ঢাকা, বৃহস্পতিবার 29 August 2019, ১৪ ভাদ্র ১৪২৬, ২৭ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

খুলনায় শিক্ষার্থীরা অনৈতিক সম্পর্কে জড়াচ্ছে

খুলনা অফিস : ফেসবুক-ইন্টারনেটে পর্নোছবি, পাশ্চাত্যের অপসংস্কৃতির অনুকরণ ও শিক্ষাঙ্গনে মাদকের ছড়াছড়ির কারণে খুলনায় সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়াচ্ছে শিক্ষার্থীরা। গত দুই সপ্তাহে এ ধরনের কয়েকটি ঘটনায় থানায় মামলা হলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরা। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, ‘সংস্কৃতির ভারসাম্যহীনতা’ এ ধরনের অপরাধের বড় কারণ। সামাজিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, পারিবারিকভাবে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা ও বিদেশি অপসংস্কৃতি চর্চা বন্ধের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। জানা যায়, গত ১৭ আগস্ট খুলনায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এক ছাত্রী (২০)। এজাহারে ওই ছাত্রী নিজেকে অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিঞ্জন রায়কে গ্রেফতার করে। আলাদা ঘটনায় ১৯ জুন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে কোস্ট গার্ডে কর্মরত তানজিল ইসলামের বিরুদ্ধে খুলনা থানায় মামলা করেন। এছাড়া গত ৩ জুলাই খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পাপ্পু কুমার চারুকলা ইনস্টিটিউটের লাইব্রেরিতে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পাপ্পু কুমারকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, খুলনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনৈতিক এসব ঘটনা ক্রমেই বাড়ছে। এসব অপরাধের পেছনে মিশ্র সংস্কৃতির কুপ্রভাব, বিষন্নতা, মাদক ও পারিবারিক নৈতিক শিক্ষার অভাবকে দায়ী করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিকবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. আবদুল জব্বার।  আর সামাজিক এ অবক্ষয়ের পেছনে পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিক শিক্ষার অভাবকে বড় কারণ বলে মনে করেন নর্দান ইউনিভার্সিটি অফ বিজনেস এন্ড টেকনোলজি, খুলনার উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, হঠাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় পরিসরে শিক্ষার্থীরা যখন বিপরীত জেন্ডারের সাথে অবাধে মেলামেশা ও অবস্থান করছে। তখন তাদের মধ্যে সাময়িক ‘রিয়ালিটি শক বা অর্গানাইজেশন বিহ্যাভিহার টার্ম’ শুরু হয়। এর সাথে আধুনিকতার নামে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির পর্নোগ্রাফি একত্রিত হয়ে তারা বিপথগামী হয়ে পড়ে। মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা অপরাধের লাগাম টানতে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন বিশ্লেষকরা। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির বলেন, মাদক নির্মূল ও অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে আবাসিক হোটেল ও সন্দেহজনক স্থানগুলোতে অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে সামাজিক অবক্ষয় ও নৈতিকতা জড়িয়ে আছে। শুধু পুলিশ নয়, পিতা-মাতা অভিভাবকদের এ অপরাধ দমনে সক্রিয় হতে হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ