুলা যাবে না। কারণ বাংলাদেশের কাবাডির অধঃপতন শুরু হয় এখান থেকে। অথচ কেউ ভাবেননি যা। বার বার মনে হয়েছে সেটা। এ ক্রীড়ার দাপট ভারতের দখলে। যারা এমন ধারা বজায় রেখে বিশ্বকাপের  সব শিরোপা জিতে নিয়েছে। সে কথা বলাবাহুল্য। তা সকলের বোধগম্য। রানার্সআপ হয় ইরান। একই পারফরম্যান্সের ধারা বজায় রেখে বাংলাদেশ পায় ব্রোঞ্জ। অবশেষে এই স্থানও হাতছাড়া কারে বাংলাদেশ দল! কী অধঃপতন !! যা কী ভাবা যায় !!! সেটা খুবই দুঃখজনক। বেলে মাটি, ঘাস, কর্দমাক্ত মাঠ হচ্ছে কাবাডি খেলার ইতিহাস এবং স্মৃতি। তা আর্ন্তজাতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে। এখন ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয় ম্যাটে, যা বাংলাদেশে চাহিদার তুলনায় অনেক কম। সেটা জানা আছে সবার। কয়টি জেলায় ম্যাট রয়েছে ? তা কি খেলা ভক্তদের চোখে পড়েছে ? এই বিষয়ে কি বলবেন আপনারা ? অথচ কাবাডি লাল-সবুজ পতাকা দেশের জাতীয় খেলা। বিশ্বব্যাপী এর পরিচিতি। অস্ট্রেলিয়া, জাপান, ইটালীর মতো দেশ এ ক্রীড়ায় অংশ নিচ্ছে। যা জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে নিঃসন্দেহে। সেটা সূর্য আলো দেবার ন্যায় সত্য কথা। এমন ধারায় উপমহাদেশের বৃত্তে থাকা কাবাডির মান বেড়েগিয়ে ধাপে ধাপে পেীঁছে যায় ওয়ার্ল্ড স্টেজে। এটা চলতি শতাব্দীর ম্যাটের পারফেক্ট ফসল। তা স্বাদ হতে মহাস্বাদে ঘেরা এখন। বিখ্যাত টিভি চ্যানেল স্টার স্টোর্টস বর্তমান সময়ে এই খেলা প্রচার করে চলেছে অহরহ। যেখানে অনেকদূর পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। কোথাও কোনো প্রকার টুর্নামেন্ট নেই। এর বিপরীত চিত্রে শুধুমাত্র ঢাকায় কাবাডির আয়োজন দেখা যায়। এ বিষয়ে বাকী জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলো নীরবতা পালন করে শো পিছ হয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে লক্ষীপুর এর রায়পুরে ভূইয়ার হাট এলাকায় কাবাডি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেটা দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। ব্যাংকার রুবেল, সিহাব ভূঁইয়ার তত্ত্বাবধানে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে খেলা ঘর সংগঠন। প্রতিভাবান প্লেয়ার পাওয়া যায় সেখানে। তাতে বিন্দু পরিমান লাভ নেই! কারণ তারা লড়াইয়ে নেমেছে ঘাস ঘেরা মাঠে!! ম্যাট কোথায়? এক বাক্যে বলা যায়, তা আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের বিপরীত চিত্র। যা কাবাডির উন্নয়নের পথে অন্যতম অন্তরায়। সেটা শতভাগ সত্য কথা। এ অবস্থায় জনপ্রিয় ক্রীড়াটির উন্নয়ন এবং ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রতিটি জেলায় ম্যাট বসানোর দাবী জানায় খেলাঘর সংগঠন। বর্তমানে কাবাডি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দিনযাপন করে চলেছে। যাা ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বছরের পর বছর। সারা দেশের দৃশ্য অনায়াসে বলে তা। সেটা জাতীয় খেলার ছায়াতলে থাকায় দুঃখজনক বটে। যা কি নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে? না, তা সকলের বোধগম্য। এই হলো দেশ ও বিশ্ব কাবাডির গন্তব্য।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ