ঢাকা, শনিবার 31 August 2019, ১৬ ভাদ্র ১৪২৬, ২৯ জিলহজ্ব ১৪৪০ হিজরী
Online Edition

দেশে সর্বপ্রথম গুম-খুনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন জিয়াউর রহমান -শেখ হাসিনা

গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

স্টাফ রিপোর্টার: বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে সর্বপ্রথম গুম-খুনের রাজনীতি শুরু করেছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসময় তিনি বলেন: শুধু আমাদের দলের লোকদের হত্যা করা হয়েছিলো এমন নয়, সেনাবাহিনীর অফিসার যারা একটা সময় জাতির পিতার ডাকে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে যুদ্ধ করেছিলো তাদেরকেও একে একে নির্মমভাবে হত্যা করেছিলো ওই খুনি জিয়াউর রহমান।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৫’র পর ১৯টা শুধু ক্যু-ই হয়েছে। সেনাবাহিনী-বিমানবাহিনীর শত শত অফিসারকে হত্যা করেছিলো। শুধু তাই না, সেনাবাহিনীর হাজার হাজার সৈনিককে হত্যা করা হয়েছিলো। অনেকে হয়তো ছুটিতে থেকে জয়েন করেছে তাদের ধরে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অনেকে হয়তো জানতেও পারেনি তাদের কেন হত্যা করা হচ্ছে, ডিফেন্ড করার সুযোগ দেওয়া হয়নি; গুলী করে হত্যা করেছে-ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, ‘শোনা যেত জিয়ার রহমান নাকি কাটা চামচ দিয়ে খেতে খেতেই মৃত্যুদণ্ডের ফাইলে সই করতেন। ঢাকা কেন্দ্রেীয় কারাগারে ওই সময়ে যারা কয়েদি ছিলো তারা বলতে পারবে এক-এক রাতে ৮ জন ১০ জন করে জোড়ায় জোড়ায় ফাঁসি দিয়েছে। তাদের কান্নায় চিৎকারে আকাশ ভারি হয়ে উঠতো। আর এখন সেই বিএনপি গুম, খুনের কথা বলে!’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।
জিয়াউর রহমান ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলো দাবি করে সরকার প্রধান বলেন: অনেক বিএনপি নেতা বলার চেষ্টা করেন, বিএনপি তো তখন প্রতিষ্ঠাই হয়নি, কী করে বিএনপি খুনি হলো। কিন্তু বিএনপি যার হাতে জন্ম, সেই জিয়াই যখন খুনি এবং শুধু খুনিই নন, তিনিই ইনডেমনিটি জারি করে খুনিদের রক্ষা করেছিলেন এবং বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন।
তিনি যোগ করেন: তাদের চরিত্রগুলোই তো খুনের, যেটা দেখা গেছে ২১ আগস্টে। জিয়ার ক্ষমতা দখলকে উচ্চ আদালতে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তাহলে তো বিএনপির জন্মই অবৈধ হয়ে যায়। যারা খুনিদের পুরস্কৃত করে, তারা খুনিদের দল হবে না কেন? এরা খুনির দল ছাড়া আর কী। তাদের জন্ম হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।
জিয়াউর রহমান খন্দকার মোশতাকের সহযোগী ছিলো দবি করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন: জীবনে কখনো কোনো ভয়ে ভীত হইনি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটা বাস্তবায়ন করাই আমার সব সময়ের লক্ষ্য থেকেছে। আপনার একবার চিন্তা করে দেখেন, আমার বাবা মা ভাই বোনদের হত্যা করা হয়েছে; তাদের কোনো বিচার হয়নি, ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছিল। তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছিল। এটা ঠিক আমার বাবার ক্যাবিনেট মিনিস্টার থেকে অনেকেই এটার সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের সহযোগী ছিল ওই জিয়াউর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন: জিয়া যে তাদের একান্ত সহযোগি এটাতে সন্দেহ থাকার কোনো কথা নেই। কারণ যাকে সবথেকে বিশ্বস্ত মনে করে তাকেই সেনাপ্রধান করা হয়। খন্দকার মোশতাক যখন নিজেকে অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে তখন জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান হিসেবে বেছে নিয়েছিল। জিয়াউর রহমান যদি এই ষড়যন্ত্রের সাথে লিপ্ত না থাকতো তাহলে মোশতাক কখনোই তাকে সেনাপ্রধান করত না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারবালায় যেভাবে নির্মম হত্যাকা- চালানো হয়েছিল। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট যেন কারবালার ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলো ৩২ নম্বরে। আমরা দুইবোন ভাগ্যক্রমে সেদিন বেঁচে যাই।
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘৫ আগস্টে শুধু একটা পরিবারকে হত্যা নয়। এর মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের ইতিহাস মুছে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়। বাংলাদেশ সৃষ্টিতে যার অবদান, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে যত আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর যে অবদান তা মুছে দেওয়া হয়েছিল।
‘তখন একটি মাত্র টেলিভিশন ছিল-বিটিভি। সেই বিটিভিতেও একটি বারের জন্য বঙ্গবন্ধুর নামটি আসেনি। একেবারে ইতিহাস থেকেই মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের পর যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই ১৫ আগস্টের খুনিদের মদদ দিয়েছে। যেভাবে জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে খুনিদের দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিল সেভাবে খালেদা জিয়াও পুনর্বাসন করেছেন। এরশাদও খুনিদের মদদ দিয়েছে পুরস্কৃত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৫ আগস্টের ঘটনা যেন আরেকটি রক্তাক্ত কারবালা।
তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৫ দিন আগেই আমি বিদেশে চলে যাই। আমি কখনই ভাবতে পারিনি, যে মানুষটা তাদের পরিচয় দিয়ে গেল, একটা দেশ দিয়ে গেল, এরকম ভাবে বাংলাদেশের মানুষ এমন একজন মানুষকে হত্যা করলো। সেদিন আমরা দুটি বোন দেশে আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। আমাদের আসতে দেয়া হয়নি, আসতে বাঁধা দেয়া হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু যখন একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটা দেশ গড়ে তুলে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো, তাকেই হত্যা করে যে জাতি ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের জন্য বিশ্বব্যাপী বিজয়ী জাতি হিসাবে সন্মান পেয়েছিল, সেই জাতি একটা খুনি জাতি হিসাবে মানুষের কাছে পরিচিত হলো। 
শেখ হাসিনা ভাষণের শুরুতে ১৫ অগাস্টের নৃশংস হত্যাকা-ের শিকার তার মা-বাবা-ভাই এবং তাদের স্ত্রীসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের স্মরণ করেন। এ সময় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে যান।
তিনি বলেন, জাতির পিতার খুনিদের শাস্তি না দিয়ে জিয়াউর রহমান তখন খুনিদের পুরস্কৃত করেন। ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে খুনিদের শুধু দায়মুক্তিই দেননি উপরন্তু বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন। আপনারা আমার নিজের কথাই চিন্তা করেন, যখন আমি আমার বাবা-মা সবাইকে হারালাম, গুলী করে মারা হল। কই আমি তো বিচার পাইনি। খুনিদের বিচার না করে তাদের ইনডেমনিটি দেয়া হল। অর্থাৎ অপরাধকে প্রশ্রয় দিলেন। উল্টো তাদের পুরস্কৃত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জাতির পিতা একদা বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে আমি মৃত্যুকেও ভয় পাই না। জাতির পিতার অসম্পূর্ণ স্বপ্ন পূরণে আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস অবদি কাজ করে যেতে চাই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ