ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 August 2019, ১৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

প্রাণে রক্ষা পেল গৃহবধূ ঝর্না

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা: কে কোথায় আছেন আমার মাকে বাঁচান। আমার মাকে মেরে ফেলছে আমার পিতা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছেলে মেয়েদের এমন আর্তনাদের সময় স্থানীয় এলাকাবাসী সহযোগীতায় নেশাগ্রস্ত স্বামীর কবল থেকে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল ২ সন্তানের জননী ঝর্না বেগম (২৮)। গৃহবধূর অভিযোগ নেশা সেবনের টাকা দিতে না পারায় পাষন্ড স্বামী সবুজ মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে তোয়ালে পেঁচিয়ে হত্যার ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। গত শনিবার বিকেল ৪টায় বন্দর থানার শুভকরদীস্থ নামাপাড়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। প্রতিবেশী সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ বছর পূর্বে বন্দর থানার শুভকরদী নামাপাড়া এলাকার মোজাম্মেল মিয়ার ছেলে সবুজ মিয়ার সাথে মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারকান্দী এলাকার শাহাবুদ্দিন বেপারী মেয়ে ঝর্না বেগমের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে সুমাইয়া (১১) নামে একটি কন্যা সন্তান ও আমানতু (৭) নামে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। প্রায় সময় স্বামী সবুজ মিয়া নেশা সেবনের টাকার জন্য তার স্ত্রী ঝর্না বেগমকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছে। এর ধারবাহিকতায় গত শনিবার বিকেল ৪টায় মাদকসেবী স্বামী সবুজ মিয়া তার স্ত্রীর নিকট মাদক ব্যবসা করার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করে। গৃহবধূ টাকা দিতে পারবেনা বলে জানালে ওই সময় মাদকসেবী পাষন্ড স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে  বেদম পিটিয়ে গলায় তোয়ালে পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। ওই সময় এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে দরজা খুলে গৃহবধূকে উদ্ধার করে। এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত  মাদক সেবী স্বামী সবুজ মিয়ার ভয়ে গৃহবধূ ও তার ছেলে মেয়ে গত রোববার বিকেলে পালিয়ে তার পিত্রালয়ে চলে যায় বলে জানা গেছে। 
জননী বীথির পলায়ন
যৌতুক লোভী স্বামীর অত্যাচার থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য ১ সন্তানের জননী বীথি বেগম অজানার উদ্দেশ্যে পালিয়ে গেছে। গত বুধবার সকালে বন্দর থানার মদনগঞ্জ পিএম রোড কাঠপট্টিস্থ তার স্বামী বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় ওই গৃহবধূ। ১ সন্তানের জননী কোন খোঁজ খবর না পেয়ে এ ব্যাপারে তার মা বাদী হয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এ ব্যাপারে নিখোঁজ গৃহবধূর মা বন্দর প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের জানান, গত ৫ বছর পূর্বে আমার মেয়ে বিথী বেগম ভালোবেসে একই থানার মদনগঞ্জ পিএমরোড এলাকার সালাউদ্দিন সরদারে ছেলে রিপনকে বিয়ে করে। বিয়ের পর তাদের সংসারে আলিফ (৪) নামে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। সন্তান জন্ম হওয়ার পর তাদের ভালোবাসা আমরা মেনে নেই। এবং মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে যৌতুক লোভী স্বামীকে নগদ ২ লাখ টাকা ও ঘরের আসবাবপত্র দেই। দিন যতই  যাচ্ছে জামাতা অসৎ লোকজনদের সাথে চলাফেরা কারনে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। প্রায় সময় আমার মেয়ের কাছে নেশা সেবনের টাকা চায়। টাকা না দিলে রিপন আমার মেয়েকে মারধর করত। এর ধারাবাহিকতায় গত বুধবার সকালে রিপন আমার মেয়ের নিকট পুনরায় টাকা দাবি করে। আমার মেয়ে টাকা দিতে পারবে না বলে জানালে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মেয়েকে বেদম মারপিট করে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। আমার মেয়ে মনের ক্ষোভে আমার কাছে না এসে অজানার উদ্দেশে হারিয়ে যায়। আমি তাকে খোজার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছি। এবং এ ব্যাপারে আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ